ঋণ শোধের পরিকল্পনা কেন দরকার?
একাধিক ঋণ থাকলে কোনটা আগে শোধ করবেন তা নিয়ে ধন্দে পড়া স্বাভাবিক। প্রতিটি ঋণে শুধু ন্যূনতম কিস্তি দিলে সুদ বছরের পর বছর চলতে থাকে। কিন্তু প্রতি মাসে সামান্য বাড়তি টাকা কোনো একটি ঋণে ঢালতে পারলে মেয়াদ ও মোট সুদ দুটোই উল্লেখযোগ্যভাবে কমে। এই টুল আপনার সব ঋণ একসাথে ধরে দুটি জনপ্রিয় কৌশলে মাস ধরে ধরে হিসাব করে দেয়।
অ্যাভালাঞ্চ ও স্নোবল কৌশল
- অ্যাভালাঞ্চ: সব ঋণে ন্যূনতম কিস্তি দিয়ে বাড়তি টাকা সবচেয়ে বেশি সুদের ঋণে দেওয়া হয়। গাণিতিকভাবে মোট সুদ সবচেয়ে কম পড়ে।
- স্নোবল: বাড়তি টাকা সবচেয়ে ছোট বকেয়ার ঋণে দেওয়া হয়। দ্রুত একটি ঋণ শেষ হয় বলে মনোবল বাড়ে, তবে মোট সুদ কিছুটা বেশি হতে পারে।
একটি ঋণ শেষ হলে তার কিস্তির টাকা পরের লক্ষ্য ঋণে যোগ হয়। একেই বলে রোলওভার, আর এতেই শোধের গতি বাড়ে।
উদাহরণ
৳ ৮০,০০০ ঋণ ১২% সুদে (কিস্তি ৳ ৩,০০০) ও ৳ ২,৫০,০০০ ঋণ ২৪% সুদে (কিস্তি ৳ ৮,০০০) থাকলে এবং মাসে ৳ ৫,০০০ বাড়তি দিলে অ্যাভালাঞ্চ কৌশলে ২ বছর ২ মাসে ঋণমুক্ত হওয়া যায় ও মোট সুদ প্রায় ৳ ৮১,৭৩৯ পড়ে। স্নোবল কৌশলে লাগে ২ বছর ৩ মাস ও সুদ প্রায় ৳ ৯২,৩৪৮। বাড়তি টাকা ছাড়া শুধু ন্যূনতম কিস্তি দিলে লাগে ৪ বছর ২ মাস ও সুদ প্রায় ৳ ১,৫৯,৭৭৫।
কীভাবে ব্যবহার করবেন
- প্রতিটি ঋণের বকেয়া, বার্ষিক সুদের হার ও ন্যূনতম মাসিক কিস্তি লিখুন।
- আরও ঋণ থাকলে "আরও ঋণ যোগ করুন" অংশ খুলুন।
- প্রতি মাসে ন্যূনতম কিস্তির ওপর কত বাড়তি দিতে পারবেন তা দিন।
- কৌশল বাছুন। ডানে ঋণমুক্ত হওয়ার সময়, মোট সুদ ও সাশ্রয় এবং নিচে দুই কৌশলের তুলনা পাবেন।
বাড়তি টাকা কোথা থেকে আসবে?
- অপ্রয়োজনীয় সাবস্ক্রিপশন বা বাইরের খাবারের খরচ কমান।
- বোনাস, ঈদ বোনাস বা বাড়তি আয়ের একটি অংশ ঋণে দিন।
- উচ্চ সুদের ঋণ কম সুদের ঋণে রিফাইন্যান্স করা যায় কি না ব্যাংকে খোঁজ নিন।
সাধারণ ভুল
- ন্যূনতম কিস্তি সুদের চেয়ে কম হলে ঋণ কখনো শেষ হয় না। টুল এমন ক্ষেত্রে শোধ অসম্ভব বলে জানায়।
- নতুন ঋণ নেওয়া চালিয়ে গেলে কোনো পরিকল্পনাই কাজ করবে না।
- ক্রেডিট কার্ডের সুদ ও ফি আলাদা ধরে না নেওয়া।
বাংলাদেশ ও কলকাতা-পশ্চিমবঙ্গের ব্যবহারকারীদের জন্য
ক্রেডিট কার্ড, ব্যক্তিগত ঋণ, গাড়ি বা মোবাইল কিস্তি, এনজিও ঋণ সবকিছুই এখানে যোগ করা যায়। পর্দায় ৳ চিহ্ন থাকলেও কলকাতা-পশ্চিমবঙ্গের ব্যবহারকারীরা রুপির অঙ্ক বসিয়ে একই হিসাব পাবেন। শুধু নিজের ঋণদাতার সুদের হার ও কিস্তি ঠিকমতো বসাবেন।
এই টুলের ফলাফল ধারণা পাওয়ার জন্য। বাস্তব হার, কর ও নিয়ম প্রতিষ্ঠানভেদে আলাদা, তাই সিদ্ধান্তের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক, ব্রোকার বা বিশেষজ্ঞের সাথে যাচাই করুন।