এনইউ ডিগ্রি পাস সিজিপিএ ক্যালকুলেটর (BA, BSc, BSS)

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি (পাস) কোর্সের (BA, BSc, BSS) তিন বর্ষের ফল একসাথে হিসাব করে মোট সিজিপিএ জেনে নিন।

তথ্য দিন

প্রতিটি সম্পূর্ণ বর্ষের (বা সেমিস্টারের) GPA ও ক্রেডিট দিন। ভবিষ্যৎ বা অসম্পূর্ণ বর্ষের ঘর ফাঁকা রাখুন।

আপনার ডিগ্রি (পাস) সিজিপিএ (৪.০০ স্কেলে)
০.০০
গণনায় ধরা বর্ষ
মোট ক্রেডিট
মোট গ্রেড পয়েন্ট
সিজিপিএ গ্রেড

বর্ষ/কোর্সওয়ারি হিসাব

বর্ষ / কোর্সGPA / গ্রেডক্রেডিটGPA × ক্রেডিট

এনইউ ডিগ্রি (পাস) সিজিপিএ কী ও কীভাবে হিসাব হয়

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি (পাস) কোর্স তিন বছরের, যেখানে বিএ, বিএসসি, বিএসএসসহ বিভিন্ন বিভাগে শিক্ষার্থীরা পড়েন। প্রতি বর্ষে বা সেমিস্টারে আলাদা GPA থাকে এবং সব বর্ষ মিলিয়ে চূড়ান্ত সিজিপিএ (Cumulative Grade Point Average) ঠিক হয়। ফল ৪.০০ স্কেলে প্রকাশ হয়। প্রতিটি বর্ষ বা কোর্সের প্রভাব ঠিক হয় তার ক্রেডিট দিয়ে, তাই সিজিপিএ হলো ক্রেডিটভিত্তিক ভারযুক্ত গড়। এই ক্যালকুলেটরে দুইভাবে হিসাব করা যায়: তিন বর্ষের GPA ও ক্রেডিট দিয়ে, অথবা প্রতিটি কোর্সের গ্রেড ও ক্রেডিট দিয়ে।

সিজিপিএ-র সূত্র

সিজিপিএ = (GPA₁ × ক্রেডিট₁ + GPA₂ × ক্রেডিট₂ + GPA₃ × ক্রেডিট₃) ÷ মোট ক্রেডিট

যে বর্ষে ক্রেডিট বেশি, সিজিপিএ-তে তার প্রভাবও বেশি। তাই শুধু তিনটি GPA-র সাধারণ গড় নিলে ক্রেডিট আলাদা হলে ভুল ফল আসতে পারে।

গ্রেড সারণি (৪.০০ স্কেল)

নম্বরলেটার গ্রেডগ্রেড পয়েন্ট
৮০–১০০A+৪.০০
৭৫–৭৯A৩.৭৫
৭০–৭৪A-৩.৫০
৬৫–৬৯B+৩.২৫
৬০–৬৪B৩.০০
৫৫–৫৯B-২.৭৫
৫০–৫৪C+২.৫০
৪৫–৪৯C২.২৫
৪০–৪৪D২.০০
০–৩৯F০.০০

সিজিপিএ-ও একই স্কেলে লেটার গ্রেডে ধরা যায়। যেমন ৪.০০ হলে A+, ৩.৭৫ থেকে ৩.৯৯ হলে A, ৩.৫০ থেকে ৩.৭৪ হলে A-, এভাবে নিচের দিকে।

ডিগ্রি (পাস) ও অনার্সের পার্থক্য

ডিগ্রি (পাস) তিন বছরের, অনার্স চার বছরের। দুই ক্ষেত্রেই সিজিপিএ-র হিসাবের পদ্ধতি একই, শুধু বর্ষসংখ্যা ও ক্রেডিট আলাদা হতে পারে। তাই এই টুলে তিনটি বর্ষের ঘর রাখা হয়েছে।

উদাহরণসহ হিসাব

উদাহরণ ১: তিন বর্ষ, সমান ক্রেডিট

তিন বর্ষে GPA যথাক্রমে ৩.৪০, ৩.৫০, ৩.৬০ এবং প্রতি বর্ষে ৩০ ক্রেডিট হলে মোট গ্রেড পয়েন্ট ৩.৪০ × ৩০ + ৩.৫০ × ৩০ + ৩.৬০ × ৩০ = ৩১৫.০০ এবং মোট ক্রেডিট ৯০। সিজিপিএ = ৩১৫.০০ ÷ ৯০ = ৩.৫০।

