এনইউ বিবিএ (অনার্স) সিজিপিএ ক্যালকুলেটর

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ (অনার্স) চার বর্ষের ফল একসাথে হিসাব করে মোট সিজিপিএ জেনে নিন। বর্ষ বা কোর্সভিত্তিক GPA ও ক্রেডিট দিন।

তথ্য দিন

প্রতিটি সম্পূর্ণ বর্ষের (বা সেমিস্টারের) GPA ও ক্রেডিট দিন। ভবিষ্যৎ বা অসম্পূর্ণ বর্ষের ঘর ফাঁকা রাখুন।

আপনার অনার্স সিজিপিএ (৪.০০ স্কেলে)
০.০০
গণনায় ধরা বর্ষ
মোট ক্রেডিট
মোট গ্রেড পয়েন্ট
সিজিপিএ গ্রেড

বর্ষ/কোর্সওয়ারি হিসাব

বর্ষ / কোর্সGPA / গ্রেডক্রেডিটGPA × ক্রেডিট

এনইউ বিবিএ (অনার্স) সিজিপিএ কী ও কীভাবে হিসাব হয়

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ (অনার্স) চার বছরের প্রোগ্রাম। প্রতি বর্ষে বা সেমিস্টারে আলাদা GPA থাকে এবং সব বর্ষ মিলিয়ে চূড়ান্ত সিজিপিএ (Cumulative Grade Point Average) ঠিক হয়। ফল ৪.০০ স্কেলে প্রকাশ হয়। প্রতিটি বর্ষ বা কোর্সের প্রভাব ঠিক হয় তার ক্রেডিট দিয়ে, তাই সিজিপিএ হলো ক্রেডিটভিত্তিক ভারযুক্ত গড়। এই ক্যালকুলেটরে দুইভাবে হিসাব করা যায়: চার বর্ষের GPA ও ক্রেডিট দিয়ে, অথবা প্রতিটি কোর্সের গ্রেড ও ক্রেডিট দিয়ে।

সিজিপিএ-র সূত্র

সিজিপিএ = (GPA₁ × ক্রেডিট₁ + GPA₂ × ক্রেডিট₂ + GPA₃ × ক্রেডিট₃ + GPA₄ × ক্রেডিট₄) ÷ মোট ক্রেডিট

যে বর্ষে ক্রেডিট বেশি, সিজিপিএ-তে তার প্রভাবও বেশি। তাই শুধু চারটি GPA-র সাধারণ গড় নিলে ক্রেডিট আলাদা হলে ভুল ফল আসতে পারে।

গ্রেড সারণি (৪.০০ স্কেল)

নম্বরলেটার গ্রেডগ্রেড পয়েন্ট
৮০–১০০A+৪.০০
৭৫–৭৯A৩.৭৫
৭০–৭৪A-৩.৫০
৬৫–৬৯B+৩.২৫
৬০–৬৪B৩.০০
৫৫–৫৯B-২.৭৫
৫০–৫৪C+২.৫০
৪৫–৪৯C২.২৫
৪০–৪৪D২.০০
০–৩৯F০.০০

সিজিপিএ-ও একই স্কেলে লেটার গ্রেডে ধরা যায়। যেমন ৪.০০ হলে A+, ৩.৭৫ থেকে ৩.৯৯ হলে A, ৩.৫০ থেকে ৩.৭৪ হলে A-, এভাবে নিচের দিকে।

উদাহরণসহ হিসাব

উদাহরণ ১: চার বর্ষ, সমান ক্রেডিট

চার বর্ষে GPA যথাক্রমে ৩.৪০, ৩.৫০, ৩.৬০, ৩.৭০ এবং প্রতি বর্ষে ৩০ ক্রেডিট হলে মোট গ্রেড পয়েন্ট ৩.৪০ × ৩০ + ৩.৫০ × ৩০ + ৩.৬০ × ৩০ + ৩.৭০ × ৩০ = ৪২৬.০০ এবং মোট ক্রেডিট ১২০। সিজিপিএ = ৪২৬.০০ ÷ ১২০ = ৩.৫৫।

উদাহরণ ২: ক্রেডিট আলাদা হলে

GPA ৩.২০ (৩০ ক্রেডিট), ৩.৪০ (৩২ ক্রেডিট), ৩.৬০ (৩৪ ক্রেডিট) ও ৩.৮০ (৩৬ ক্রেডিট) হলে মোট গ্রেড পয়েন্ট ৯৬.০০ + ১০৮.৮০ + ১২২.৪০ + ১৩৬.৮০ = ৪৬৪.০০ এবং মোট ক্রেডিট ১৩২। সিজিপিএ = ৪৬৪.০০ ÷ ১৩২ = ৩.৫২। সাধারণ গড় নিলে ৩.৫০ হতো।

