রং করার আগে পেইন্টের হিসাব কেন?
পেইন্ট কম কিনলে মাঝপথে কাজ থামে, আর নতুন কৌটা কিনলে ব্যাচভেদে রঙের সামান্য তফাত হতে পারে। বেশি কিনলে টাকা পড়ে থাকে। রুমের মাপ ও কোটের সংখ্যা ধরে আগে থেকে হিসাব করলে সঠিক পরিমাণে কেনা যায়।
হিসাবের সূত্র
- দেয়ালের ক্ষেত্রফল = ২ × (দৈর্ঘ্য + প্রস্থ) × উচ্চতা − দরজা-জানালার ফাঁকা অংশ।
- ছাদেও রং করলে ছাদের ক্ষেত্রফল = দৈর্ঘ্য × প্রস্থ যোগ হয়।
- পেইন্ট (লিটার) = মোট ক্ষেত্রফল × কোট ÷ ১ লিটারের কভারেজ, তার সঙ্গে অপচয়।
- কৌটার আকার অনুযায়ী পূর্ণ সংখ্যায় কৌটা কিনতে হয়, তাই কেনা পেইন্ট একটু বেশি হতে পারে।
উদাহরণ
১২ × ১০ ফুট রুম, উচ্চতা ৯ ফুট, ফাঁকা অংশ ৪০ বর্গফুট, শুধু দেয়াল, ২ কোট ও ১০০ বর্গফুট কভারেজ ধরলে রং করার ক্ষেত্রফল ৩৫৬ বর্গফুট। অপচয় ১০% ধরে পেইন্ট লাগে প্রায় ৭.৮ লিটার, অর্থাৎ ৩.৬ লিটারের ৩টি কৌটা। লিটারপ্রতি ৳ ৫৫০ হলে খরচ প্রায় ৳ ৫,৯৪০। কভারেজ ও দাম শুধু নমুনা।
কীভাবে ব্যবহার করবেন
- রুমের দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও দেয়ালের উচ্চতা দিন এবং একক বাছুন।
- দরজা-জানালার মোট ফাঁকা অংশ বসান।
- কয়টি কোট দেবেন ও পেইন্টের কভারেজ লিখুন। কভারেজ কৌটার গায়ে লেখা থাকে।
- দাম ও কৌটার আকার দিলে কয় কৌটা লাগবে ও কত খরচ হবে দেখা যাবে।
কভারেজ কেন আলাদা হয়?
পেইন্টের ধরন, ব্র্যান্ড ও দেয়ালের অবস্থার ওপর কভারেজ নির্ভর করে। খসখসে বা নতুন প্লাস্টারের দেয়াল বেশি পেইন্ট শোষে। প্রাইমার বা পুটি দিলে পেইন্ট কম লাগে। তাই কৌটার গায়ের তথ্য দেখে নিজের কভারেজ বসানোই ভালো।
খরচ কমানোর টিপস
- নতুন দেয়ালে আগে প্রাইমার দিলে ফিনিশিং কোট কম লাগে।
- রং করার আগে ফাটল ও গর্ত মেরামত করুন।
- একসঙ্গে বড় কৌটা কিনলে লিটারপ্রতি দাম কম পড়তে পারে।
- একই রুমের সব পেইন্ট একই ব্যাচ থেকে নিন।
সাধারণ ভুল
- দরজা-জানালার ফাঁকা অংশ বাদ না দেওয়া।
- কোটের সংখ্যা না ধরে এক কোটের হিসাবে কেনা।
- কভারেজ প্রতি কোটের না ধরে মোট কভারেজ ধরা।
বাংলাদেশ ও কলকাতা-পশ্চিমবঙ্গের ব্যবহারকারীদের জন্য
দুই জায়গাতেই রুমের মাপ ফুটে এবং পেইন্ট লিটারে বিক্রি হয়। মিটারে মাপলে "মিটার" বেছে নিন। দাম টাকা বা রুপি যাই হোক, শুধু অঙ্কটি বসিয়ে হিসাব করা যাবে।
এই টুলের ফলাফল ধারণা পাওয়ার জন্য। বাস্তব হার, কর ও নিয়ম প্রতিষ্ঠানভেদে আলাদা, তাই সিদ্ধান্তের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক, ব্রোকার বা বিশেষজ্ঞের সাথে যাচাই করুন।