বাড়ি কিনব নাকি ভাড়া থাকব?
নিজের বাড়ি বা ফ্ল্যাট কেনা অনেকের স্বপ্ন, কিন্তু আর্থিকভাবে সবসময় ভাড়া থাকার চেয়ে ভালো নাও হতে পারে। কেনার সময় ডাউন পেমেন্ট, রেজিস্ট্রেশন খরচ, মাসিক কিস্তি ও রক্ষণাবেক্ষণ লাগে। বিপরীতে ভাড়ায় থাকলে মাসিক ভাড়া দিতে হয়, কিন্তু ডাউন পেমেন্টের টাকা অন্যত্র বিনিয়োগ করা যায়। এই টুল দুই পথের নিট খরচ বছরের পর বছর তুলনা করে দেখায়।
হিসাবের পদ্ধতি
- কেনার নিট খরচ = ডাউন পেমেন্ট + কেনার খরচ + মোট কিস্তি + রক্ষণাবেক্ষণ − (বিক্রয়মূল্য − বিক্রির খরচ − বাকি ঋণ)। অর্থাৎ শেষে হাতে আসা মূল্য বাদ দেওয়া হয়।
- ভাড়ার নিট খরচ = মোট ভাড়া − ডাউন পেমেন্ট ও কেনার খরচের টাকা বিনিয়োগে যে লাভ হতো তা।
- ভাড়া প্রতি বছর নির্ধারিত হারে বাড়ে এবং সম্পত্তির দামও নির্ধারিত হারে বাড়ে ধরা হয়।
উদাহরণ
৳ ৬০,০০,০০০ দামের ফ্ল্যাট, ২০% ডাউন পেমেন্ট, ১০% সুদে ২০ বছরের ঋণ, মাসিক ভাড়া ৳ ২৫,০০০ (বছরে ৫% বাড়ে) ও সম্পত্তির দাম বছরে ৫% বাড়লে ১০ বছরের তুলনায় কেনার নিট খরচ প্রায় ৳ ১৫,৪৩,১২৮ ও ভাড়ার নিট খরচ প্রায় ৳ ২১,৪৮,৫৫৩, অর্থাৎ কেনা প্রায় ৳ ৬,০৫,৪২৬ সাশ্রয়ী এবং ৮ বছর পর থেকে কেনা সস্তা হয়। সম্পত্তির দাম একেবারেই না বাড়লে (০% ধরলে) একই ১০ বছরে ভাড়ায় থাকা সাশ্রয়ী হয়। তাই অনুমানগুলো বদলে দেখুন। সব সংখ্যা শুধু নমুনা।
কীভাবে ব্যবহার করবেন
- সম্পত্তির দাম, ডাউন পেমেন্ট ও গৃহঋণের হার ও মেয়াদ দিন।
- এই এলাকায় একই ধরনের বাসার মাসিক ভাড়া ও বাড়ার হার দিন।
- সম্পত্তির দাম বছরে কত বাড়বে তার সতর্ক অনুমান বসান।
- অ্যাডভান্সড সেটিংসে বিনিয়োগের রিটার্ন, রক্ষণাবেক্ষণ ও কেনা-বেচার খরচ ঠিক করুন।
যা এই হিসাব ধরে না
- নিজের বাড়ির মানসিক শান্তি, নিরাপত্তা ও নিজের মতো সাজানোর স্বাধীনতা।
- ভাড়াটিয়ার মাসিক সাশ্রয় বিনিয়োগ করলে যে বাড়তি লাভ হতো।
- গৃহঋণের সুদে কর ছাড়ের মতো সুবিধা।
- চাকরির কারণে বারবার শহর বদলালে কেনা বাড়ি আটকে যাওয়ার ঝুঁকি।
সিদ্ধান্তের আগে ভাবুন
- কত বছর একই জায়গায় থাকবেন। কম সময় থাকলে কেনার খরচ উঠে আসে না।
- কিস্তির পর মাসিক খরচ চালিয়ে জরুরি তহবিল রাখতে পারবেন কি না।
- সম্পত্তির দাম সবসময় বাড়বে এমন নিশ্চয়তা নেই।
সাধারণ ভুল
- শুধু কিস্তি আর ভাড়া তুলনা করা, ডাউন পেমেন্ট ও কেনার খরচ বাদ দেওয়া।
- সম্পত্তির দাম অনেক বেশি হারে বাড়বে ধরে নেওয়া।
- রক্ষণাবেক্ষণ ও বিক্রির খরচ ভুলে যাওয়া।
বাংলাদেশ ও কলকাতা-পশ্চিমবঙ্গের ব্যবহারকারীদের জন্য
ঢাকা, চট্টগ্রাম, কলকাতা বা পশ্চিমবঙ্গের শহরে ভাড়া ও সম্পত্তির দামের অনুপাত এলাকাভেদে অনেক আলাদা। তাই নিজের এলাকার আসল ভাড়া ও দাম বসান। পর্দায় ৳ চিহ্ন থাকলেও কলকাতা-পশ্চিমবঙ্গের ব্যবহারকারীরা রুপির অঙ্ক বসিয়ে একই হিসাব পাবেন। গৃহঋণের কিস্তি আলাদা করে দেখতে ইএমআই ক্যালকুলেটর ব্যবহার করুন।
এই টুলের ফলাফল ধারণা পাওয়ার জন্য। বাস্তব হার, কর ও নিয়ম প্রতিষ্ঠানভেদে আলাদা, তাই সিদ্ধান্তের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক, ব্রোকার বা বিশেষজ্ঞের সাথে যাচাই করুন।