উত্তরাধিকার (ফারায়েজ) ক্যালকুলেটর কী?
এই টুলে মৃত ব্যক্তির জীবিত আত্মীয়দের সংখ্যা দিলে মুসলিম উত্তরাধিকার আইনের নিয়মে কে কত অংশ পাবেন তা বের হয়। জমি (শতাংশ), স্বর্ণ (ভরি), রৌপ্য (ভরি) ও নগদ টাকা দিলে প্রত্যেকের ভাগ আলাদা করে দেখায়। কোন নিয়মে অংশ ঠিক হলো তার ধাপও ফলাফলের নিচে লেখা থাকে।
সম্পত্তি ভাগের আগের কাজ
- দাফন-কাফনের যুক্তিসংগত খরচ।
- মৃত ব্যক্তির ঋণ পরিশোধ।
- ওসিয়ত থাকলে তা পূরণ, যা অবশিষ্ট সম্পত্তির সর্বোচ্চ ১/৩ অংশ পর্যন্ত।
- এরপর বাকি সম্পত্তি উত্তরাধিকারীদের মধ্যে ভাগ।
এই টুলে সম্পদের ঘরে সেই বাকি পরিমাণই দিন।
অংশীদারের ধরন
- নির্ধারিত অংশীদার: যাদের অংশ আগে থেকে ঠিক করা, যেমন স্বামী, স্ত্রী, মাতা, কন্যা।
- আসাবা: নির্ধারিত অংশ দেওয়ার পর যারা অবশিষ্ট সম্পত্তি পান, যেমন পুত্র, পিতা, সহোদর ভাই।
- আউল: নির্ধারিত অংশের যোগফল ১-এর বেশি হলে সবার অংশ সমানুপাতে কমানো।
- রদ: আসাবা না থাকলে বাকি অংশ স্বামী বা স্ত্রী বাদে অন্য অংশীদারদের মধ্যে ফেরত দেওয়া।
উদাহরণ
- স্বামী ও একজন পুত্র থাকলে স্বামী ১/৪ এবং পুত্র ৩/৪ পান।
- স্ত্রী, একজন পুত্র ও একজন কন্যা থাকলে স্ত্রী ১/৮, পুত্র ৭/১২ এবং কন্যা ৭/২৪ পান।
- স্ত্রী, পিতা ও মাতা থাকলে স্ত্রী ১/৪, মাতা ১/৪ (স্ত্রীর অংশের পর অবশিষ্টের ১/৩) এবং পিতা ১/২ পান।
- স্বামী, দুই সহোদর বোন ও মাতা থাকলে আউলে স্বামী ৩/৮, বোনেরা ১/২ এবং মাতা ১/৮ পান।
বাংলাদেশের আইনে মৃত সন্তানের সন্তান
মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ৪ ধারা অনুযায়ী পিতা বা মাতার আগে মারা যাওয়া পুত্র বা কন্যার সন্তানরা সেই পুত্র বা কন্যার প্রাপ্য অংশ পায়। এই টুলে "মৃত সন্তান যোগ করুন" অংশে মৃত পুত্র বা কন্যা বেছে তার পুত্র ও কন্যা সন্তানের সংখ্যা দিলে সেই অংশ তাদের মধ্যে পুত্র কন্যার দ্বিগুণ হারে ভাগ হয়।
কীভাবে ব্যবহার করবেন
- যাদের সংখ্যা জানা আছে সেই আত্মীয়দের ঘরে সংখ্যা দিন।
- মৃত সন্তান থাকলে তার ধরন ও সন্তানের সংখ্যা যোগ করুন।
- জমি, স্বর্ণ, রৌপ্য ও নগদ টাকার পরিমাণ দিন।
- ফলাফলে প্রত্যেকের অংশ, শতাংশ ও সম্পদের ভাগ এবং হিসাবের ধাপ দেখুন।
এই টুলের সীমাবদ্ধতা
- এখানে প্রচলিত হানাফি নিয়মে হিসাব করা হয়েছে, অন্য মাযহাবে নিয়ম আলাদা হতে পারে।
- শুধু মুসলিমদের জন্য। হিন্দু, খ্রিস্টান ও অন্য ধর্মের উত্তরাধিকার আইন আলাদা।
- দূরবর্তী আত্মীয় (যাবিল আরহাম), গর্ভস্থ সন্তান, নিখোঁজ ব্যক্তি, ধর্মান্তর, হত্যার মতো বিশেষ ক্ষেত্র ধরা হয়নি।
- দত্তক সন্তান ইসলামি আইনে উত্তরাধিকারী নয়, তবে ওসিয়তের মাধ্যমে কিছু দেওয়া যায়।
আইনি কাজে মনে রাখুন
সম্পত্তির মিউটেশন বা ব্যাংক হিসাবের দাবির জন্য সাধারণত ওয়ারিশ সনদ লাগে, যা স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ বা সিটি কর্পোরেশন থেকে নেওয়া যায়। চূড়ান্ত বণ্টনের আগে একজন আলেম বা অভিজ্ঞ আইনজীবীর সাথে পরামর্শ করে নিন।
বাংলাদেশ ও কলকাতা-পশ্চিমবঙ্গের ব্যবহারকারীদের জন্য
মুসলিম উত্তরাধিকারের মূল নিয়ম দুই অঞ্চলেই এক। তবে বাংলাদেশের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ ১৯৬১-এর নিয়ম (যেমন মৃত সন্তানের সন্তানের অংশ) ভারতে একইভাবে প্রযোজ্য নাও হতে পারে। পশ্চিমবঙ্গের ব্যবহারকারীরা স্থানীয় আইনজীবীর সাথে মিলিয়ে নিন।
এই টুলের ফল সাধারণ ধারণার জন্য, কোনো ফতোয়া বা আইনি পরামর্শ নয়।