অ্যামর্টাইজেশন কী?
অ্যামর্টাইজেশন মানে নির্দিষ্ট কিস্তিতে ঋণ ধীরে ধীরে শোধ করার পদ্ধতি। প্রতিটি কিস্তির একটি অংশ সুদে যায় আর বাকিটা আসল কমায়। শুরুর দিকে বকেয়া বেশি বলে সুদের অংশ বড় থাকে, সময় যত যায় আসলের অংশ তত বাড়ে। এই ক্যালকুলেটর দেখিয়ে দেয় প্রতি মাসে ও প্রতি বছরে আপনার কিস্তির কত টাকা আসল আর কত টাকা সুদ, এবং কোন মাসে ঋণ কত বাকি থাকে।
হিসাবের সূত্র
- মাসিক কিস্তি = আসল × r × (১+r)n ÷ ((১+r)n − ১), যেখানে r মাসিক হার (বার্ষিক ÷ ১২ ÷ ১০০) ও n মোট মাস।
- মাসের সুদ = আগের মাসের বকেয়া × r।
- মাসের আসল শোধ = কিস্তি − ওই মাসের সুদ।
- নতুন বকেয়া = আগের বকেয়া − আসল শোধ।
উদাহরণ
৳ ১০,০০,০০০ ঋণ, ১০% সুদ ও ৫ বছর মেয়াদে মাসিক কিস্তি প্রায় ৳ ২১,২৪৭। প্রথম মাসে এর ৳ ৮,৩৩৩ সুদ আর ৳ ১২,৯১৪ আসল। মোট সুদ প্রায় ৳ ২,৭৪,৮২৩। প্রতি মাসে ৳ ৫,০০০ বাড়তি দিলে ঋণ ৩ বছর ১১ মাসে শেষ হয় ও সুদ প্রায় ৳ ৬৬,৬৯০ কম লাগে। হার শুধু নমুনা।
কীভাবে ব্যবহার করবেন
- ঋণের পরিমাণ ও বার্ষিক সুদের হার দিন।
- মেয়াদ লিখে বছর বা মাস বাছুন।
- বাড়তি পরিশোধ করতে চাইলে অ্যাডভান্সড সেটিংসে মাসিক বাড়তি অঙ্ক দিন।
- ডানে কিস্তি, মোট সুদ ও সাশ্রয় এবং নিচে বছরওয়ারি ও মাসওয়ারি তালিকা দেখুন।
বাড়তি পরিশোধ কেন লাভজনক?
বাড়তি টাকা সরাসরি আসল কমায়, তাই পরের মাস থেকে কম বকেয়ার ওপর সুদ হয়। ছোট বাড়তি অঙ্কও দীর্ঘ মেয়াদে বড় সাশ্রয় আনে। তবে কিছু ব্যাংক আগাম শোধে জরিমানা নেয়, তাই চুক্তিতে দেখে নিন।
মনে রাখার বিষয়
- প্রসেসিং ফি, বীমা ও অন্যান্য চার্জ এখানে ধরা নেই।
- সুদের হার পরিবর্তনশীল হলে কিস্তি বা মেয়াদ বদলাতে পারে।
- ব্যাংকের ছাপানো তালিকায় সামান্য রাউন্ডিংয়ের তফাত থাকতে পারে।
সাধারণ ভুল
- মাসিক হারের জায়গায় বার্ষিক হার বসানো।
- বছর ও মাসের একক গুলিয়ে ফেলা।
- ফ্ল্যাট হারের ঋণকে কমতি স্থিতির হিসাবে মেলানো।
বাংলাদেশ ও কলকাতা-পশ্চিমবঙ্গের ব্যবহারকারীদের জন্য
বাংলাদেশে ব্যাংক লোন, গৃহঋণ ও গাড়ির ঋণ এবং পশ্চিমবঙ্গে হোম লোন ও পার্সোনাল লোনের কিস্তির ভাঙন দেখতে এটি কাজে লাগে। পর্দায় ৳ চিহ্ন থাকলেও কলকাতা-পশ্চিমবঙ্গের ব্যবহারকারীরা রুপির অঙ্ক বসিয়ে একই হিসাব পাবেন। শুধু কিস্তি জানতে ইএমআই ক্যালকুলেটর আর সরল বা চক্রবৃদ্ধি সুদের জন্য ঋণের সুদ ক্যালকুলেটর দেখুন।
এই টুলের ফলাফল ধারণা পাওয়ার জন্য। বাস্তব হার, কর ও নিয়ম প্রতিষ্ঠানভেদে আলাদা, তাই সিদ্ধান্তের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক, ব্রোকার বা বিশেষজ্ঞের সাথে যাচাই করুন।