গর্ভাবস্থা ক্যালকুলেটর কী?
গর্ভাবস্থা ক্যালকুলেটর এমন একটি টুল, যা আপনার দেওয়া তারিখ থেকে প্রসবের আনুমানিক তারিখ (EDD), বর্তমান গর্ভকালীন সপ্তাহ ও ত্রৈমাসিক হিসাব করে। শেষ মাসিকের তারিখ, গর্ভধারণের তারিখ অথবা আল্ট্রাসাউন্ড রিপোর্ট, এই তিনটির যেকোনো একটি থাকলেই হিসাব করা যায়।
প্রসবের তারিখ কীভাবে হিসাব হয়?
গর্ভকাল ধরা হয় শেষ মাসিকের প্রথম দিন থেকে গড়ে ২৮০ দিন বা ৪০ সপ্তাহ। তিনটি পদ্ধতির হিসাব এরকম:
- শেষ মাসিক (LMP): প্রথম দিনের সাথে ২৮০ দিন যোগ করা হয়। চক্র ২৮ দিনের বেশি বা কম হলে সেই পার্থক্য যোগ বা বিয়োগ করা হয়। যেমন ৩৫ দিনের চক্রে ৭ দিন বেশি ধরা হয়।
- গর্ভধারণের তারিখ: গর্ভধারণ সাধারণত শেষ মাসিকের প্রায় দুই সপ্তাহ পরে হয়, তাই এই তারিখের সাথে ২৬৬ দিন যোগ করা হয়।
- আল্ট্রাসাউন্ড: রিপোর্টের গর্ভকালীন বয়সকে ২৮০ দিন থেকে বাদ দিয়ে বাকি দিন স্ক্যানের তারিখের সাথে যোগ করা হয়।
উদাহরণ
শেষ মাসিকের প্রথম দিন ১ জানুয়ারি ২০২৬ ও চক্র ২৮ দিন হলে প্রসবের আনুমানিক তারিখ ৮ অক্টোবর ২০২৬। একই মাসিকে চক্র ৩৫ দিন হলে তারিখ হয় ১৫ অক্টোবর ২০২৬। ১ মার্চ ২০২৬ তারিখের স্ক্যানে ৮ সপ্তাহ লেখা থাকলে তারিখ দাঁড়ায় ১১ অক্টোবর ২০২৬।
কীভাবে ব্যবহার করবেন
- উপরের ট্যাব থেকে আপনার জানা তথ্যের পদ্ধতি বাছুন।
- তারিখ ও প্রয়োজনীয় সংখ্যা দিন। ফল সঙ্গে সঙ্গে ডানে বা নিচে দেখা যাবে।
- নিচের টেবিলে ত্রৈমাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ সপ্তাহের তারিখ দেখে নিন।
তিন ত্রৈমাসিক
- প্রথম ত্রৈমাসিক (১–১৩ সপ্তাহ): শিশুর অঙ্গপ্রত্যঙ্গ গড়ে ওঠার শুরু। এ সময় বমি বমি ভাব ও ক্লান্তি সাধারণ।
- দ্বিতীয় ত্রৈমাসিক (১৪–২৭ সপ্তাহ): অনেকের শরীর তুলনামূলক স্বস্তিতে থাকে। শিশুর নড়াচড়া টের পাওয়া শুরু হয়।
- তৃতীয় ত্রৈমাসিক (২৮ সপ্তাহ থেকে প্রসব): শিশুর ওজন দ্রুত বাড়ে এবং প্রসবের প্রস্তুতি নেওয়ার সময়।
কোন পদ্ধতি বেশি নির্ভরযোগ্য?
মাসিক নিয়মিত ও তারিখ নিশ্চিত থাকলে LMP ভালো ধারণা দেয়। তবে তারিখ মনে না থাকলে বা চক্র অনিয়মিত হলে প্রথম ত্রৈমাসিকের আল্ট্রাসাউন্ড সাধারণত বেশি নির্ভরযোগ্য ধরা হয়। দুই হিসাবে বড় পার্থক্য থাকলে কোনটি মানবেন, তা আপনার চিকিৎসক ঠিক করবেন।
মনে রাখুন
খুব কম শিশুই ঠিক আনুমানিক তারিখে জন্মায়। সুস্থ গর্ভাবস্থায়ও প্রসব কয়েক দিন আগে বা পরে হতে পারে। তাই তারিখকে একটি আনুমানিক সময় ধরে প্রস্তুতি নিন।
দ্রুত টিপস
- নিয়মিত চিকিৎসকের কাছে চেকআপে যান।
- চিকিৎসকের পরামর্শমতো ফলিক অ্যাসিড ও প্রয়োজনীয় সাপ্লিমেন্ট নিন।
- রক্তপাত, তীব্র পেটব্যথা বা শিশুর নড়াচড়া কমে গেলে দেরি না করে হাসপাতালে যান।
- স্ক্যান ও পরীক্ষার তারিখ আগেভাগে লিখে রাখুন।
বাংলাদেশ ও কলকাতা-পশ্চিমবঙ্গের ব্যবহারকারীদের জন্য
প্রসবের তারিখের এই হিসাব বাংলাদেশ ও ভারত, দুই দেশেই একই পদ্ধতিতে করা হয়। ঢাকা, চট্টগ্রাম, কলকাতা বা হাওড়া, যেখানেই থাকুন, রিপোর্টের তারিখ বসিয়ে ফল দেখে নিন এবং নিজের চিকিৎসকের সাথে মিলিয়ে নিন।
এই টুলের ফলাফল শুধু ধারণার জন্য, কোনো চিকিৎসা পরামর্শ নয়। গর্ভাবস্থা সংক্রান্ত যেকোনো সিদ্ধান্তের আগে নিবন্ধিত চিকিৎসকের সাথে কথা বলুন।