উদাহরণ ৩: তিন বর্ষ শেষে চলমান সিজিপিএ

প্রথম তিন বর্ষে GPA ৩.৪০, ৩.৫০, ৩.৬০ এবং প্রতি বর্ষে ৩০ ক্রেডিট হলে চলমান সিজিপিএ = ৩১৫.০০ ÷ ৯০ = ৩.৫০। চতুর্থ বর্ষের ফল এলে চূড়ান্ত সিজিপিএ বদলে যাবে।

উদাহরণ ৪: কোর্সভিত্তিক হিসাব

পাঁচটি কোর্সে গ্রেড A, A-, A+, B+, B এবং প্রতিটি ৪ ক্রেডিট হলে পয়েন্ট ৩.৭৫, ৩.৫০, ৪.০০, ৩.২৫, ৩.০০। মোট গ্রেড পয়েন্ট (১৭.৫০ × ৪) = ৭০.০০ এবং মোট ক্রেডিট ২০। সিজিপিএ = ৭০.০০ ÷ ২০ = ৩.৫০।

কীভাবে ব্যবহার করবেন

  1. উপরে বর্ষ/সেমিস্টারভিত্তিক বা কোর্সভিত্তিক ট্যাব বেছে নিন।
  2. বর্ষভিত্তিক হলে প্রতিটি সম্পূর্ণ বর্ষের GPA ও ক্রেডিট লিখুন। ফল না আসা বর্ষের ঘর ফাঁকা রাখুন।
  3. কোর্সভিত্তিক হলে প্রতিটি কোর্সের গ্রেড বেছে ক্রেডিট দিন।
  4. ডানে সিজিপিএ ও গ্রেড এবং নিচে বর্ষ/কোর্সওয়ারি হিসাব নিজে থেকেই দেখা যাবে।

প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের BBA

BBA প্রোগ্রাম জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি অনেক প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়েও আছে। সেখানে গ্রেড-সীমা, পয়েন্ট ও ক্রেডিট কাঠামো আলাদা হতে পারে। এই টুলের গ্রেড সারণি এনইউ অনুযায়ী, তাই প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে নিজের গ্রেড পয়েন্ট ও ক্রেডিট মার্কশিট থেকে মিলিয়ে নিন।

সিজিপিএ ভালো রাখার কৌশল

মাস্টার্স, চাকরি ও উচ্চশিক্ষায় সিজিপিএ

মাস্টার্সে ভর্তি, সরকারি ও বেসরকারি চাকরি এবং বিদেশে উচ্চশিক্ষার আবেদনে সাধারণত অনার্সের সিজিপিএ ও বিভাগ দেখা হয়। শর্ত প্রতিষ্ঠান ও সময়ভেদে বদলায়, তাই আবেদনের আগে বিজ্ঞপ্তি মিলিয়ে নিন।

মাস্টার্সের সিজিপিএ জানতে মাস্টার্স সিজিপিএ ক্যালকুলেটর এবং অনার্সের জন্য সাধারণ অনার্স সিজিপিএ ক্যালকুলেটর দেখতে পারেন।

সাধারণ ভুল

বাংলাদেশ ও কলকাতা-পশ্চিমবঙ্গের ব্যবহারকারীদের জন্য

এই ক্যালকুলেটর বাংলাদেশের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪.০০ স্কেল অনুযায়ী তৈরি। কলকাতা বা পশ্চিমবঙ্গের বিশ্ববিদ্যালয়ে সাধারণত ভিন্ন স্কেল (যেমন ১০ পয়েন্ট বা শতাংশ) চলে, তাই ফল সরাসরি মেলে না। আনুমানিক তুলনার জন্য কোর্সভিত্তিক ট্যাবে নম্বর অনুযায়ী গ্রেড বেছে নিতে পারেন।

এই টুলের ফলাফল ধারণা পাওয়ার জন্য। গ্রেড-সীমা, ক্রেডিট ও নিয়ম বিশ্ববিদ্যালয় ও সালভেদে বদলাতে পারে, তাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে নিজের মার্কশিট ও সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি মিলিয়ে নিন।

