বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬-এর ধারা ১০৮ অনুযায়ী কোনো শ্রমিক দিনে বা সপ্তাহে নির্ধারিত কাজের ঘণ্টার বেশি কাজ করলে তিনি ওভারটাইম ভাতা পাবেন। ভাতার হার তাঁর সাধারণ হারের দ্বিগুণ। সাধারণ হার ধরা হয় মূল মজুরি, মহার্ঘ ভাতা (থাকলে) ও অ্যাড-হক বা অন্তর্বর্তী মজুরি (থাকলে) মিলিয়ে।
শ্রম বিধিমালার নিয়মে মাসিক মজুরির কর্মীর জন্য ঘণ্টাপ্রতি ওভারটাইম হার: (মূল মজুরি + মহার্ঘ ভাতা + অ্যাড-হক) ÷ ২০৮ × ২। ২০৮ ঘণ্টা আসে সপ্তাহে ৪৮ ঘণ্টা × (৫২ − ১২) সপ্তাহ ÷ ১২ মাস থেকে, অর্থাৎ এক মাসের স্ট্যান্ডার্ড কাজের ঘণ্টা। সাপ্তাহিক মজুরির কর্মীর ক্ষেত্রে ৪৮ ঘণ্টা এবং দৈনিক মজুরির কর্মীর ক্ষেত্রে ৮ ঘণ্টা দিয়ে ভাগ করা হয়।
একটি সাধারণ ভুল হলো বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা, যাতায়াত ইত্যাদি সব ভাতা ধরা মোট বেতনকে ২০৮ দিয়ে ভাগ করা। আইনে শুধু মূল মজুরি, মহার্ঘ ভাতা ও অ্যাড-হক ধরা হয়।
মূল মজুরি ২৪,০০০ ও মহার্ঘ ভাতা ৭,২০০ টাকা হলে মজুরির ভিত্তি ৩১,২০০ টাকা। ঘণ্টাপ্রতি সাধারণ হার ৩১,২০০ ÷ ২০৮ = ১৫০ টাকা। ওভারটাইম হার ৩০০ টাকা। ১৪ ঘণ্টা ওভারটাইম করলে ভাতা ১৪ × ৩০০ = ৪,২০০ টাকা।
- সাধারণত দিনে ৮ ঘণ্টা ও সপ্তাহে ৪৮ ঘণ্টা কাজ করানো যায়।
- ওভারটাইমসহ সপ্তাহে সর্বোচ্চ ৬০ ঘণ্টা এবং বছরের গড়ে সপ্তাহে ৫৬ ঘণ্টা সীমা আছে।
- পিস রেটে কাজ করা শ্রমিকদের ক্ষেত্রে এই দ্বিগুণ হারের নিয়ম একইভাবে প্রযোজ্য নয়।
- মজুরি কীভাবে পান (মাসিক, সাপ্তাহিক বা দৈনিক) তা বেছে নিন।
- মূল মজুরি, মহার্ঘ ভাতা ও অ্যাড-হক বসান।
- মাসে মোট কত ঘণ্টা ওভারটাইম করেছেন লিখুন।
- নিয়মিত মোট বেতন দিলে ওভারটাইমসহ মোট আয়ও দেখতে পাবেন।
কারখানা বা প্রতিষ্ঠানে পৃথক চুক্তি বা শ্রম আদালতের রায় থাকলে হিসাব আলাদা হতে পারে। বেতন স্লিপে লেখা ওভারটাইম হারের সাথে এই হিসাব না মিললে মানবসম্পদ বিভাগ বা শ্রম অধিদপ্তরের সাথে যোগাযোগ করুন।
এই টুলের ফলাফল ধারণা পাওয়ার জন্য। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা যোগ্য বিশেষজ্ঞের সঙ্গে যাচাই করুন।