ঋণ-আয়ের অনুপাত (DTI) কী?
ডেট-টু-ইনকাম রেশিও বা DTI দেখায় আপনার মাসিক আয়ের কত শতাংশ ঋণের কিস্তিতে চলে যায়। ব্যাংক বা ঋণদাতা ঋণ দেওয়ার আগে এটি দেখে, কারণ কিস্তি আয়ের বড় অংশ নিয়ে নিলে নতুন ঋণ শোধ করা কঠিন হয়। আপনি নিজেও নতুন ঋণ নেওয়ার আগে এই হিসাব করে দেখতে পারেন আপনার সামর্থ্য আদৌ আছে কি না।
হিসাবের সূত্র
- মোট মাসিক ঋণ কিস্তি = বাসা ভাড়া বা গৃহঋণের কিস্তি + গাড়ি বা ব্যক্তিগত ঋণ + কার্ডের ন্যূনতম পেমেন্ট + অন্যান্য কিস্তি।
- DTI = মোট মাসিক কিস্তি ÷ মাসিক মোট আয় × ১০০।
- আবাসন খরচের অনুপাত = ভাড়া বা গৃহঋণের কিস্তি ÷ আয় × ১০০।
- লক্ষ্য DTI-তে সর্বোচ্চ মোট কিস্তি = আয় × লক্ষ্য DTI ÷ ১০০।
উদাহরণ
মাসিক আয় ৳ ৮০,০০০, ভাড়া ৳ ২০,০০০, গাড়ির কিস্তি ৳ ৮,০০০ ও কার্ডের ন্যূনতম ৳ ২,০০০ হলে মোট কিস্তি ৳ ৩০,০০০, অর্থাৎ DTI ৩৭.৫% (সতর্ক)। আবাসন খরচের অনুপাত ২৫%। লক্ষ্য DTI ৪০% ধরলে আরও মাত্র ৳ ২,০০০ কিস্তির সুযোগ আছে। ৳ ১৫,০০০ কিস্তির নতুন ঋণ নিলে DTI ৫৬.৩% হয়ে যায়। সংখ্যাগুলো শুধু নমুনা।
DTI কেমন হলে ভালো?
- প্রায় ৩৬% বা তার কম: সাধারণত ভালো ধরা হয়।
- প্রায় ৩৬% থেকে ৪৩%: সতর্ক অবস্থা, নতুন ঋণ নেওয়ার আগে ভাবুন।
- প্রায় ৪৩% এর বেশি: উচ্চ ঝুঁকি, ঋণদাতারা অনেক সময় নতুন ঋণ দিতে চান না।
এগুলো সাধারণ প্রচলিত নির্দেশনা। ব্যাংকভেদে সীমা আলাদা এবং আয়ের ধরন ও সম্পদের ওপরও নির্ভর করে, তাই আপনার ঋণদাতার শর্ত জেনে নিন।
কীভাবে ব্যবহার করবেন
- মাসিক মোট আয় ও প্রতিটি ঋণের মাসিক কিস্তি দিন।
- নতুন ঋণ নিতে চাইলে সম্ভাব্য কিস্তি অ্যাডভান্সড সেটিংসে দিন।
- লক্ষ্য DTI ঠিক করুন, যে অনুপাত আপনি নিরাপদ মনে করেন।
- ডানে DTI ও সর্বোচ্চ কিস্তির সামর্থ্য দেখুন। কিস্তি থেকে ঋণের মোট পরিমাণ জানতে ইএমআই ক্যালকুলেটর ব্যবহার করুন।
DTI কমানোর উপায়
- উচ্চ সুদের ঋণ আগে শোধ করুন, দেখুন ঋণ পরিশোধ ক্যালকুলেটর।
- আয় বাড়ান বা বাড়তি আয়ের উৎস খুঁজুন।
- নতুন ঋণ নেওয়ার আগে পুরোনো কিস্তি কমান বা মেয়াদ বাড়ানোর কথা ভাবুন।
সাধারণ ভুল
- কর কাটার পরের আয় ধরা, অথচ DTI সাধারণত মোট আয়ে হিসাব হয়।
- কার্ডের ন্যূনতম পেমেন্ট বা ছোট ঋণ বাদ দেওয়া।
- শুধু DTI দেখে জরুরি তহবিল ও অন্যান্য খরচের কথা ভুলে যাওয়া।
বাংলাদেশ ও কলকাতা-পশ্চিমবঙ্গের ব্যবহারকারীদের জন্য
বাংলাদেশে ও পশ্চিমবঙ্গে গৃহঋণ বা গাড়ির ঋণের আবেদনে ব্যাংক আয় ও কিস্তির অনুপাত যাচাই করে। এই হিসাব আপনাকে আগে থেকে বুঝতে সাহায্য করবে ঋণ পাওয়া সহজ হবে কি না। মুদ্রা ঘরে টাকা, রুপি বা ডলার বেছে নিন।
এই টুলের ফলাফল ধারণা পাওয়ার জন্য। বাস্তব হার, কর ও নিয়ম প্রতিষ্ঠানভেদে আলাদা, তাই সিদ্ধান্তের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক, ব্রোকার বা বিশেষজ্ঞের সাথে যাচাই করুন।