সঞ্চয়ের লক্ষ্য কীভাবে ঠিক করবেন?
বাড়ি কেনা, সন্তানের পড়াশোনা, বিয়ে বা বিদেশ ভ্রমণ, যে লক্ষ্যই হোক, নির্দিষ্ট টাকা কত সময়ে জমাতে চাই তা ঠিক করলে প্রতি মাসে কত জমাতে হবে তা বের করা যায়। এই টুল সুদ বা রিটার্ন ধরে মাসিক জমার পরিমাণ বের করে। উল্টো দিকে, মাসে যত জমাতে পারবেন সেই অঙ্ক ধরে কত সময়ে লক্ষ্যে পৌঁছাবেন তাও জানা যায়।
হিসাবের সূত্র
- লক্ষ্যের ভবিষ্যৎ মূল্য = আজকের লক্ষ্য × (১ + মূল্যস্ফীতি)বছর।
- এখনকার জমার ভবিষ্যৎ মূল্য = জমা × (১ + r)n, যেখানে r মাসিক হার ও n মোট মাস।
- মাসিক জমা = (লক্ষ্য − এখনকার জমার ভবিষ্যৎ মূল্য) × r ÷ ((১ + r)n − ১)।
- সময় বের করতে প্রতি মাসের জমা ও সুদ যোগ করে লক্ষ্যে পৌঁছানো পর্যন্ত গোনা হয়।
উদাহরণ
৳ ১০,০০,০০০ লক্ষ্য, এখন জমা ৳ ১,০০,০০০, ৫ বছর ও ৭% রিটার্নে মাসিক জমা প্রায় ৳ ১১,৯৮৮। নিজের মোট জমা ৳ ৭,১৯,২৬৫ আর সুদ থেকে আসে ৳ ১,৮০,৭৩৫। লক্ষ্যের দাম বছরে ৫% বাড়লে লক্ষ্য দাঁড়ায় ৳ ১২,৭৬,২৮২ ও মাসিক জমা ৳ ১৫,৮৪৭। উল্টো দিকে মাসে ৳ ১০,০০০ জমালে লক্ষ্যে পৌঁছাতে ৫ বছর ১০ মাস লাগে। হারগুলো শুধু নমুনা।
কীভাবে ব্যবহার করবেন
- কী জানতে চান তা বাছুন: মাসিক জমা না সময়।
- লক্ষ্যের টাকা, এখন কত জমা আছে ও কত বছরে চান তা দিন।
- জমার ওপর কত সুদ বা রিটার্ন পাবেন তা দিন। নিশ্চিত না হলে সতর্ক হার ধরুন।
- লক্ষ্যের জিনিসের দাম বাড়বে ধরলে অ্যাডভান্সড সেটিংসে মূল্যস্ফীতি দিন।
লক্ষ্যে পৌঁছানোর টিপস
- বেতন পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জমার টাকা আলাদা করে ফেলুন, খরচের পরে নয়।
- বোনাস বা বাড়তি আয়ের অংশ লক্ষ্যে যোগ করলে সময় কমে।
- দীর্ঘ মেয়াদে মূল্যস্ফীতি ধরে লক্ষ্য ঠিক করুন, দেখুন মুদ্রাস্ফীতি ক্যালকুলেটর।
- আগে জরুরি তহবিল গড়ুন, দেখুন জরুরি তহবিল ক্যালকুলেটর।
সাধারণ ভুল
- সুদের হার বেশি ধরে লক্ষ্য সহজ দেখানো।
- মূল্যস্ফীতির কারণে লক্ষ্যের টাকা বাড়বে ভুলে যাওয়া।
- জমা মাঝপথে বন্ধ করে দেওয়া। নিয়মিততাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশ ও কলকাতা-পশ্চিমবঙ্গের ব্যবহারকারীদের জন্য
দুই দেশেই এফডি, ডিপিএস বা সঞ্চয়পত্রে নিয়মিত জমার হিসাব এখানে করা যায়। নিজের ব্যাংকের হার বসান। মুদ্রা ঘরে টাকা, রুপি বা ডলার বেছে নিন।
এই টুলের ফলাফল ধারণা পাওয়ার জন্য। বাস্তব হার, কর ও নিয়ম প্রতিষ্ঠানভেদে আলাদা, তাই সিদ্ধান্তের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক, ব্রোকার বা বিশেষজ্ঞের সাথে যাচাই করুন।