মানি রিসিট কী?
মানি রিসিট বা টাকার রসিদ হলো কেউ টাকা পেলে তার লিখিত স্বীকৃতি। কে কাকে কত টাকা কী বাবদ কবে দিয়েছে তার প্রমাণ হিসেবে এটি দোকান, ভাড়া, বেতন, চাঁদা, অগ্রিম বা কিস্তি আদায়ে সবখানে লাগে। হাতে লেখা রসিদে অঙ্ক বা নাম ভুল হওয়া, কথায় টাকা না লেখা ও বাকি হিসাব গোলমাল হওয়া সাধারণ সমস্যা। এই টুল ওই ভুলগুলো কমিয়ে পরিষ্কার রসিদ বানায়।
এই রসিদে কী কী থাকে
- প্রতিষ্ঠানের লোগো, নাম, ঠিকানা, ফোন ও ইমেইল।
- ক্রমিক রসিদ নম্বর ও তারিখ।
- টাকা প্রদানকারীর নাম, চাইলে ফোন ও ঠিকানা।
- টাকার পরিমাণ অঙ্কে ও কথায়, বাংলায় বা ইংরেজিতে।
- পরিশোধের মাধ্যম: ক্যাশ, চেক, বিকাশ, নগদ, রকেট, ব্যাংক ট্রান্সফার, কার্ড বা অন্যান্য।
- বাবদ, এবং মোট বিল দিলে আগে পরিশোধ, এখন পরিশোধ ও বাকি পাওনা।
- গ্রহণকারীর নাম, পদবি ও স্বাক্ষরের ঘর।
কথায় টাকা কেন লিখবেন?
শুধু অঙ্কে লিখলে পরে সংখ্যা বদলানো সহজ, যেমন ১,০০০ থেকে ১১,০০০। কথায় লেখা থাকলে বদল করা কঠিন। তাই বড় অঙ্কের রসিদে কথায় লেখা জরুরি। এই টুল রসিদের ভাষা অনুযায়ী বাংলায় বা ইংরেজিতে কথায় টাকা নিজে বানায়, লক্ষ ও কোটির হিসাবে।
উদাহরণ
১,২৫,৫০০ টাকা বাংলায় হয় "এক লক্ষ পঁচিশ হাজার পাঁচ শত টাকা মাত্র", ইংরেজিতে "One Lakh Twenty Five Thousand Five Hundred Taka Only"। পয়সা থাকলে তাও যোগ হয়।
কীভাবে এই জেনারেটর ব্যবহার করবেন
- রসিদের ভাষা, প্রিন্ট সাইজ ও রঙ বেছে নিন।
- প্রতিষ্ঠানের নাম, ঠিকানা ও চাইলে লোগো দিন। এটি আপনার ব্রাউজারে সংরক্ষিত থাকে, পরের বার আবার লিখতে হবে না।
- রসিদ নম্বর, তারিখ, প্রদানকারী, টাকার পরিমাণ, মাধ্যম ও বাবদ দিন।
- মোট বিল থাকলে সেটি ও আগে পরিশোধের অঙ্ক দিন, বাকি পাওনা নিজে হিসাব হবে।
- নিচে রসিদ দেখে "প্রিন্ট / PDF সংরক্ষণ" চাপুন। A4 সাইজে গ্রাহকের কপি ও অফিস কপি একই পাতায় আসে, মাঝে কাটার দাগ থাকে।
- পরের রসিদের জন্য "নতুন রসিদ" চাপুন। রসিদ নম্বর নিজে এক বাড়ে এবং আপনার প্রতিষ্ঠানের তথ্য থেকে যায়।
প্রিন্ট বা PDF-এর কিছু টিপস
- প্রিন্ট ডায়ালগে "Headers and footers" বন্ধ রাখুন, নইলে পাতার ওপরে-নিচে তারিখ ও লিংক ছাপা হয়।
- PDF চাইলে প্রিন্টারের জায়গায় "Save as PDF" বেছে নিন।
- রঙিন অংশ (ব্যাজ ও টাকার বাক্স) ঠিকঠাক ছাপতে ডায়ালগে "Background graphics" চালু রাখুন।
- A5 সাইজ ল্যান্ডস্কেপ কাগজে একটি কপি ছাপে।
ভালো রসিদ রাখার কিছু অভ্যাস
- রসিদ নম্বর ক্রমানুসারে দিন এবং একই নম্বর দুবার ব্যবহার করবেন না।
- একটি কপি প্রদানকারীকে দিন, একটি নিজের রেকর্ডে রাখুন।
- বড় অঙ্কের লেনদেন সম্ভব হলে ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ে করুন, কারণ তার নিজস্ব প্রমাণ থাকে।
- কিছু ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট অঙ্কের রসিদে আইনি নিয়মে রাজস্ব স্ট্যাম্প লাগতে পারে। আপনার ক্ষেত্রের নিয়ম যাচাই করে নিন।
আপনার তথ্য কোথায় থাকে?
আপনি যা লেখেন তা শুধু আপনার ব্রাউজারে থাকে, আমাদের সার্ভারে কোনো রসিদ বা লোগো জমা হয় না। প্রতিষ্ঠানের নাম, ঠিকানা, ফোন, লোগো, গ্রহণকারীর নাম, রসিদ নম্বর, রঙ ও ভাষা এই ব্রাউজারে সংরক্ষিত হয়। প্রদানকারীর নাম, টাকার অঙ্ক ও বাবদ সংরক্ষিত হয় না। "রিসেট" চাপলে সব মুছে যায়।
এই টুল রসিদ বানানোর সহায়ক মাত্র, আইনি পরামর্শ নয়। আইনি বা কর-সংক্রান্ত প্রয়োজনে যোগ্য উপদেষ্টার সঙ্গে কথা বলুন।