দুটি ঋণ কীভাবে তুলনা করবেন?
দুটি ব্যাংক বা প্রতিষ্ঠান যখন আলাদা সুদের হার, মেয়াদ ও ফি দিয়ে ঋণের প্রস্তাব দেয়, তখন শুধু সুদের হার দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। কম সুদের ঋণে বেশি প্রসেসিং ফি থাকতে পারে, আবার লম্বা মেয়াদে কিস্তি কম হলেও মোট সুদ অনেক বেশি পড়ে। ঠিকভাবে তুলনা করতে মাসিক কিস্তি, মোট সুদ, ফি সহ মোট খরচ ও কার্যকর বার্ষিক হার পাশাপাশি দেখা দরকার। এই টুল সেটিই করে।
যা যা তুলনা হয়
- মাসিক কিস্তি: প্রতি মাসে কত দিতে হবে।
- মোট সুদ: পুরো মেয়াদে সুদ বাবদ মোট খরচ।
- ফি ও চার্জ: প্রসেসিং ফি ও অন্যান্য নির্দিষ্ট চার্জ।
- মোট খরচ: মোট সুদ + ফি ও চার্জ।
- কার্যকর বার্ষিক হার: ফি ধরে ঋণের আসল বার্ষিক খরচ, যা দিয়ে সবচেয়ে ন্যায্য তুলনা হয়।
উদাহরণ
৳ ১০,০০,০০০ ঋণ ৫ বছরে: ঋণ A ১১% সুদ ও ০.৫% ফি, ঋণ B ৯% সুদ ও ১.৫% ফি (দুটোই কমতি স্থিতি)। মাসিক কিস্তি A ৳ ২১,৭৪২ ও B ৳ ২০,৭৫৮, মোট খরচ A ৳ ৩,০৯,৫৪৫ ও B ৳ ২,৬০,৫০১। ফি বেশি হলেও B প্রায় ৳ ৪৯,০৪৪ সাশ্রয়ী, কার্যকর হার ১০.০৯% বনাম ১১.৮১%। কিন্তু B-র ৯% ফ্ল্যাট হারে হলে মোট খরচ ৳ ৪,৬৫,০০০ হয়ে যায় এবং A সাশ্রয়ী হয়ে ওঠে।
কীভাবে ব্যবহার করবেন
- ঋণের পরিমাণ দিন। দুই ঋণে একই পরিমাণ ধরে তুলনা হয়।
- প্রতিটি ঋণের সুদের হার, মেয়াদ ও প্রসেসিং ফি দিন এবং সুদের ধরন বাছুন।
- অন্যান্য নির্দিষ্ট চার্জ থাকলে অ্যাডভান্সড সেটিংসে দিন।
- ডানে কোন ঋণ সাশ্রয়ী এবং নিচে পাশাপাশি তুলনার তালিকা দেখুন।
সিদ্ধান্তের আগে ভাবুন
- মাসিক কিস্তি কম মানেই সস্তা ঋণ নয়। মোট খরচ দেখুন।
- ফ্ল্যাট হারের ঋণ কমতি স্থিতির ঋণের চেয়ে বেশি ব্যয়বহুল। সমতুল্য হার দেখতে কার্যকর সুদের হার ক্যালকুলেটর আছে।
- আগাম শোধের জরিমানা আছে কি না ও সুদের হার স্থির না পরিবর্তনশীল তা জেনে নিন।
- বিস্তারিত কিস্তির তালিকা চাইলে অ্যামর্টাইজেশন ক্যালকুলেটর দেখুন।
সাধারণ ভুল
- শুধু সুদের হার দেখে ফি ও মেয়াদ উপেক্ষা করা।
- ভিন্ন মেয়াদের দুটি ঋণ মাসিক কিস্তি দিয়ে তুলনা করা।
- পরিবর্তনশীল হারকে স্থির ধরে নেওয়া।
বাংলাদেশ ও কলকাতা-পশ্চিমবঙ্গের ব্যবহারকারীদের জন্য
বাংলাদেশে ও পশ্চিমবঙ্গে গৃহঋণ, গাড়ির ঋণ, ব্যক্তিগত বা ব্যবসার ঋণ, যে কোনোটির দুটি প্রস্তাব এখানে তুলনা করা যায়। মুদ্রা ঘরে টাকা, রুপি বা ডলার বেছে নিন এবং ঋণদাতার কাছ থেকে সব ফি ও চার্জের লিখিত তালিকা চেয়ে নিন।
এই টুলের ফলাফল ধারণা পাওয়ার জন্য। বাস্তব হার, কর ও নিয়ম প্রতিষ্ঠানভেদে আলাদা, তাই সিদ্ধান্তের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক, ব্রোকার বা বিশেষজ্ঞের সাথে যাচাই করুন।