পোর্টফোলিও রিব্যালেন্সিং কী?
সময়ের সঙ্গে যে খাতের দাম বেশি বাড়ে, পোর্টফোলিওতে তার ভাগ নিজে থেকেই বেড়ে যায়। যেমন শেয়ারের দাম বাড়লে ৫০% লক্ষ্যের শেয়ার ৬০% হয়ে যায় এবং আপনি না চাইলেও বেশি ঝুঁকিতে পড়ে যান। রিব্যালেন্সিং মানে খাতগুলোকে আবার আপনার ঠিক করা লক্ষ্য ভাগে ফিরিয়ে আনা। এতে ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং দাম বাড়া খাত থেকে কিছু মুনাফা তুলে পিছিয়ে থাকা খাতে লাগানোর শৃঙ্খলা তৈরি হয়।
দুই পদ্ধতি
- পুরো রিব্যালেন্স: বেশি ভাগের খাত থেকে বিক্রি করে কম ভাগের খাতে কেনা হয়। দ্রুত লক্ষ্যে ফেরা যায়, কিন্তু বিক্রিতে কর ও ব্রোকারেজ লাগতে পারে।
- শুধু নতুন টাকায়: কিছু বেচতে হয় না। নতুন টাকা শুধু পিছিয়ে থাকা খাতে ঢালা হয়। কর ও চার্জ বাঁচে, তবে লক্ষ্যে ফিরতে সময় লাগে এবং যথেষ্ট নতুন টাকা না থাকলে পুরোপুরি পৌঁছানো যায় না।
হিসাবের সূত্র
- মোট মূল্য = সব খাতের বর্তমান মূল্য + নতুন টাকা।
- লক্ষ্য মূল্য = মোট মূল্য × লক্ষ্য ভাগ ÷ ১০০।
- করণীয় = লক্ষ্য মূল্য − বর্তমান মূল্য। ধনাত্মক হলে কিনুন, ঋণাত্মক হলে বেচুন।
উদাহরণ
৫ খাতের মোট ৳ ১০,০০,০০০ পোর্টফোলিওতে শেয়ার ৪০% আর লক্ষ্য ৫০% হলে শেয়ারে ৳ ১,০০,০০০ কিনতে হবে। সোনা ১৫% (লক্ষ্য ১০%) ও অন্যান্য ১০% (লক্ষ্য ৫%) থেকে ৳ ৫০,০০০ করে বেচে সেই টাকা জোগানো যায়। বিক্রি না করে শুধু ৳ ২,০০,০০০ নতুন টাকায় করলে শেয়ারে ৳ ১,৪৮,১৪৮, বন্ডে ৳ ৩৭,০৩৭ ও এফডিআরে ৳ ১৪,৮১৫ যায়, তবে শেয়ারের ভাগ ৪৫.৭% পর্যন্ত পৌঁছায়, পুরো ৫০% নয়।
কীভাবে ব্যবহার করবেন
- প্রতিটি খাতের বর্তমান মূল্য ও আপনার লক্ষ্য ভাগ লিখুন। লক্ষ্য ভাগের যোগফল ১০০ হওয়া উচিত।
- পদ্ধতি বাছুন। নতুন টাকা থাকলে অ্যাডভান্সড সেটিংসে দিন।
- চাইলে বিচ্যুতির সীমা বদলান। সীমা ছাড়ালে টুল রিব্যালেন্সের কথা মনে করিয়ে দেবে।
- নিচে কোন খাতে কত কিনবেন বা বেচবেন এবং পরে ভাগ কেমন হবে দেখুন।
কখন রিব্যালেন্স করবেন?
- নির্দিষ্ট সময় পরপর, যেমন বছরে একবার বা দুইবার।
- কোনো খাত লক্ষ্য ভাগ থেকে নির্দিষ্ট শতাংশ পয়েন্ট সরে গেলে। অনেকে ৫ পয়েন্ট ধরেন।
- জীবনের বড় পরিবর্তনে, যেমন চাকরি বদল বা অবসর, লক্ষ্য ভাগই নতুন করে ভাবুন।
খেয়াল রাখুন
- বিক্রিতে ব্রোকারেজ ও মূলধনী লাভ কর লাগতে পারে। নিজের দেশের নিয়ম জানুন।
- এফডি বা জমির মতো খাতে ইচ্ছেমতো কেনাবেচা সম্ভব নাও হতে পারে।
- বারবার সামান্য বিচ্যুতিতে রিব্যালেন্স করলে চার্জ বেড়ে যায়।
সাধারণ ভুল
- লক্ষ্য ভাগ ঠিক না করেই রিব্যালেন্স করতে যাওয়া। আগে পোর্টফোলিও অ্যালোকেশন ক্যালকুলেটরে লক্ষ্য ঠিক করুন।
- করের কথা না ভেবে বড় অঙ্ক বিক্রি করা।
- লক্ষ্য ভাগের যোগফল ১০০ না মেলানো।
বাংলাদেশ ও কলকাতা-পশ্চিমবঙ্গের ব্যবহারকারীদের জন্য
বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গ দুই জায়গাতেই শেয়ার, সঞ্চয়পত্র বা এফডি, সোনা ও জমি অনেকের পোর্টফোলিওর অংশ। নিজের খাতগুলোর বর্তমান বাজারমূল্য বসান এবং মুদ্রা ঘরে টাকা, রুপি বা ডলার বেছে নিন।
এই টুলের ফলাফল ধারণা পাওয়ার জন্য, বিনিয়োগ পরামর্শ নয়। শেয়ার ও বিনিয়োগে ঝুঁকি আছে এবং বাস্তব হার, চার্জ ও নিয়ম প্রতিষ্ঠানভেদে আলাদা। সিদ্ধান্তের আগে সংশ্লিষ্ট ব্রোকার বা বিশেষজ্ঞের সাথে যাচাই করুন।