ওয়াটার ট্যাংকের ধারণক্ষমতা কীভাবে হিসাব হয়?
ট্যাংকে কত লিটার পানি ধরে তা জানতে ট্যাংকের আয়তন বের করতে হয়। আয়তাকার ট্যাংকে আয়তন = দৈর্ঘ্য × প্রস্থ × উচ্চতা। গোলাকার ট্যাংকে আয়তন = π × (ব্যাস ÷ ২)² × উচ্চতা। তারপর ঘনমিটারকে ১,০০০ দিয়ে গুণ করলে লিটার হয়। ভবন বা বাড়ির ছাদের ট্যাংক ঠিক করার সময় এই হিসাব কাজে লাগে।
একক রূপান্তর
- ১ ঘনমিটার = ১,০০০ লিটার।
- ১ ঘনফুট = প্রায় ২৮.৩১৭ লিটার।
- ১ মার্কিন গ্যালন = প্রায় ৩.৭৮৫ লিটার।
- ১ ফুট = ০.৩০৪৮ মিটার এবং ১ ইঞ্চি = ০.০২৫৪ মিটার।
উদাহরণ
৬ × ৪ × ৫ ফুটের আয়তাকার ট্যাংকের আয়তন ১২০ ঘনফুট, অর্থাৎ প্রায় ৩,৩৯৮ লিটার। একটি ৫ জনের পরিবার জনপ্রতি দৈনিক ১৩৫ লিটার ব্যবহার করলে এই পানিতে প্রায় ৫ দিন চলবে। ব্যবহারের হার শুধু নমুনা।
কীভাবে ব্যবহার করবেন
- আকৃতি বাছুন: আয়তাকার বা গোলাকার।
- মাপের একক বেছে দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও উচ্চতা দিন। গোলাকারে দৈর্ঘ্যের ঘরে ব্যাস লিখুন।
- কত শতাংশ ভরা আছে তা স্লাইডার দিয়ে ঠিক করুন।
- পরিবারের সদস্য ও জনপ্রতি ব্যবহার দিলে পানি কত দিন চলবে তাও দেখা যাবে।
ট্যাংকের আকার কীভাবে ঠিক করবেন?
পরিবারের সদস্যসংখ্যা ও দৈনিক ব্যবহার দিয়ে গুণ করে এক দিনের চাহিদা বের করুন। পাম্প বা সরবরাহ বন্ধ থাকার সম্ভাব্য দিন ধরে তার সঙ্গে গুণ করুন। এভাবে ন্যূনতম ধারণক্ষমতা পাওয়া যায়। অগ্নিনির্বাপণ বা বহুতল ভবনের ট্যাংকে আলাদা নিয়ম থাকতে পারে।
ট্যাংক রক্ষণাবেক্ষণের টিপস
- বছরে অন্তত দু'বার ট্যাংক পরিষ্কার করুন।
- ঢাকনা শক্ত করে বন্ধ রাখুন যাতে ময়লা ও মশা না ঢোকে।
- ওভারফ্লো পাইপে জাল দিন।
- রোদে প্লাস্টিক ট্যাংকের পানি গরম হয়, তাই ছায়ার ব্যবস্থা ভাবুন।
সাধারণ ভুল
- গোলাকার ট্যাংকে ব্যাসের জায়গায় ব্যাসার্ধ বসানো।
- ট্যাংকের ভেতরের মাপের বদলে বাইরের মাপ ধরা, ফলে ধারণক্ষমতা বেশি দেখায়।
- ফুট ও ইঞ্চি মিশিয়ে এক এককে না ধরা।
বাংলাদেশ ও কলকাতা-পশ্চিমবঙ্গের ব্যবহারকারীদের জন্য
দুই জায়গাতেই ট্যাংকের ধারণক্ষমতা লিটারে বলা হয়। বিক্রেতারা অনেক সময় গ্যালনের হিসাবও বলেন। এখানে মার্কিন গ্যালন দেখানো হয়েছে, তাই গ্যালনে হিসাব মেলাতে চাইলে বিক্রেতাকে কোন গ্যালন তা জিজ্ঞেস করুন।
এই টুলের ফলাফল ধারণা পাওয়ার জন্য। বাস্তব হার, কর ও নিয়ম প্রতিষ্ঠানভেদে আলাদা, তাই সিদ্ধান্তের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক, ব্রোকার বা বিশেষজ্ঞের সাথে যাচাই করুন।