ডিভিডেন্ড ইয়িল্ড কী?
ডিভিডেন্ড ইয়িল্ড দেখায় শেয়ারের বর্তমান দামের তুলনায় কোম্পানি বছরে কত শতাংশ ডিভিডেন্ড দেয়। যেমন ৳ ৮০ দামের শেয়ারে বছরে ৳ ৪ ডিভিডেন্ড হলে ইয়িল্ড ৫%। ব্যাংকের সুদের সঙ্গে ডিভিডেন্ড আয়ের তুলনা করতে এটি কাজে লাগে। তবে ডিভিডেন্ড নিশ্চিত নয়, কোম্পানি তা কমাতে বা বন্ধ করতে পারে, তাই উচ্চ ইয়িল্ড সবসময় ভালো নয়।
হিসাবের সূত্র
- ডিভিডেন্ড ইয়িল্ড = বছরের প্রতি শেয়ারে ডিভিডেন্ড ÷ বর্তমান দাম × ১০০।
- কেনা দামে ইয়িল্ড (yield on cost) = ডিভিডেন্ড ÷ আপনার কেনা দাম × ১০০।
- করের পরে ইয়িল্ড = ইয়িল্ড × (১ − কর ÷ ১০০)।
- কাঙ্ক্ষিত আয়ের জন্য প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ = কাঙ্ক্ষিত আয় ÷ (করের পরের ইয়িল্ড ÷ ১০০)।
উদাহরণ
শেয়ারের দাম ৳ ৮০ ও বছরে ডিভিডেন্ড ৳ ৪ হলে ইয়িল্ড ৫%। ৳ ৬০ দামে কেনা থাকলে কেনা দামে ইয়িল্ড ৬.৬৭%। ১,০০০ শেয়ারে বছরে আয় ৳ ৪,০০০। ১৫% কর ধরলে ইয়িল্ড ৪.২৫% ও আয় ৳ ৩,৪০০ হয়। বছরে ৳ ১,২০,০০০ আয়ের জন্য কর ছাড়া প্রায় ৳ ২৪,০০,০০০ বিনিয়োগ লাগে। হারগুলো শুধু নমুনা।
কীভাবে ব্যবহার করবেন
- বছরে প্রতি শেয়ারে মোট ডিভিডেন্ড ও শেয়ারের বর্তমান দাম দিন।
- নিজের কেনা দাম ও শেয়ারের সংখ্যা দিলে নিজের ইয়িল্ড ও বার্ষিক আয় দেখা যাবে।
- কর থাকলে হার দিন।
- কাঙ্ক্ষিত বার্ষিক আয় দিলে কত বিনিয়োগ লাগবে তাও দেখা যাবে।
উচ্চ ইয়িল্ডের ফাঁদ
- শেয়ারের দাম অনেক পড়ে গেলে ইয়িল্ড বেশি দেখায়, অথচ কোম্পানি সমস্যায় থাকতে পারে।
- কোম্পানির আয়ের চেয়ে বেশি ডিভিডেন্ড দিলে তা টেকসই না-ও হতে পারে। প্রতি শেয়ার ডিভিডেন্ড বের করতে ডিভিডেন্ড পার শেয়ার ক্যালকুলেটর দেখুন।
- শুধু ইয়িল্ড নয়, দামের বৃদ্ধিসহ মোট রিটার্ন দেখুন, দেখুন স্টক রিটার্ন ক্যালকুলেটর।
সাধারণ ভুল
- একবারের ডিভিডেন্ডকে সারা বছর চলবে ধরে নেওয়া, বা একাধিকবার দেওয়া ডিভিডেন্ড যোগ না করা।
- বাজারদরকে মুখ্য মূল্যের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা।
- করের প্রভাব না ধরা।
বাংলাদেশ ও কলকাতা-পশ্চিমবঙ্গের ব্যবহারকারীদের জন্য
বাংলাদেশে ডিভিডেন্ড সাধারণত ফেস ভ্যালুর শতাংশে ঘোষণা হয়, তাই প্রথমে প্রতি শেয়ারে টাকা বের করে নিন। যেমন ফেস ভ্যালু ৳ ১০ ও ২০% ডিভিডেন্ডে প্রতি শেয়ারে ৳ ২। ভারতে সাধারণত প্রতি শেয়ারে ₹ হিসেবেই ঘোষণা হয়। ডিভিডেন্ডের কর নিয়ম দেশভেদে আলাদা, তাই কর ঘরে নিজের দেশের প্রযোজ্য হার দিন বা ০ রাখুন।
এই টুলের ফলাফল ধারণা পাওয়ার জন্য, বিনিয়োগ পরামর্শ নয়। শেয়ার ও বিনিয়োগে ঝুঁকি আছে এবং বাস্তব হার, চার্জ ও নিয়ম প্রতিষ্ঠানভেদে আলাদা। সিদ্ধান্তের আগে সংশ্লিষ্ট ব্রোকার বা বিশেষজ্ঞের সাথে যাচাই করুন।