মুনাফা মার্জিন ও মার্কআপ কী?
ব্যবসায় লাভ কত হচ্ছে তা বোঝার সবচেয়ে সাধারণ দুটি উপায় হলো মুনাফা মার্জিন ও মার্কআপ। দুটিই শতাংশ, কিন্তু ভিত্তি আলাদা। মার্জিন বিক্রয়মূল্যের কত অংশ লাভ তা বলে, আর মার্কআপ খরচের ওপর কত শতাংশ যোগ করা হয়েছে তা বলে। এই দুটি গুলিয়ে ফেলা ছোট ব্যবসায় দাম নির্ধারণে ভুলের বড় কারণ।
হিসাবের সূত্র
- মুনাফা = বিক্রয়মূল্য − খরচ।
- মুনাফা মার্জিন = মুনাফা ÷ বিক্রয়মূল্য × ১০০।
- মার্কআপ = মুনাফা ÷ খরচ × ১০০।
- লক্ষ্য মার্জিন থেকে বিক্রয়মূল্য = খরচ ÷ (১ − মার্জিন ÷ ১০০)।
- মার্জিন থেকে সর্বোচ্চ খরচ = বিক্রয়মূল্য × (১ − মার্জিন ÷ ১০০)।
উদাহরণ
খরচ ৳ ৮০০ ও বিক্রয়মূল্য ৳ ১,০০০ হলে মুনাফা ৳ ২০০, মার্জিন ২০% ও মার্কআপ ২৫%। ১০০টি বিক্রিতে মোট মুনাফা ৳ ২০,০০০। ৫০% মার্জিন পেতে ৳ ৮০০ খরচের জিনিস ৳ ১,৬০০-তে বেচতে হয়, যা ১০০% মার্কআপ।
কীভাবে ব্যবহার করবেন
- কী হিসাব করবেন তা বাছুন।
- খরচ ও বিক্রয়মূল্য দিন, অথবা লক্ষ্য মার্জিন দিন।
- কত একক বিক্রি করবেন দিলে মোট বিক্রয় ও মোট মুনাফাও দেখা যাবে।
- নিচের তালিকায় একই খরচে বিভিন্ন মার্জিনে কত দাম রাখতে হবে দেখুন।
মার্জিন আর মার্কআপের তফাত
খরচের ওপর ২৫% যোগ করলে মার্কআপ ২৫%, কিন্তু মার্জিন ২০%। কারণ মার্জিনের ভিত্তি বিক্রয়মূল্য, যা খরচের চেয়ে বড়। তাই মার্কআপ সবসময় মার্জিনের চেয়ে বেশি দেখায়। ৫০% মার্জিন পেতে ১০০% মার্কআপ লাগে।
মার্জিন বাড়ানোর উপায়
- পণ্যের কেনা খরচ কমাতে সরবরাহকারীর সঙ্গে দরদাম বা পাইকারি কেনা।
- দাম সামান্য বাড়ানো, যদি বাজারে তা সম্ভব হয়।
- অপচয়, পরিবহন ও অন্যান্য ব্যয় কমানো।
- বেশি মার্জিনের পণ্যের বিক্রি বাড়ানো।
সাধারণ ভুল
- মার্জিন ও মার্কআপ একই ভাবা।
- শুধু পণ্যের কেনা খরচ ধরা, ভাড়া, বেতন ও বিলের মতো অন্য খরচ ভুলে যাওয়া।
- ছাড় দেওয়ার পরের দাম না ধরে মার্জিন হিসাব করা।
বাংলাদেশ ও কলকাতা-পশ্চিমবঙ্গের ব্যবহারকারীদের জন্য
দুই দেশেই দোকান, অনলাইন ব্যবসা ও ছোট শিল্পে এই হিসাব প্রতিদিন কাজে লাগে। ভ্যাট বা জিএসটি আলাদা খাত, তাই বিক্রয়মূল্যে কর ছাড়া দাম বসান। মুদ্রা ঘরে টাকা, রুপি বা ডলার বেছে নিন।
এই টুলের ফলাফল ধারণা পাওয়ার জন্য। বাস্তব হার, কর ও নিয়ম প্রতিষ্ঠানভেদে আলাদা, তাই সিদ্ধান্তের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক, ব্রোকার বা বিশেষজ্ঞের সাথে যাচাই করুন।