প্রাইস ট্যাগ কেন দরকার
পরিষ্কার দামের ট্যাগ ক্রেতাকে পণ্য বেছে নিতে সাহায্য করে এবং দাম নিয়ে প্রশ্ন ও ভুল বোঝাবুঝি কমায়। ছাড়ের অফার থাকলে বড় করে এমআরপি কাটা দাম ও ছাড়ের শতাংশ দেখালে বিক্রি বাড়তে পারে। মুদি দোকান, ফার্মেসি, কসমেটিকস, কাপড় বা ইলেকট্রনিক্সের দোকান, সবার জন্য এই টুল কাজে লাগে। হাতে লেখার বদলে ছাপা ট্যাগ দেখতে পেশাদার লাগে এবং বারকোড থাকলে বিলিংও দ্রুত হয়।
তিন ধরনের ট্যাগ
- শেলফ লেবেল: বাঁ পাশে রঙিন দাগ, বড় করে দাম, কোণায় ছাড়ের ব্যাজ। শেলফের কিনারায় লাগানোর জন্য ভালো।
- প্রাইস ট্যাগ: রঙিন হেডারসহ বক্স, মাঝখানে দাম। পণ্যে বা প্যাকেটে লাগানোর জন্য।
- অফার ট্যাগ: পুরো ট্যাগ রঙিন, “অফার” লেখা ও বড় ছাড়ের ব্যাজ। বিশেষ ছাড় বা সেলের জন্য।
A4 শিটের বিন্যাস
এক A4 পাতায় কতগুলো ট্যাগ ধরবে, তা বেছে নিন। বেশি ট্যাগ মানে ছোট মাপ। নিচের মাপগুলো প্রিন্টারের কিনারা বাদ দিয়ে নিরাপদ মার্জিনসহ।
| প্রতি পাতায় | কলাম × সারি | ট্যাগের মাপ | কোন কাজে ভালো |
|---|---|---|---|
| ১টি | ১ × ১ | ২০০ × ২৮৭ মিমি | বড় পোস্টার বা ডিসপ্লে |
| ২টি | ১ × ২ | ২০০ × ১৪৪ মিমি | বড় অফার বা উইন্ডো ট্যাগ |
| ৪টি | ২ × ২ | ১০০ × ১৪৪ মিমি | শেলফ ও কাউন্টার ডিসপ্লে |
| ৮টি | ২ × ৪ | ১০০ × ৭২ মিমি | মাঝারি শেলফ লেবেল |
| ১২টি | ৩ × ৪ | ৬৬ × ৬৮ মিমি | গ্রোসারি শেলফ লেবেল |
| ২১টি | ৩ × ৭ | ৬৭ × ৪০ মিমি | ছোট প্যাকেট ও ফার্মেসি |
| ২৪টি | ৩ × ৮ | ৬৭ × ৩৬ মিমি | ছোট পণ্য, কসমেটিকস |
| ৪০টি | ৪ × ১০ | ৫০ × ২৮ মিমি | ছোট দামের স্টিকার |
ছাড়ের শতাংশ হিসাব
ছাড় % = (এমআরপি − বিক্রয় দাম) ÷ এমআরপি × ১০০
| এমআরপি | বিক্রয় দাম | সঠিক হিসাব | ব্যাজ |
|---|---|---|---|
| ৪৫০ | ৪২০ | ৬.৬৭% | ৭% ছাড় |
| ৯২২ | ৯০৫ | ১.৮৪% | ২% ছাড় |
| ২২৫ | ১৮০ | ২০% | ২০% ছাড় |
শতাংশ নিকটতম পূর্ণ সংখ্যায় দেখানো হয়। ছাড় ১%-এর কম হলে ব্যাজ আসে না।
বারকোডের ধরন
- EAN-13: ১৩ অঙ্কের সংখ্যা, শেষ অঙ্কটি চেক-ডিজিট। টুল চেক-ডিজিট মিলিয়ে দেখে। ভুল হলে কোডটিকে Code 128 হিসেবে ছাপে, যাতে আপনি যা লিখেছেন ঠিক সেটিই স্ক্যানে আসে।
- UPC-A: ১২ অঙ্কের সংখ্যা।
- Code 128: নিজের দোকানের SKU বা যেকোনো ইংরেজি অক্ষর-সংখ্যার কোড, যেমন SKU10045।
বারকোড অন্তত ২৫ মিমি চওড়া হলে ভালো স্ক্যান হয়। খুব ছোট ট্যাগের (২৪টি বা ৪০টি) বারকোড ছোট হয়ে স্ক্যানারে সমস্যা করতে পারে, তাই ছাপার পর পরীক্ষা করুন।
এক্সেল থেকে পেস্টের ফরম্যাট
প্রতিটি সারিতে ছয়টি ঘর, এই ক্রমে: নাম, দাম, এমআরপি, একক, কপি, বারকোড। মাঝের ঘর ফাঁকা রাখা যায়।
| নাম | দাম | এমআরপি | একক | কপি | বারকোড |
|---|---|---|---|---|---|
| মিনিকেট চাল | ৪২০ | ৪৫০ | ৫ কেজি | ৩ | 8901234567890 |
| মসুর ডাল | ১৩৫ | প্রতি কেজি | ২ |
ভালো প্রিন্টের টিপস
- প্রিন্ট ডায়ালগে কাগজ A4, স্কেল ১০০% (Actual size) এবং “Background graphics” চালু রাখুন।
- আগে সাধারণ কাগজে একটি পাতা ছেপে মাপ ও বারকোড দেখে নিন।
- কাটার সুবিধার জন্য “ড্যাশ কাটার দাগ” চালু রাখুন, ছাপা শেষে সেটি বন্ধ করে আবার ছাপতে পারেন।
- শেষ পাতা অর্ধেক ফাঁকা থাকলে “শেষ পাতার বাকি ঘর শেষ পণ্যের কপি দিয়ে ভরুন” অপশন কাজে লাগে।
- লেমিনেশন করলে ট্যাগ বেশিদিন টেকে। লম্বা পণ্যনাম হলে ছোট করে লিখুন, নইলে দুই লাইনের পর কেটে যায়।
সীমাবদ্ধতা
এই টুল শুধু A4 পোর্ট্রেট কাগজের জন্য। থার্মাল লেবেল প্রিন্টারের রোল লেবেলের নির্দিষ্ট মাপ এখানে নেই। দাম ও এমআরপি আপনি নিজে দেন, টুল সেগুলো যাচাই করে না, তাই ছাপার আগে একবার মিলিয়ে নিন।