মাস্টার্স সিজিপিএ কী ও কীভাবে হিসাব হয়
সিজিপিএ (Cumulative Grade Point Average) হলো পুরো প্রোগ্রামের সব বর্ষ বা কোর্সের গ্রেড পয়েন্টের ক্রেডিটভিত্তিক ভারযুক্ত গড়। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্স (MA, MSS, MBA, MSc ইত্যাদি) প্রোগ্রামে ফল ৪.০০ স্কেলে প্রকাশ হয়। এই ক্যালকুলেটরে আপনি দুইভাবে হিসাব করতে পারেন: বর্ষ বা সেমিস্টারের GPA ও ক্রেডিট দিয়ে, অথবা প্রতিটি কোর্সের গ্রেড ও ক্রেডিট দিয়ে।
সিজিপিএ-র সূত্র
সিজিপিএ = (GPA₁ × ক্রেডিট₁ + GPA₂ × ক্রেডিট₂ + …) ÷ মোট ক্রেডিট
যে বর্ষে বা কোর্সে ক্রেডিট বেশি, ফলে তার প্রভাবও বেশি পড়ে। তাই শুধু GPA-গুলোর সাধারণ গড় নিলে ক্রেডিট আলাদা হলে ভুল ফল আসতে পারে।
গ্রেড সারণি (৪.০০ স্কেল)
| নম্বর | লেটার গ্রেড | গ্রেড পয়েন্ট |
|---|---|---|
| ৮০–১০০ | A+ | ৪.০০ |
| ৭৫–৭৯ | A | ৩.৭৫ |
| ৭০–৭৪ | A- | ৩.৫০ |
| ৬৫–৬৯ | B+ | ৩.২৫ |
| ৬০–৬৪ | B | ৩.০০ |
| ৫৫–৫৯ | B- | ২.৭৫ |
| ৫০–৫৪ | C+ | ২.৫০ |
| ৪৫–৪৯ | C | ২.২৫ |
| ৪০–৪৪ | D | ২.০০ |
| ০–৩৯ | F | ০.০০ |
সিজিপিএ-ও একই স্কেলে লেটার গ্রেডে ধরা যায়। যেমন ৪.০০ হলে A+, ৩.৭৫ থেকে ৩.৯৯ হলে A, ৩.৫০ থেকে ৩.৭৪ হলে A-, এভাবে নিচের দিকে।
উদাহরণসহ হিসাব
উদাহরণ ১: দুই বর্ষের GPA, সমান ক্রেডিট
১ম বর্ষে GPA ৩.৫০ (৩০ ক্রেডিট) ও ২য় বর্ষে GPA ৩.৭০ (৩০ ক্রেডিট) হলে মোট গ্রেড পয়েন্ট ৩.৫০ × ৩০ + ৩.৭০ × ৩০ = ২১৬.০০ এবং মোট ক্রেডিট ৬০। সিজিপিএ = ২১৬.০০ ÷ ৬০ = ৩.৬০।
উদাহরণ ২: ক্রেডিট আলাদা হলে
১ম বর্ষে GPA ৩.৪০ (২৮ ক্রেডিট) ও ২য় বর্ষে GPA ৩.৮০ (৩২ ক্রেডিট) হলে মোট গ্রেড পয়েন্ট ৯৫.২০ + ১২১.৬০ = ২১৬.৮০। সিজিপিএ = ২১৬.৮০ ÷ ৬০ = ৩.৬১। সাধারণ গড় নিলে ৩.৬০ হতো, তাই ক্রেডিটসহ হিসাব করাই ঠিক।
উদাহরণ ৩: কোর্সভিত্তিক হিসাব
পাঁচটি কোর্সে গ্রেড A, A-, A+, B+, B এবং প্রতিটি ৪ ক্রেডিট হলে পয়েন্ট ৩.৭৫, ৩.৫০, ৪.০০, ৩.২৫, ৩.০০। মোট গ্রেড পয়েন্ট (১৭.৫০ × ৪) = ৭০.০০ এবং মোট ক্রেডিট ২০। সিজিপিএ = ৭০.০০ ÷ ২০ = ৩.৫০।
কীভাবে ব্যবহার করবেন
- উপরে বর্ষ/সেমিস্টারভিত্তিক বা কোর্সভিত্তিক ট্যাব বেছে নিন।