উদাহরণ ২: ক্রেডিট আলাদা হলে

GPA ৩.২০ (৩০ ক্রেডিট), ৩.৫০ (৩২ ক্রেডিট) ও ৩.৮০ (৩৪ ক্রেডিট) হলে মোট গ্রেড পয়েন্ট ৯৬.০০ + ১১২.০০ + ১২৯.২০ = ৩৩৭.২০ এবং মোট ক্রেডিট ৯৬। সিজিপিএ = ৩৩৭.২০ ÷ ৯৬ = ৩.৫১। সাধারণ গড় নিলে ৩.৫০ হতো।

উদাহরণ ৩: দুই বর্ষ শেষে চলমান সিজিপিএ

প্রথম দুই বর্ষে GPA ৩.৪০ ও ৩.৫০ এবং প্রতি বর্ষে ৩০ ক্রেডিট হলে চলমান সিজিপিএ = ২০৭.০০ ÷ ৬০ = ৩.৪৫। তৃতীয় বর্ষের ফল এলে চূড়ান্ত সিজিপিএ বদলে যাবে।

উদাহরণ ৪: কোর্সভিত্তিক হিসাব

পাঁচটি কোর্সে গ্রেড A, A-, A+, B+, B এবং প্রতিটি ৪ ক্রেডিট হলে পয়েন্ট ৩.৭৫, ৩.৫০, ৪.০০, ৩.২৫, ৩.০০। মোট গ্রেড পয়েন্ট (১৭.৫০ × ৪) = ৭০.০০ এবং মোট ক্রেডিট ২০। সিজিপিএ = ৭০.০০ ÷ ২০ = ৩.৫০।

কীভাবে ব্যবহার করবেন

  1. উপরে বর্ষ/সেমিস্টারভিত্তিক বা কোর্সভিত্তিক ট্যাব বেছে নিন।
  2. বর্ষভিত্তিক হলে প্রতিটি সম্পূর্ণ বর্ষের GPA ও ক্রেডিট লিখুন। ফল না আসা বর্ষের ঘর ফাঁকা রাখুন।
  3. কোর্সভিত্তিক হলে প্রতিটি কোর্সের গ্রেড বেছে ক্রেডিট দিন।
  4. ডানে সিজিপিএ ও গ্রেড এবং নিচে বর্ষ/কোর্সওয়ারি হিসাব নিজে থেকেই দেখা যাবে।

সিজিপিএ ভালো রাখার কৌশল

মাস্টার্স, চাকরি ও উচ্চশিক্ষায় সিজিপিএ

মাস্টার্সে ভর্তি, সরকারি ও বেসরকারি চাকরি এবং উচ্চশিক্ষার আবেদনে সাধারণত ডিগ্রির সিজিপিএ ও বিভাগ দেখা হয়। শর্ত প্রতিষ্ঠান ও সময়ভেদে বদলায়, তাই আবেদনের আগে বিজ্ঞপ্তি মিলিয়ে নিন।

মাস্টার্সের সিজিপিএ জানতে মাস্টার্স সিজিপিএ ক্যালকুলেটর এবং অনার্সের জন্য অনার্স সিজিপিএ ক্যালকুলেটর দেখতে পারেন।

সাধারণ ভুল

বাংলাদেশ ও কলকাতা-পশ্চিমবঙ্গের ব্যবহারকারীদের জন্য

এই ক্যালকুলেটর বাংলাদেশের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪.০০ স্কেল অনুযায়ী তৈরি। কলকাতা বা পশ্চিমবঙ্গের বিশ্ববিদ্যালয়ে সাধারণত ভিন্ন স্কেল (যেমন ১০ পয়েন্ট বা শতাংশ) চলে, তাই ফল সরাসরি মেলে না। আনুমানিক তুলনার জন্য কোর্সভিত্তিক ট্যাবে নম্বর অনুযায়ী গ্রেড বেছে নিতে পারেন।

এই টুলের ফলাফল ধারণা পাওয়ার জন্য। গ্রেড-সীমা, ক্রেডিট ও নিয়ম বিশ্ববিদ্যালয় ও সালভেদে বদলাতে পারে, তাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে নিজের মার্কশিট ও সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি মিলিয়ে নিন।

