বর্তমান মূল্য কী?
আজকের ১ লাখ টাকা আর ১০ বছর পরের ১ লাখ টাকা সমান নয়। আজকের টাকা বিনিয়োগ করে সুদ বা লাভ পাওয়া যায়, তাই ভবিষ্যতের টাকার মূল্য আজকের হিসাবে কম। ভবিষ্যতে পাওয়া কোনো টাকা বা কিস্তির ধারার আজকের হিসাবে মূল্যকে বর্তমান মূল্য (Present Value) বলে। বীমা, পেনশন, ব্যবসা বা সম্পত্তি বিক্রির প্রস্তাব কতটা লাভজনক তা তুলনা করতে এই হিসাব কাজে লাগে।
হিসাবের সূত্র
- এককালীন টাকার বর্তমান মূল্য = ভবিষ্যৎ টাকা ÷ (১ + r ÷ k)k × বছর।
- নিয়মিত কিস্তির বর্তমান মূল্য = কিস্তি × (১ − (১ + g)−N) ÷ g, যেখানে g প্রতি কিস্তি-মেয়াদের সমতুল্য হার ও N মোট কিস্তির সংখ্যা।
- কিস্তি মেয়াদের শুরুতে এলে ফলকে (১ + g) দিয়ে গুণ করা হয়।
- মোট বর্তমান মূল্য = এককালীন অংশ + কিস্তির অংশ।
উদাহরণ
১০ বছর পরে ৳ ১০,০০,০০০ পাবেন এবং ৮% ছাড়ের হার (মাসিক চক্রবৃদ্ধি) ধরলে এর বর্তমান মূল্য প্রায় ৳ ৪,৫০,৫২৩। ছাড়ের হার ১০% হলে ৳ ৩,৬৯,৪০৭ ও ৫% হলে ৳ ৬,০৭,১৬১। আবার প্রতি মাসের শেষে ৳ ১০,০০০ করে ১০ বছর পেলে (মোট ৳ ১২,০০,০০০) বর্তমান মূল্য প্রায় ৳ ৮,২৪,২১৫, আর মাসের শুরুতে পেলে ৳ ৮,২৯,৭১০। হারগুলো শুধু নমুনা।
কীভাবে ব্যবহার করবেন
- ভবিষ্যতে পাবেন এমন এককালীন টাকা দিন। শুধু নিয়মিত কিস্তির হিসাব করতে এটি ০ রাখুন।
- নিয়মিত কিস্তি থাকলে তার অঙ্ক, কত ঘন ঘন আসে এবং মেয়াদের শুরুতে না শেষে তা বাছুন।
- আপনার প্রত্যাশিত রিটার্ন বা ছাড়ের হার ও বছর দিন।
- নিচে বিভিন্ন হারে বর্তমান মূল্য তুলনা করুন।
ছাড়ের হার কত ধরবেন?
ছাড়ের হার হলো আজকের টাকা অন্যত্র বিনিয়োগ করলে আপনি যে রিটার্ন পেতেন তার অনুমান। নিরাপদ এফডির হার ধরলে হিসাব রক্ষণশীল, আর ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগের হার ধরলে ভবিষ্যতের টাকার বর্তমান মূল্য আরও কমে। হার বদলে ফল কতটা বদলায় তা নিচের তালিকায় দেখুন।
কোথায় কাজে লাগে
- এককালীন টাকা এখন নেবেন নাকি কিস্তিতে পরে, সেই সিদ্ধান্তে।
- বিমা বা পেনশনের অফার তুলনায়।
- ভবিষ্যতের লক্ষ্যে আজ কত জমাতে হবে জানতে। উল্টো দিকের হিসাবে ফিউচার ভ্যালু ক্যালকুলেটর আছে।
সাধারণ ভুল
- ভবিষ্যতের টাকাকে আজকের মূল্যের সমান ভাবা।
- ছাড়ের হারে মূল্যস্ফীতি ও ঝুঁকি না ধরা।
- কিস্তি মেয়াদের শুরুতে না শেষে আসে তা না মেলানো।
বাংলাদেশ ও কলকাতা-পশ্চিমবঙ্গের ব্যবহারকারীদের জন্য
পেনশন, জীবন বিমার মেয়াদি টাকা, জমি বা ব্যবসা বিক্রির কিস্তি, এসবের তুলনায় দুই দেশেই এই গণিত একই। মুদ্রা ঘরে টাকা, রুপি বা ডলার বেছে নিন এবং ছাড়ের হার নিজের ব্যাংকের হার বা প্রত্যাশিত রিটার্ন অনুযায়ী দিন।
এই টুলের ফলাফল ধারণা পাওয়ার জন্য। বাস্তব হার, কর ও নিয়ম প্রতিষ্ঠানভেদে আলাদা, তাই সিদ্ধান্তের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক, ব্রোকার বা বিশেষজ্ঞের সাথে যাচাই করুন।