সোলার প্যানেলে কত সাশ্রয় হয়?
সোলার প্যানেল রোদ থেকে বিদ্যুৎ তৈরি করে, ফলে গ্রিড থেকে কেনা ইউনিট কমে যায়। শুরুতে খরচ বেশি হলেও প্রতি মাসে বিদ্যুৎ বিলে সাশ্রয় হয়, আর কয়েক বছরে খরচ উঠে আসে। কত বছরে ও কত লাভে সেটি নির্ভর করে সিস্টেমের আকার, রোদের পরিমাণ, বিদ্যুতের দাম ও বসানোর খরচের ওপর। এই টুল সেই হিসাবটি সহজ করে দেয়।
হিসাবের সূত্র
- বার্ষিক উৎপাদন (ইউনিট) = কিলোওয়াট × দিনে রোদের ঘণ্টা × ৩৬৫ × কার্যকারিতা।
- বার্ষিক সাশ্রয় = উৎপাদিত ও ব্যবহৃত ইউনিট × ইউনিটপ্রতি দাম − রক্ষণাবেক্ষণ।
- ব্যবহারের চেয়ে বেশি উৎপাদন হলে বাড়তি অংশ সাশ্রয়ে ধরা হয় না (নেট মিটারিং বাদে)।
- প্রতি বছর উৎপাদন সামান্য কমে এবং বিদ্যুতের দাম বাড়ে ধরে ২৫ বছরের হিসাব হয়।
উদাহরণ
৩ কিলোওয়াট সিস্টেম, দিনে ৪.৫ ঘণ্টা রোদ ও ৭৮% কার্যকারিতায় বছরে উৎপাদন প্রায় ৩,৮৪৩ ইউনিট, অর্থাৎ মাসে প্রায় ৩২০ ইউনিট। ইউনিটপ্রতি ৳ ৯ ও বছরে ৳ ২,০০০ রক্ষণাবেক্ষণ ধরলে মাসিক সাশ্রয় প্রায় ৳ ২,৭১৬ এবং ৳ ২,১০,০০০ খরচ উঠতে প্রায় ৬ বছর লাগে। সব সংখ্যা শুধু নমুনা।
কীভাবে ব্যবহার করবেন
- সিস্টেমের আকার কিলোওয়াটে ও বসাতে মোট খরচ দিন।
- আপনার বিদ্যুৎ বিল থেকে ইউনিটপ্রতি গড় দাম বসান।
- রোদের ঘণ্টা ও কার্যকারিতা নিজের এলাকা অনুযায়ী ঠিক করুন।
- অ্যাডভান্সড সেটিংসে মাসিক ব্যবহার, উৎপাদন কমা ও দাম বাড়ার হার দিন।
উৎপাদনে প্রভাব ফেলে যা
- ছাদের দিক ও ঢাল, আর গাছ বা ভবনের ছায়া।
- ধুলা বা ময়লা জমলে প্যানেলের কার্যকারিতা কমে, তাই নিয়মিত পরিষ্কার করুন।
- বর্ষা ও মেঘলা দিনে উৎপাদন কমে, তাই বছরের গড় ধরা হয়।
- ইনভার্টার, তার ও ব্যাটারির মান।
বসানোর আগে যাচাই করুন
- একাধিক সরবরাহকারীর কাছ থেকে প্যানেল, ইনভার্টার ও ওয়ারেন্টির দাম তুলনা করুন।
- নেট মিটারিং বা সরকারি সুবিধা আপনার এলাকায় আছে কি না খোঁজ নিন।
- ব্যাটারি লাগালে খরচ ও পেব্যাক সময় আলাদাভাবে ধরুন।
সাধারণ ভুল
- সম্পূর্ণ রোদের ঘণ্টার বদলে দিনের মোট ঘণ্টা ধরা।
- নিজের ব্যবহারের চেয়ে বেশি আকারের সিস্টেমে সাশ্রয় বেশি ধরা।
- রক্ষণাবেক্ষণ ও ইনভার্টার বদলের খরচ না ধরা।
বাংলাদেশ ও কলকাতা-পশ্চিমবঙ্গের ব্যবহারকারীদের জন্য
দুই এলাকাতেই রোদ ও বিদ্যুতের দাম আলাদা। বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের অনেক জায়গায় দিনে ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা পূর্ণ রোদ একটি সাধারণ অনুমান, তবে নিজের এলাকার তথ্য দেখে বসান। ইউনিটের দাম নিজের বিল থেকে নিন। কলকাতা বা পশ্চিমবঙ্গের ব্যবহারকারীরা পর্দার ৳ চিহ্নকে রুপির অঙ্ক ধরে নিতে পারেন।
এই টুলের ফলাফল ধারণা পাওয়ার জন্য। বাস্তব হার, কর ও নিয়ম প্রতিষ্ঠানভেদে আলাদা, তাই সিদ্ধান্তের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক, ব্রোকার বা বিশেষজ্ঞের সাথে যাচাই করুন।