শেয়ারের মোট রিটার্ন কীভাবে বোঝা যায়?
শেয়ারে লাভ আসে দুই পথে: দাম বাড়া এবং ডিভিডেন্ড পাওয়া। শুধু দামের বৃদ্ধি দেখলে মোট রিটার্ন কম দেখায়, কারণ ডিভিডেন্ডও আপনার হাতে এসেছে। আর মোট রিটার্ন কত সময়ে এল তা না জানলে সেটিকে অন্য বিনিয়োগের সঙ্গে তুলনাও করা যায় না। তাই এই ক্যালকুলেটর দামের রিটার্ন, ডিভিডেন্ডের রিটার্ন ও মোট রিটার্ন আলাদা দেখায় এবং সময় ধরে বার্ষিক চক্রবৃদ্ধি হার (CAGR) বের করে।
হিসাবের সূত্র
- দামের রিটার্ন = (বর্তমান দাম − কেনা দাম) ÷ কেনা দাম।
- ডিভিডেন্ডের রিটার্ন = মোট ডিভিডেন্ড ÷ কেনা দাম।
- মোট রিটার্ন = (বর্তমান দাম + ডিভিডেন্ড − কেনা দাম) ÷ কেনা দাম, চার্জ থাকলে তা ধরে।
- CAGR = (১ + মোট রিটার্ন)১ ÷ বছর − ১।
উদাহরণ
৳ ১০০ দামে কেনা শেয়ার ৩ বছর পরে ৳ ১৫০ হলে এবং এই সময়ে প্রতি শেয়ারে মোট ৳ ১২ ডিভিডেন্ড পেলে দামের রিটার্ন ৫০%, ডিভিডেন্ডের ১২% ও মোট ৬২%। CAGR ১৭.৪৫%। ৫০০ শেয়ারে মোট লাভ ৳ ৩১,০০০। একই ৬২% রিটার্ন ১০ বছরে এলে বার্ষিক হার মাত্র ৪.৯৪%। দাম ৳ ৬০-এ নামলে মোট রিটার্ন −২৮%। সংখ্যাগুলো শুধু নমুনা।
কীভাবে ব্যবহার করবেন
- কেনা দাম, শেয়ারের সংখ্যা ও বর্তমান বা বিক্রির দাম দিন।
- ধরে রাখার সময়ে প্রতি শেয়ারে মোট যত ডিভিডেন্ড পেয়েছেন তা দিন।
- কত বছর ধরে রেখেছেন লিখুন।
- ব্রোকারেজ ধরতে চাইলে অ্যাডভান্সড সেটিংসে দিন।
CAGR কেন দরকার?
৫০% রিটার্ন ১ বছরে এলে চমৎকার, কিন্তু ১০ বছরে এলে বার্ষিক মাত্র প্রায় ৪.১%। CAGR এই সময়ের পার্থক্য সরিয়ে বছর প্রতি গড় চক্রবৃদ্ধি হার দেয়, ফলে শেয়ারের রিটার্নকে এফডি বা অন্য বিনিয়োগের সঙ্গে তুলনা করা যায়। নিচের তালিকায় একই মোট রিটার্ন বিভিন্ন সময়ে এলে বার্ষিক হার কেমন হতো তা দেখুন। ট্রেডের নিট লাভ ও কর বিস্তারিত দেখতে স্টক প্রফিট ক্যালকুলেটর আছে।
সাধারণ ভুল
- ডিভিডেন্ড বাদ দিয়ে শুধু দামের রিটার্ন দেখা।
- ধরে রাখার সময় না ধরে মোট রিটার্নকে বার্ষিক হার ভাবা।
- মূল্যস্ফীতি ধরে আসল ক্রয়ক্ষমতার বৃদ্ধি না দেখা।
বাংলাদেশ ও কলকাতা-পশ্চিমবঙ্গের ব্যবহারকারীদের জন্য
ঢাকা বা ভারতের এক্সচেঞ্জ, সব জায়গায় একই গণিত। মুদ্রা ঘরে টাকা, রুপি বা ডলার বেছে নিন। বোনাস শেয়ার বা রাইট শেয়ার থাকলে সেগুলো আলাদা করে দামে ও সংখ্যায় সমন্বয় করে নিন।
এই টুলের ফলাফল ধারণা পাওয়ার জন্য, বিনিয়োগ পরামর্শ নয়। শেয়ার ও বিনিয়োগে ঝুঁকি আছে এবং বাস্তব হার, চার্জ ও নিয়ম প্রতিষ্ঠানভেদে আলাদা। সিদ্ধান্তের আগে সংশ্লিষ্ট ব্রোকার বা বিশেষজ্ঞের সাথে যাচাই করুন।