QR কোড হলো এমন একটি বর্গাকার ছবি, যা ফোনের ক্যামেরা দিয়ে স্ক্যান করলে ভেতরের লেখা, লিংক বা তথ্য সঙ্গে সঙ্গে খুলে যায়। দোকানের কাউন্টার, রেস্তোরাঁর মেনু, ভিজিটিং কার্ড, ওয়াইফাই পাসওয়ার্ড, সোশ্যাল পেজ বা পোস্টারে এর ব্যবহার সবচেয়ে বেশি। এই টুলে বানানো কোড স্ট্যাটিক, অর্থাৎ তথ্য কোডের ভেতরেই লেখা থাকে। তাই কোনো মেয়াদ নেই, আমাদের সাইট বন্ধ হলেও কোড কাজ করবে।
- ওয়েবসাইট বা লিংক: ফেসবুক পেজ, গুগল ম্যাপ, মেনু বা যেকোনো ওয়েবসাইট। http না লিখলে নিজে https যোগ হয়।
- বিকাশ বা নগদ নম্বর: স্ক্যান করলে সেবার নাম ও নম্বর লেখা আকারে দেখা যায়। এটি পেমেন্ট লিংক নয় এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের মার্চেন্ট পেমেন্ট QR-এর বিকল্পও নয়। গ্রাহক নম্বর দেখে নিজে পাঠাবেন।
- ওয়াইফাই: স্ক্যান করলেই ফোন নেটওয়ার্কে যুক্ত হওয়ার প্রস্তাব দেয়। অতিথিকে পাসওয়ার্ড বলার ঝামেলা থাকে না।
- হোয়াটসঅ্যাপ: নম্বরসহ চ্যাট খোলে, চাইলে আগে থেকে লেখা বার্তাসহ।
- ফোন কল: স্ক্যান করলে ডায়ালারে নম্বর আসে।
- কন্টাক্ট কার্ড: নাম, প্রতিষ্ঠান, পদবি, ফোন, ইমেইল, ওয়েবসাইট ও ঠিকানা সরাসরি ফোনের কন্টাক্টে সংরক্ষণ করা যায় (ভিকার্ড)।
- এসএমএস ও ইমেইল: প্রাপক ও বার্তাসহ মেসেজ বা মেইল লেখার পাতা খোলে।
- সাধারণ লেখা: যেকোনো লেখা।
- প্রথমে QR কোড কী করবে তা বেছে নিন, তারপর সংশ্লিষ্ট ঘরগুলো পূরণ করুন। ডানে কোড নিজে থেকে বদলাবে।
- বাংলাদেশের নম্বর হলে ০১XXXXXXXXX লিখলেই চলবে, দেশের কোড নিজে যোগ হবে।
- চাইলে হেডিং ও ক্যাপশন দিন, স্টাইল ও রঙ বদলান, মাঝখানে লোগো বসান।
- PNG বা SVG নামান, অথবা "প্রিন্ট কার্ড" চেপে টেবিল বা কাউন্টারের কার্ড প্রিন্ট করুন।
- গাঢ় কোড, হালকা পটভূমি সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য। উল্টো রঙ বা কাছাকাছি রঙ বেছে নিলে অনেক ফোন স্ক্যান করতে পারে না।
- লেখা যত ছোট, কোড তত সহজ। বড় লিংক ঘন কোড বানায়। সম্ভব হলে ছোট লিংক ব্যবহার করুন।
- ছাপানোর সাইজ: কোড অন্তত ২ সেমি, দূর থেকে স্ক্যান করতে হলে আরও বড় রাখুন। চারপাশের সাদা ফাঁকা জায়গা কাটবেন না।
- লোগো ও ডটস স্টাইল: লোগো দিলে এরর কারেকশন সর্বোচ্চ হয়, তবু ছাপার আগে নিজের ও আরেকজনের ফোনে স্ক্যান করে যাচাই করুন।
- ওয়াইফাই QR-এ পাসওয়ার্ড কোডেই থাকে, তাই যে জায়গায় যে কেউ ছবি তুলতে পারে সেখানে লাগাবেন না।
PNG সাধারণ ব্যবহারে (সোশ্যাল মিডিয়া, ডকুমেন্ট) ভালো। SVG ছবির মান না হারিয়ে যেকোনো সাইজে বড় করা যায়, ব্যানার বা ছাপার কাজে এটিই ভালো। "প্রিন্ট কার্ড" হেডিং, কোড ও ক্যাপশনসহ বর্ডার দেওয়া একটি কার্ড প্রিন্ট করে। PDF চাইলে প্রিন্ট ডায়ালগে "Save as PDF" বেছে নিন এবং "Headers and footers" বন্ধ রাখুন।
সব কাজ আপনার ব্রাউজারেই হয়। আপনার লেখা, পাসওয়ার্ড বা লোগো আমাদের সার্ভারে পাঠানো হয় না, কোথাও সংরক্ষিতও হয় না। পাতা বন্ধ করলে সব মুছে যায়।
এই টুল QR কোড বানানোর সহায়ক। গুরুত্বপূর্ণ কাজে (যেমন পেমেন্ট বা ছাপা সামগ্রী) প্রকৃত ব্যবহারের আগে নিজে স্ক্যান করে ঠিক আছে কি না দেখে নিন।