সচরাচর জিজ্ঞাসা

এনইউ বিবিএ (অনার্স) সিজিপিএ কীভাবে হিসাব করা হয়?
প্রতিটি বর্ষ বা কোর্সের GPA-কে তার ক্রেডিট দিয়ে গুণ করে যোগ করুন, তারপর মোট ক্রেডিট দিয়ে ভাগ করুন। এটি ক্রেডিটভিত্তিক ভারযুক্ত গড়। সূত্র: সিজিপিএ = Σ(GPA × ক্রেডিট) ÷ Σ ক্রেডিট।
চার বর্ষের GPA থেকে সিজিপিএ কীভাবে বের করব?
“বর্ষ/সেমিস্টারভিত্তিক GPA” ট্যাবে চার বর্ষের GPA ও ক্রেডিট দিন। যে বর্ষের ফল এখনো আসেনি তার ঘর ফাঁকা রাখুন। টুল শুধু পূরণ করা ঘর গণনা করবে।
ক্রেডিট কত দেব?
ক্রেডিট আপনার মার্কশিট বা বিভাগের সিলেবাস অনুযায়ী দিন। এই টুলে বর্ষের ডিফল্ট ৩০ ও কোর্সের ডিফল্ট ৪ রাখা আছে, যা বদলানো যায়। বর্ষভেদে ক্রেডিট আলাদা হলে তা ঠিকভাবে বসান, নইলে সিজিপিএ ভুল আসবে।
তিন বর্ষ পর্যন্ত চলমান সিজিপিএ কীভাবে জানব?
চতুর্থ বর্ষের ঘর ফাঁকা রেখে প্রথম তিন বর্ষের GPA ও ক্রেডিট দিন। তখন তিন বর্ষের ভারযুক্ত গড় দেখাবে, যা চূড়ান্ত সিজিপিএ নয়।
কোর্সভিত্তিক গ্রেড থেকে কীভাবে হিসাব করব?
“কোর্সভিত্তিক গ্রেড” ট্যাবে প্রতিটি কোর্সের গ্রেড ও ক্রেডিট দিন। টুল প্রতিটি গ্রেডকে ৪.০০ স্কেলের পয়েন্টে নিয়ে ক্রেডিট দিয়ে গুণ করে মোট ক্রেডিট দিয়ে ভাগ করে। কোর্স বেশি হলে বর্ষভিত্তিক ট্যাব ব্যবহার করুন।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রেডিং স্কেল কী?
৮০–১০০ নম্বরে A+ (৪.০০), ৭৫–৭৯-এ A (৩.৭৫), ৭০–৭৪-এ A- (৩.৫০), ৬৫–৬৯-এ B+ (৩.২৫), ৬০–৬৪-এ B (৩.০০), ৫৫–৫৯-এ B- (২.৭৫), ৫০–৫৪-এ C+ (২.৫০), ৪৫–৪৯-এ C (২.২৫), ৪০–৪৪-এ D (২.০০) এবং ৪০-এর নিচে F (০.০০)।
কোনো কোর্সে F থাকলে কী হবে?
F মানে কোর্সটি পাস হয়নি। টুল তখন সতর্কবার্তা দেখায় এবং ০.০০ পয়েন্ট ধরে হিসাব করে। চূড়ান্ত ফল পুনঃপরীক্ষার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী ঠিক হবে।
চার বর্ষের GPA-র সাধারণ গড় আর সিজিপিএ কি একই?
ক্রেডিট সমান হলে একই। ক্রেডিট আলাদা হলে ভারযুক্ত গড়ের ফল সাধারণ গড় থেকে আলাদা হতে পারে, তাই ক্রেডিটসহ হিসাব করাই সঠিক।
প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের BBA-তে কি এটি চলবে?
এই টুলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪.০০ স্কেল ধরা আছে। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের BBA-তে গ্রেড-সীমা ও ক্রেডিট আলাদা হতে পারে। স্কেল ৪.০০ হলে হিসাবের পদ্ধতি একই থাকে, তাই নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রেড পয়েন্ট ও ক্রেডিট মিলিয়ে কোর্সভিত্তিক ট্যাব ব্যবহার করুন।
এই টুলের ফল কি অফিসিয়াল?
না, এটি ধারণা পাওয়ার জন্য। চূড়ান্ত ও অফিসিয়াল সিজিপিএ আপনার মার্কশিট ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলাফলে দেখুন। টুলটি সম্পূর্ণ ফ্রি।