মূল্যস্ফীতি কী এবং কেন গুরুত্বপূর্ণ?
মূল্যস্ফীতি মানে সময়ের সঙ্গে জিনিসপত্রের দাম বাড়া। দাম বাড়লে একই টাকায় আগের চেয়ে কম জিনিস কেনা যায়, অর্থাৎ টাকার ক্রয়ক্ষমতা কমে। ব্যাংকে ১ লাখ টাকা রেখে দিলে অঙ্ক একই থাকে, কিন্তু ১০ বছর পরে সেই টাকায় আজকের মতো বাজার করা যায় না। তাই সঞ্চয়, অবসর বা শিক্ষার জন্য লক্ষ্য ঠিক করতে মূল্যস্ফীতি হিসাবে ধরা জরুরি।
হিসাবের সূত্র
ভবিষ্যৎ দাম = আজকের দাম × (১ + মূল্যস্ফীতির হার)বছর। আর ক্রয়ক্ষমতা = আজকের টাকা ÷ (১ + হার)বছর। সঞ্চয়ের প্রকৃত রিটার্ন = (১ + নিট সুদ) ÷ (১ + মূল্যস্ফীতি) − ১, যেখানে নিট সুদ হলো সুদ থেকে উৎসে কর বাদ দেওয়ার পরের হার।
উদাহরণ
বছরে ৮% মূল্যস্ফীতিতে আজকের ৳ ১,০০,০০০ মূল্যের জিনিস ১০ বছর পরে কিনতে লাগবে প্রায় ৳ ২,১৫,৮৯২। একই ৳ ১,০০,০০০ টাকার ক্রয়ক্ষমতা তখন নেমে আসবে প্রায় ৳ ৪৬,৩১৯-এ, অর্থাৎ প্রায় ৫৩.৭% মূল্য হারাবে। হারটি শুধু নমুনা।
কীভাবে ব্যবহার করবেন
- "ভবিষ্যতে কত লাগবে" বা "আগের টাকা আজ কত" থেকে একটি বেছে নিন।
- টাকার পরিমাণ, গড় বার্ষিক মূল্যস্ফীতি ও বছর দিন।
- নিজের সঞ্চয়ের সুদ ও কর জানতে অ্যাডভান্সড সেটিংস খুলুন।
- ডানে ফলাফল, নিচে বছরওয়ারি তালিকা এবং সঞ্চয় মূল্যস্ফীতি হারাতে পারছে কি না দেখুন।
মূল্যস্ফীতির হার কোথায় পাবেন?
বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতির হার সাধারণত বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) নিয়মিত প্রকাশ করে এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনেও পাওয়া যায়। একটি মাসের হার দিয়ে ১০ বছরের হিসাব করলে ভুল হতে পারে, তাই দীর্ঘ সময়ের গড় হার বা সতর্ক অনুমান বসান। বিভিন্ন হার বসিয়ে দেখে নিন ফলাফল কত বদলায়।
মূল্যস্ফীতি থেকে সঞ্চয় বাঁচানোর উপায়
- সঞ্চয়ের সুদের হার মূল্যস্ফীতির চেয়ে বেশি হয় এমন মাধ্যম খুঁজুন এবং ঝুঁকি বুঝে বিনিয়োগ ছড়িয়ে দিন।
- ঋণের হার স্থির আর আয় মূল্যস্ফীতির সঙ্গে বাড়ে এমন ক্ষেত্রে সময়ের সঙ্গে ঋণের বোঝা কমে, তবে সুদের ঝুঁকি মনে রাখুন।
- দীর্ঘ মেয়াদের লক্ষ্য, যেমন সন্তানের শিক্ষা বা অবসর, মূল্যস্ফীতি ধরে ঠিক করুন।
সাধারণ ভুল
- ব্যাংকের সুদ দেখে ভাবা যে টাকা বাড়ছে, অথচ কর ও মূল্যস্ফীতি বাদ দিলে প্রকৃত রিটার্ন ঋণাত্মক হতে পারে।
- অতীতের হার ভবিষ্যতেও একই থাকবে ধরে নেওয়া।
- সব জিনিসের দাম সমান হারে বাড়ে ধরা। বাস্তবে খাবার, বাড়ি ভাড়া, শিক্ষা ও চিকিৎসার দাম আলাদা হারে বাড়ে।
বাংলাদেশ ও কলকাতা-পশ্চিমবঙ্গের ব্যবহারকারীদের জন্য
এই পেজ বাংলাদেশের টাকার জন্য সাজানো। কলকাতা বা পশ্চিমবঙ্গের ব্যবহারকারীরা রুপির জন্য ভারতের মুদ্রাস্ফীতি ক্যালকুলেটর ব্যবহার করতে পারেন, যেখানে ভারতের সুদ ও কর অনুযায়ী ঘর সাজানো আছে। গণিত দুই জায়গাতেই এক।
এই টুলের ফলাফল ধারণা পাওয়ার জন্য। বাস্তব হার, কর ও নিয়ম প্রতিষ্ঠানভেদে আলাদা, তাই সিদ্ধান্তের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক, ব্রোকার বা বিশেষজ্ঞের সাথে যাচাই করুন।