ভ্যাট কী?
ভ্যাট (মূল্য সংযোজন কর) হলো পণ্য বা সেবার মূল্যের উপর সরকারকে দেওয়া কর, যা শেষ পর্যন্ত ক্রেতা পরিশোধ করেন। বাংলাদেশে এটি মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২ অনুযায়ী আদায় হয় এবং সাধারণ হার ১৫%। কিছু পণ্য ও সেবায় কম হার বা অব্যাহতি থাকতে পারে, যা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রজ্ঞাপনে নির্ধারিত হয়।
ভ্যাট ছাড়া ও ভ্যাটসহ দাম
- এক্সক্লুসিভ (ভ্যাট ছাড়া): দামে ভ্যাট ধরা নেই, ভ্যাট আলাদা যোগ হবে।
- ইনক্লুসিভ (ভ্যাটসহ): দামের মধ্যেই ভ্যাট ধরা আছে, ভ্যাট বের করতে হলে বাদ দিতে হবে।
ভ্যাট হিসাবের সূত্র
- ভ্যাট যোগ: ভ্যাট = মূল দাম × (রেট ÷ ১০০); মোট = মূল দাম + ভ্যাট
- ভ্যাট বাদ: ভ্যাট = (মোট × রেট) ÷ (১০০ + রেট); মূল দাম = মোট − ভ্যাট
- ছাড়সহ: ছাড়ের পরের মূল্য = মূল্য − ছাড়; ভ্যাট = ছাড়ের পরের মূল্য × (রেট ÷ ১০০)
উদাহরণ
- ১,০০০ টাকায় ১৫% ভ্যাট যোগ করলে ভ্যাট ১৫০ টাকা, মোট ১,১৫০ টাকা।
- ৫,০০০ টাকায় ৭.৫% ভ্যাট ৩৭৫ টাকা, মোট ৫,৩৭৫ টাকা।
- ১,১৫০ টাকা ভ্যাটসহ দাম হলে ভ্যাট (১,১৫০ × ১৫) ÷ ১১৫ = ১৫০ টাকা এবং মূল দাম ১,০০০ টাকা।
- ১,০০০ টাকায় ১০% ছাড় দিলে দাম ৯০০ টাকা, তার উপর ১৫% ভ্যাট ১৩৫ টাকা, মোট ১,০৩৫ টাকা। ছাড়ের আগের দামে ভ্যাট ধরলে ভ্যাট ১৫০ আর মোট ১,০৫০ টাকা হতো।
কীভাবে ব্যবহার করবেন
- উপরের ট্যাব থেকে ভ্যাট যোগ, ভ্যাট বাদ বা ছাড়সহ হিসাব বাছুন।
- মূল্য ও ভ্যাট রেট দিন। ছাড়ের ট্যাবে ছাড়ের শতাংশও দিন।
- ফলাফলে ভাগে ভাগে হিসাব আর সূত্র দেখে নিন।
দ্রুত টিপস
- ১৫% ভ্যাটসহ দামে ভ্যাট হলো মোটের ১৫ ÷ ১১৫ অংশ, প্রায় ১৩.০৪%।
- ভ্যাট ছাড়া দামকে ১.১৫ দিয়ে গুণ করলে ১৫% ভ্যাটসহ দাম পাওয়া যায়।
- ভ্যাটসহ দামকে ১.১৫ দিয়ে ভাগ করলে মূল দাম পাওয়া যায়।
- ব্যবসার ক্ষেত্রে চালান বা ইনভয়েসে ভ্যাট আলাদাভাবে দেখানো থাকে কি না মিলিয়ে নিন।
বাংলাদেশ ও কলকাতা-পশ্চিমবঙ্গের ব্যবহারকারীদের জন্য
এই টুল বাংলাদেশের ভ্যাটের জন্য। ভারতে (কলকাতা ও পশ্চিমবঙ্গসহ) পণ্য ও সেবা কর (জিএসটি) চলে এবং তার হারের স্ল্যাব আলাদা। তবে ভ্যাট রেটের ঘরে জিএসটির হার বসিয়ে যোগ-বাদের হিসাব একইভাবে করা যায়।
ফলাফল আনুমানিক ধারণার জন্য। ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য আলাদা টার্নওভার কর ব্যবস্থা আছে, যা এই টুলে ধরা হয়নি। কর সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের আগে এনবিআর বা নিবন্ধিত কর পরামর্শকের সাথে যাচাই করুন। এটি কোনো আইনি বা কর পরামর্শ নয়।