সচরাচর জিজ্ঞাসা

এনইউ ডিগ্রি পাস সিজিপিএ কীভাবে হিসাব করা হয়?
প্রতিটি বর্ষ বা কোর্সের GPA-কে তার ক্রেডিট দিয়ে গুণ করে যোগ করুন, তারপর মোট ক্রেডিট দিয়ে ভাগ করুন। এটি ক্রেডিটভিত্তিক ভারযুক্ত গড়। সূত্র: সিজিপিএ = Σ(GPA × ক্রেডিট) ÷ Σ ক্রেডিট।
তিন বর্ষের GPA থেকে সিজিপিএ কীভাবে বের করব?
“বর্ষ/সেমিস্টারভিত্তিক GPA” ট্যাবে তিন বর্ষের GPA ও ক্রেডিট দিন। যে বর্ষের ফল এখনো আসেনি তার ঘর ফাঁকা রাখুন। টুল শুধু পূরণ করা ঘর গণনা করবে।
ক্রেডিট কত দেব?
ক্রেডিট আপনার মার্কশিট বা বিভাগের সিলেবাস অনুযায়ী দিন। এই টুলে বর্ষের ডিফল্ট ৩০ ও কোর্সের ডিফল্ট ৪ রাখা আছে, যা বদলানো যায়। বর্ষভেদে ক্রেডিট আলাদা হলে তা ঠিকভাবে বসান, নইলে সিজিপিএ ভুল আসবে।
দুই বর্ষ পর্যন্ত চলমান সিজিপিএ কীভাবে জানব?
তৃতীয় বর্ষের ঘর ফাঁকা রেখে প্রথম দুই বর্ষের GPA ও ক্রেডিট দিন। তখন দুই বর্ষের ভারযুক্ত গড় দেখাবে, যা চূড়ান্ত সিজিপিএ নয়।
কোর্সভিত্তিক গ্রেড থেকে কীভাবে হিসাব করব?
“কোর্সভিত্তিক গ্রেড” ট্যাবে প্রতিটি কোর্সের গ্রেড ও ক্রেডিট দিন। টুল প্রতিটি গ্রেডকে ৪.০০ স্কেলের পয়েন্টে নিয়ে ক্রেডিট দিয়ে গুণ করে মোট ক্রেডিট দিয়ে ভাগ করে। কোর্স বেশি হলে বর্ষভিত্তিক ট্যাব ব্যবহার করুন।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রেডিং স্কেল কী?
৮০–১০০ নম্বরে A+ (৪.০০), ৭৫–৭৯-এ A (৩.৭৫), ৭০–৭৪-এ A- (৩.৫০), ৬৫–৬৯-এ B+ (৩.২৫), ৬০–৬৪-এ B (৩.০০), ৫৫–৫৯-এ B- (২.৭৫), ৫০–৫৪-এ C+ (২.৫০), ৪৫–৪৯-এ C (২.২৫), ৪০–৪৪-এ D (২.০০) এবং ৪০-এর নিচে F (০.০০)।
কোনো কোর্সে F থাকলে কী হবে?
F মানে কোর্সটি পাস হয়নি। টুল তখন সতর্কবার্তা দেখায় এবং ০.০০ পয়েন্ট ধরে হিসাব করে। চূড়ান্ত ফল পুনঃপরীক্ষার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী ঠিক হবে।
তিন বর্ষের GPA-র সাধারণ গড় আর সিজিপিএ কি একই?
ক্রেডিট সমান হলে একই। ক্রেডিট আলাদা হলে ভারযুক্ত গড়ের ফল সাধারণ গড় থেকে আলাদা হতে পারে, তাই ক্রেডিটসহ হিসাব করাই সঠিক।
BA, BSc, BSS ও অন্য ডিগ্রি পাস কোর্সে কি একই টুল চলবে?
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি (পাস) কোর্সে একই ৪.০০ গ্রেডিং স্কেল ধরে হিসাব করা হয়, তাই বর্ষ ও ক্রেডিট ঠিক দিলে সব বিভাগের জন্য হিসাব মিলবে। তবে ক্রেডিট বিভাগভেদে আলাদা হতে পারে।
এই টুলের ফল কি অফিসিয়াল?
না, এটি ধারণা পাওয়ার জন্য। চূড়ান্ত ও অফিসিয়াল সিজিপিএ আপনার মার্কশিট ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলাফলে দেখুন। টুলটি সম্পূর্ণ ফ্রি।