- বর্ষভিত্তিক হলে প্রতিটি সম্পূর্ণ বর্ষের GPA ও ক্রেডিট লিখুন। অসম্পূর্ণ বর্ষের ঘর ফাঁকা রাখুন।
- কোর্সভিত্তিক হলে প্রতিটি কোর্সের গ্রেড বেছে ক্রেডিট দিন।
- ডানে সিজিপিএ ও গ্রেড এবং নিচে বর্ষ/কোর্সওয়ারি হিসাব নিজে থেকেই দেখা যাবে।
সিজিপিএ ভালো রাখার কৌশল
- বেশি ক্রেডিটের কোর্স বা বর্ষে ভালো করুন, কারণ সিজিপিএ-তে সেগুলোর প্রভাব বেশি।
- যে কোর্সে গ্রেডের সীমার ঠিক নিচে আছেন, সেখানে অল্প কয়েক নম্বর বাড়ালে গ্রেড পয়েন্ট বদলে যায়।
- কোনো কোর্সে F আসলে পুনঃপরীক্ষার পরিকল্পনা আগেই করুন।
- এই টুলে সম্ভাব্য গ্রেড বসিয়ে দেখুন কত পেলে লক্ষ্যে পৌঁছানো যায়।
চাকরি ও উচ্চশিক্ষায় সিজিপিএ
অনেক চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে ও উচ্চশিক্ষার আবেদনে নির্দিষ্ট ন্যূনতম সিজিপিএ বা বিভাগ চাওয়া হয়। শর্ত প্রতিষ্ঠান ও সময়ভেদে বদলায়, তাই আবেদনের আগে বিজ্ঞপ্তি মিলিয়ে নিন। বিদেশে আবেদনের ক্ষেত্রে অনেক প্রতিষ্ঠান নিজস্ব পদ্ধতিতে সিজিপিএ কনভার্ট করে।
স্নাতক (অনার্স) স্তরের সিজিপিএ জানতে অনার্স সিজিপিএ ক্যালকুলেটর দেখতে পারেন।
সাধারণ ভুল
- ক্রেডিট ছাড়া শুধু GPA-গুলোর সাধারণ গড় নেওয়া।
- মার্কশিটের ক্রেডিট না দেখে ডিফল্ট ক্রেডিট রেখে দেওয়া।
- অসম্পূর্ণ বর্ষের জায়গায় অনুমানে GPA বসিয়ে চূড়ান্ত ফল ভেবে নেওয়া।
- ৪.০০ স্কেলের সিজিপিএ-কে ৫.০০ স্কেলের এসএসসি/এইচএসসি জিপিএ-র সঙ্গে সরাসরি তুলনা করা।
বাংলাদেশ ও কলকাতা-পশ্চিমবঙ্গের ব্যবহারকারীদের জন্য
এই ক্যালকুলেটর বাংলাদেশের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪.০০ স্কেল অনুযায়ী তৈরি। কলকাতা বা পশ্চিমবঙ্গের বিশ্ববিদ্যালয়ে সাধারণত ভিন্ন স্কেল (যেমন ১০ পয়েন্ট বা শতাংশ) চলে, তাই ফল সরাসরি মেলে না। আনুমানিক তুলনার জন্য কোর্সভিত্তিক ট্যাবে নম্বর অনুযায়ী গ্রেড বেছে নিতে পারেন।
এই টুলের ফলাফল ধারণা পাওয়ার জন্য। গ্রেড-সীমা, ক্রেডিট ও নিয়ম বিশ্ববিদ্যালয় ও সালভেদে বদলাতে পারে, তাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে নিজের মার্কশিট ও সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি মিলিয়ে নিন।