এক্সপেন্স রেশিও হলো মিউচুয়াল ফান্ড পরিচালনার বার্ষিক খরচ, ফান্ডের মোট সম্পদের শতাংশে। এতে ফান্ড ম্যানেজারের ফি, প্রশাসন ও অন্য ব্যয় থাকে। এটি আপনাকে আলাদা করে দিতে হয় না, ফান্ডের ইউনিট মূল্য (NAV) থেকে প্রতিদিন কেটে নেওয়া হয়। তাই আপনার রিটার্ন ঠিক ততটুকু কমে যায়।
খরচের হার ১.৫% বেশি মনে হলে ছোট শোনায়, কিন্তু চক্রবৃদ্ধিতে এটি প্রতি বছর জমে। খরচ বাদ দেওয়া ছোট রিটার্নেই পরের বছর রিটার্ন গণনা হয়, তাই ফারাক ক্রমে বাড়ে। মেয়াদ যত লম্বা, প্রভাব তত বেশি।
- নিট রিটার্ন ≈ খরচের আগের রিটার্ন − এক্সপেন্স রেশিও
- এককালীন: শেষ মূল্য = বিনিয়োগ × (১ + নিট রিটার্ন)^বছর
- মাসিক SIP: প্রতি মাসে (ব্যালান্স + কিস্তি) × (১ + নিট বার্ষিক রিটার্ন ÷ ১২)
মাসে ১০,০০০ টাকা SIP, ১০ বছর, খরচের আগে বার্ষিক ১২% রিটার্ন। মোট বিনিয়োগ ১২,০০,০০০ টাকা। ২% খরচের ফান্ডে নিট ১০% হয়ে শেষ মূল্য প্রায় ২০,৬৫,৫২০ টাকা। ০.৫% খরচের ফান্ডে নিট ১১.৫% হয়ে প্রায় ২২,৫৫,৪৪২ টাকা। ফারাক প্রায় ১,৮৯,৯২২ টাকা। এককালীন ১ লক্ষ টাকা ১০ বছরে যথাক্রমে প্রায় ২,৫৯,৩৭৪ ও ২,৯৬,৯৯৫ টাকা হয়।
ভারতে একই ফান্ডের ডিরেক্ট প্ল্যানে বিতরণকারীর কমিশন থাকে না, তাই এক্সপেন্স রেশিও রেগুলার প্ল্যানের চেয়ে কম হয়। ফান্ডের নথি বা ফ্যাক্টশিটে নিজের প্ল্যানের চলতি TER (টোটাল এক্সপেন্স রেশিও) দেখে নিন। TER-এর ঊর্ধ্বসীমা সেবি নির্ধারণ করে এবং তা বদলাতে পারে। বাংলাদেশের ফান্ডে ব্যবস্থাপনা ফি ও অন্য খরচের সীমা বিএসইসির নিয়মে ঠিক হয়, ফান্ডের প্রসপেক্টাস দেখুন।
- মুদ্রা ও বিনিয়োগের ধরন বেছে নিন।
- বিনিয়োগের পরিমাণ, মেয়াদ ও খরচের আগের সম্ভাব্য রিটার্ন দিন।
- দুই ফান্ডের খরচের হার বসান। যেমন রেগুলার ২%, ডিরেক্ট ০.৫%।
- ডানে শেষ মূল্য ও ফারাক এবং নিচে বছরভিত্তিক তুলনা দেখুন।
- শুধু কম খরচ দেখে ফান্ড বাছবেন না। ফান্ডের পারফরম্যান্স, ঝুঁকি ও ফান্ড ম্যানেজারের রেকর্ডও দেখুন।
- এই হিসাব খরচের আগের একই রিটার্ন ধরে। বাস্তবে দুই ফান্ডের মোট রিটার্নও আলাদা হয়।
- বিনিয়োগ করার আগে এক্সিট লোড ও কর নিয়ম জেনে নিন।
শেয়ারবাজার ও মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগে ঝুঁকি আছে। এই টুলের ফল ধারণা পাওয়ার জন্য, বিনিয়োগ পরামর্শ নয়। সিদ্ধান্তের আগে কোম্পানির ঘোষণা, ব্রোকার বা যোগ্য উপদেষ্টার সঙ্গে যাচাই করুন।