স্টক স্প্লিটে কোম্পানি একটি শেয়ারকে ভেঙে একাধিক শেয়ার করে। যেমন ১০:১ স্প্লিটে ১টি শেয়ার হয়ে যায় ১০টি এবং প্রতিটির ফেস ভ্যালু দশ ভাগের এক ভাগ হয়। শেয়ারের সংখ্যা বাড়ে, দাম সমান অনুপাতে কমে। কোম্পানির মোট মূল্য ও আপনার মালিকানার শতাংশ বদলায় না।
- নতুন শেয়ার সংখ্যা = বর্তমান শেয়ার × অনুপাত
- নতুন দাম = পুরোনো দাম ÷ অনুপাত
- নতুন গড় ক্রয়মূল্য = পুরোনো গড় ক্রয়মূল্য ÷ অনুপাত
- ফেস ভ্যালু দিয়ে হিসাবে অনুপাত = পুরোনো ফেস ভ্যালু ÷ নতুন ফেস ভ্যালু
১০০টি শেয়ার, দাম ১,০০০ টাকা, গড় ক্রয়মূল্য ৮০০ টাকা। ১০:১ স্প্লিটের পর শেয়ার হবে ১,০০০টি, দাম ১০০ টাকা, গড় ক্রয়মূল্য ৮০ টাকা। মোট মূল্য আগের মতোই ১,০০,০০০ টাকা।
এতে একাধিক শেয়ার মিলিয়ে ১টি করা হয়। যেমন ১০:১ রিভার্স স্প্লিটে ১০টি শেয়ার হয়ে যায় ১টি এবং দাম ১০ গুণ বাড়ে। মোট মূল্য একই থাকে। যে শেয়ারে ভগ্নাংশ থেকে যায়, সেটি সাধারণত নগদে মেটানো হয়।
ভারতে কোম্পানিগুলো প্রায়ই ১০ টাকার ফেস ভ্যালু ভেঙে ১ বা ২ বা ৫ টাকায় আনে। বাংলাদেশে বিএসইসি ২০১০ সালের দিকে সব তালিকাভুক্ত কোম্পানির ফেস ভ্যালু ১০ টাকায় একই মানে এনেছে এবং ফেস ভ্যালু ভাঙা নিয়ে নিয়ন্ত্রক নির্দেশনা এসেছে। তাই বাংলাদেশে স্প্লিটের আগে বিএসইসি ও ডিএসইর বর্তমান নিয়ম ও কোম্পানির ঘোষণা দেখে নিন।
- "অনুপাত দিয়ে" বা "ফেস ভ্যালু দিয়ে" বেছে নিন।
- শেয়ার সংখ্যা, বর্তমান দাম ও গড় ক্রয়মূল্য দিন।
- অনুপাত বা ফেস ভ্যালু বসান। রিভার্স স্প্লিট হলে ধরন বদলান।
- ডানে নতুন শেয়ার সংখ্যা, দাম ও গড় ক্রয়মূল্য এবং নিচে আগে-পরের তুলনা দেখুন।
- দাম অনেক বেশি হলে ছোট বিনিয়োগকারীর জন্য কেনা সহজ করতে।
- লেনদেন ও তারল্য বাড়াতে।
স্প্লিট নিজে কোম্পানির মূল্য বাড়ায় না। স্প্লিটের খবরে দাম বাড়লে সেটি বাজারের প্রত্যাশার প্রভাব, কোম্পানির কোনো আসল মূল্যবৃদ্ধি নয়।
শেয়ারবাজার ও মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগে ঝুঁকি আছে। এই টুলের ফল ধারণা পাওয়ার জন্য, বিনিয়োগ পরামর্শ নয়। সিদ্ধান্তের আগে কোম্পানির ঘোষণা, ব্রোকার বা যোগ্য উপদেষ্টার সঙ্গে যাচাই করুন।