অ্যাসেট অ্যালোকেশন কী?
অ্যাসেট অ্যালোকেশন মানে আপনার বিনিয়োগযোগ্য টাকা শেয়ার, বন্ড, সোনা, এফডি, জমি ইত্যাদি খাতে কত ভাগ করে রাখবেন তার পরিকল্পনা। গবেষণা ও বিনিয়োগকারীদের অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, কোন শেয়ার বা কোন বন্ডে টাকা লাগালেন তার চেয়ে খাতগুলোর ভাগ আপনার দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি ও রিটার্নের ওপর বেশি প্রভাব ফেলে। সব টাকা একটি খাতে না রেখে ছড়িয়ে রাখলে এক খাতের খারাপ সময়ে মোট ক্ষতি কম হয়।
হিসাবের সূত্র
- খাতের টাকা = মোট টাকা × খাতের শতাংশ ÷ ১০০।
- খাতের অনুমিত বার্ষিক আয় = খাতের টাকা × সেই খাতের অনুমিত রিটার্ন ÷ ১০০।
- পোর্টফোলিওর রিটার্ন = সব খাতের আয়ের যোগফল ÷ মোট টাকা।
রিটার্নের হারগুলো শুধু নমুনা অনুমান। বাস্তবে রিটার্ন বছরভেদে বদলায়, ঋণাত্মকও হতে পারে। অ্যাডভান্সড সেটিংসে নিজের অনুমান দিন।
উদাহরণ
৳ ১০,০০,০০০ মাঝারি ঝুঁকির ছকে (শেয়ার ৪৫%, বন্ড ২৫%, সোনা ১০%, এফডিআর ১৫%, অন্যান্য ৫%) ও নমুনা রিটার্নে (১২%, ৮%, ৬%, ৬%, ৭%) বার্ষিক অনুমিত আয় প্রায় ৳ ৯২,৫০০, অর্থাৎ ৯.২৫%। বেশি ঝুঁকির ছকে (শেয়ার ৭০%) একই অনুমানে ১০.৪৫% আসে, কিন্তু ঝুঁকিও অনেক বেশি। রিটার্নগুলো শুধু অনুমান।
কীভাবে ব্যবহার করবেন
- মোট বিনিয়োগযোগ্য টাকা দিন।
- কম, মাঝারি বা বেশি ঝুঁকির একটি ছক বাছুন, অথবা নিজে শতাংশ বসান। শতাংশের যোগফল ১০০ হওয়া উচিত।
- প্রতিটি খাতের রিটার্নের অনুমান অ্যাডভান্সড সেটিংসে ঠিক করুন।
- ডানে অনুমিত আয় ও নিচে খাতওয়ারি বরাদ্দ দেখুন।
বরাদ্দ ঠিক করার সময় ভাবুন
- সময়সীমা: লক্ষ্য কাছে হলে নিরাপদ খাত বেশি, দূরে হলে শেয়ারের ভাগ বেশি রাখা যায়।
- ঝুঁকি-সহ্যক্ষমতা: বাজার পড়লে ঘুমাতে পারবেন কি না নিজেকে জিজ্ঞেস করুন।
- জরুরি তহবিল: আগে ৩ থেকে ৬ মাসের খরচ আলাদা রাখুন, তারপর বিনিয়োগ।
- একটি প্রচলিত সরল নিয়ম হলো শেয়ারের ভাগ প্রায় ১০০ থেকে বয়স বাদ। এটি শুধু একটি ধারণা, আপনার অবস্থা অনুযায়ী বদলাতে হবে।
বছর বছর রিব্যালেন্স
সময়ের সঙ্গে শেয়ারের দাম বাড়লে পোর্টফোলিওতে শেয়ারের ভাগ নিজে থেকে বেড়ে যায় এবং ঝুঁকিও বাড়ে। তাই বছরে একবার বা দুইবার লক্ষ্য ভাগে ফিরিয়ে আনা ভালো। এর জন্য পোর্টফোলিও রিব্যালেন্সিং ক্যালকুলেটর আছে।
সাধারণ ভুল
- শেয়ারের অতীতের উঁচু রিটার্ন ভবিষ্যতেও পাবেন ধরে নেওয়া।
- শতাংশের যোগফল ১০০ না মেলানো।
- একই খাতের ভেতরেও বৈচিত্র্য না রাখা, যেমন সব টাকা একটি কোম্পানির শেয়ারে।
বাংলাদেশ ও কলকাতা-পশ্চিমবঙ্গের ব্যবহারকারীদের জন্য
বাংলাদেশে সঞ্চয়পত্র, এফডিআর ও ডিএসই শেয়ার এবং পশ্চিমবঙ্গে এফডি, পিপিএফ ও সোনা অনেকের বিনিয়োগের প্রধান খাত। এখানে খাতের নাম সাধারণ রাখা হয়েছে, আপনি নিজের দেশের প্রচলিত বিকল্প মনে রেখে শতাংশ বসান। মুদ্রা ঘরে টাকা, রুপি বা ডলার বেছে নিন।
এই টুলের ফলাফল ধারণা পাওয়ার জন্য, বিনিয়োগ পরামর্শ নয়। শেয়ার ও বিনিয়োগে ঝুঁকি আছে এবং বাস্তব হার, চার্জ ও নিয়ম প্রতিষ্ঠানভেদে আলাদা। সিদ্ধান্তের আগে সংশ্লিষ্ট ব্রোকার বা বিশেষজ্ঞের সাথে যাচাই করুন।