নিট সম্পদ কী?
নিট সম্পদ বা নেট ওয়ার্থ হলো আপনার সব সম্পদের মোট মূল্য থেকে সব দেনা বাদ দিলে যা থাকে। মাসিক আয় কত তা দিয়ে নয়, নিট সম্পদ দিয়েই বোঝা যায় আপনি আসলে আর্থিকভাবে কতটা এগিয়েছেন। বছরে একবার হিসাব করলে সঞ্চয়ের অগ্রগতি, ঋণের চাপ ও সম্পদের ভারসাম্য এক নজরে ধরা পড়ে।
হিসাবের সূত্র
নিট সম্পদ = মোট সম্পদ − মোট দেনা। তরল সম্পদ বলতে নগদ, ব্যাংক, সঞ্চয়পত্র ও শেয়ারের মতো যা সহজে নগদে আনা যায় তা বোঝায়। দেনা ও সম্পদের অনুপাত = মোট দেনা ÷ মোট সম্পদ × ১০০।
উদাহরণ
মোট সম্পদ ৳ ৪৬,০০,০০০ ও মোট দেনা ৳ ১৭,৫০,০০০ হলে নিট সম্পদ ৳ ২৮,৫০,০০০। দেনা ও সম্পদের অনুপাত প্রায় ৩৮%। সংখ্যাগুলো শুধু নমুনা।
কীভাবে ব্যবহার করবেন
- নিজের সব সম্পদের বর্তমান বাজারমূল্য ঘরে ঘরে লিখুন।
- সব ঋণ ও বকেয়া দেনা লিখুন।
- চাইলে অ্যাডভান্সড সেটিংসে মাসিক খরচ দিন, তাহলে তরল সম্পদে কত মাস চলবে জানা যাবে।
- ডানে নিট সম্পদ ও নিচে সম্পদের ভাগ দেখুন।
কোন সম্পদ কীভাবে ধরবেন?
- বাড়ি, জমি ও গাড়ি কেনা দামে নয়, বর্তমান আনুমানিক বিক্রয়মূল্যে ধরুন।
- গৃহঋণের বকেয়া আসল ধরুন, মোট কিস্তির টাকা নয়।
- গহনা সোনার বর্তমান বাজারদরে ধরুন, মজুরি বাদ দিয়ে।
- ব্যবহারের জিনিস, যেমন আসবাব বা ফোন, সাধারণত ধরা হয় না।
নিট সম্পদ বাড়ানোর উপায়
- উচ্চ সুদের ঋণ, যেমন ক্রেডিট কার্ডের বকেয়া, আগে শোধ করুন।
- নিয়মিত সঞ্চয় ও বিনিয়োগ করুন এবং সম্পদ একাধিক খাতে ছড়িয়ে রাখুন।
- ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রেখে আয়ের চেয়ে কম খরচ করুন।
- ছয় মাস বা এক বছর পরপর হিসাবটি হালনাগাদ করুন।
সাধারণ ভুল
- সম্পদের দাম কেনা দামে ধরে নিট সম্পদ বেশি দেখা।
- ছোট দেনা, যেমন কার্ডের বকেয়া বা ধার, ভুলে যাওয়া।
- নিট সম্পদ বেশি দেখে ভাবা যে নগদ টাকাও যথেষ্ট, অথচ বেশির ভাগ সম্পদ জমিতে আটকে থাকতে পারে।
বাংলাদেশ ও কলকাতা-পশ্চিমবঙ্গের ব্যবহারকারীদের জন্য
বাংলাদেশে জমি-ফ্ল্যাট ও সঞ্চয়পত্র এবং পশ্চিমবঙ্গে জমি, এফডি ও সোনা সাধারণত পরিবারের বড় সম্পদ। তাই দুই জায়গাতেই এই খাতগুলো আলাদা ঘরে রাখা হয়েছে। পর্দায় ৳ চিহ্ন থাকলেও কলকাতা-পশ্চিমবঙ্গের ব্যবহারকারীরা রুপির অঙ্ক বসিয়ে একই হিসাব পাবেন।
এই টুলের ফলাফল ধারণা পাওয়ার জন্য। বাস্তব হার, কর ও নিয়ম প্রতিষ্ঠানভেদে আলাদা, তাই সিদ্ধান্তের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক, ব্রোকার বা বিশেষজ্ঞের সাথে যাচাই করুন।