পারচেজ অর্ডার কেন দরকার
মুখে বা মেসেজে অর্ডার দিলে পরে দাম, পরিমাণ বা সরবরাহের তারিখ নিয়ে মতভেদ হতে পারে। লিখিত পারচেজ অর্ডার থাকলে দুই পক্ষই জানে কী কেনা হচ্ছে, কত দামে ও কবে আসবে। অ্যাকাউন্টসে ইনভয়েস মেলানো, ব্যাংকের কাছে খরচের প্রমাণ দেখানো বা বড় সরবরাহকারীর কাছে আস্থা তৈরিতেও এটি কাজে লাগে। ছোট দোকান থেকে শুরু করে অফিস, সবার জন্য একটি পরিষ্কার পিও দরকার।
পিওতে কী কী থাকা উচিত
- ক্রেতার পরিচয়: ব্যবসার নাম, ঠিকানা, ফোন, প্রয়োজনে বিআইএন বা ট্রেড লাইসেন্স নম্বর।
- সরবরাহকারীর পরিচয়: নাম, যোগাযোগকারী ব্যক্তি, ঠিকানা ও ফোন।
- পিও নম্বর ও তারিখ: ধারাবাহিক নম্বর, অর্ডারের তারিখ ও সরবরাহের শেষ তারিখ।
- আইটেমের তালিকা: বিবরণ, পরিমাণ, একক, একক মূল্য ও মোট।
- মোট হিসাব: উপমোট, ছাড়, ভ্যাট বা কর, পরিবহন খরচ ও চূড়ান্ত মোট, সঙ্গে কথায় লেখা।
- ডেলিভারির ঠিকানা: গুদাম বা শাখা আলাদা হলে সেখানকার ঠিকানা।
- পরিশোধের শর্ত ও অন্যান্য শর্ত: যেমন ৩০ দিনের বাকি, ক্ষতিগ্রস্ত মাল ফেরত।
- স্বাক্ষর: প্রস্তুতকারী ও অনুমোদনকারীর।
মোট হিসাবের নিয়ম
অর্ডার মোট = (আইটেমের যোগফল − ছাড়) + ভ্যাট + পরিবহন খরচ
| আইটেম | পরিমাণ | একক মূল্য | মোট |
|---|---|---|---|
| A4 পেপার ৮০ জিএসএম | ৫০ রিম | ৫২০ | ২৬,০০০ |
| থার্মাল রিসিপ্ট রোল ৮০ মিমি | ১০০ রোল | ৮৫ | ৮,৫০০ |
| উপমোট | ৩৪,৫০০ |
এখন ধরুন ৫০০ টাকা ছাড় আছে এবং ১৫% ভ্যাট ধরা হলো। ছাড়ের পর ৩৪,০০০ টাকা, ভ্যাট ৩৪,০০০ × ১৫% = ৫,১০০ টাকা। ৬০০ টাকা পরিবহন যোগ করলে অর্ডার মোট হবে ৩৪,০০০ + ৫,১০০ + ৬০০ = ৩৯,৭০০ টাকা। ভ্যাট বা করের হার আপনার পণ্য ও দেশের নিয়ম অনুযায়ী নিজে বসাতে হবে, টুল হার ঠিক করে দেয় না।
ব্যবহারের ধাপ
- ডকুমেন্টের ভাষা (English বা বাংলা) ও রং বাছুন। চাইলে নিজের লোগো দিন।
- ব্যবসার তথ্য একবার দিন, পরে ব্রাউজার মনে রাখবে।
- সরবরাহকারীর নাম ও ঠিকানা দিন। ডেলিভারি অন্য জায়গায় হলে “ডেলিভারির ঠিকানা” লিখুন।
- পিও নম্বর, তারিখ, ডেলিভারির তারিখ, মুদ্রা ও পরিশোধের শর্ত দিন।
- আইটেম যোগ করুন বা এক্সেল থেকে পেস্ট করুন। ছাড়, ভ্যাট ও পরিবহন খরচ থাকলে লিখুন।
- শর্তাবলী নিজের মতো বদলে নিন, প্রিভিউ দেখে “PDF / প্রিন্ট” চাপুন।
ভালো প্রিন্টের টিপস
- প্রিন্ট ডায়ালগে কাগজ A4, স্কেল ১০০% (Actual size) এবং “Background graphics” চালু রাখুন, নইলে টেবিলের রং ছাপা হবে না।
- PDF সেভ করতে প্রিন্টারের জায়গায় “Save as PDF” বাছুন।
- প্রিন্ট করে দুই পক্ষ স্বাক্ষর করুন। এক কপি নিজে রাখুন, এক কপি সরবরাহকারীকে দিন।
- পিও নম্বর ধারাবাহিক রাখুন, “নতুন অর্ডার” বাটন এটি নিজে করে দেয়।
- বড় অর্ডারের আইটেম আগে এক্সেলে সাজিয়ে পেস্ট করলে সময় বাঁচে।
সীমাবদ্ধতা
এই টুল একটি সহজ পারচেজ অর্ডার তৈরি করে, এটি চুক্তি বা আইনি পরামর্শের বিকল্প নয়। দাম, ভ্যাট ও পরিমাণ আপনি নিজে দেন, টুল সেগুলো যাচাই করে না, তাই ছাপার আগে একবার মিলিয়ে নিন। সর্বোচ্চ ১০০টি আইটেম চলে এবং কাগজ শুধু A4। ছাড় টাকার অঙ্কে দিতে হয়, শতাংশে নয়।