APR (বার্ষিক শতাংশ হার) হলো ঋণের প্রকৃত বার্ষিক খরচ, যেখানে শুধু সুদ নয়, প্রসেসিং ফি, বীমা ও অন্য চার্জও ধরা হয়। ব্যাংক বিজ্ঞাপনে যে নামমাত্র সুদের হার দেখায়, প্রকৃত খরচ তার চেয়ে বেশি। ফি কেটে নিলে আপনি ঋণের পুরো টাকা হাতে পান না, অথচ সুদ পুরো টাকার ওপরই চলে।
আপনি নিট যত টাকা হাতে পান (ঋণ − ফি), তার বিপরীতে মাসিক কিস্তিগুলোর বর্তমান মূল্য সমান করে এমন মাসিক হার খুঁজে বের করা হয়। সেটিকে ১২ দিয়ে গুণ করলে APR। সূত্র: নিট প্রাপ্তি = কিস্তি × (১ − (১ + মাসিক হার)^−মাস) ÷ মাসিক হার। কার্যকর বার্ষিক হার (EAR) এই মাসিক হার থেকে চক্রবৃদ্ধিতে বছরের হার।
১০,০০,০০০ টাকা ঋণ, ১০% সুদ, ৫ বছর। মাসিক কিস্তি প্রায় ২১,২৪৭ টাকা। ১% প্রসেসিং ফি ১০,০০০ টাকা কেটে নিলে হাতে আসে ৯,৯০,০০০ টাকা। প্রকৃত খরচের হার (APR) দাঁড়ায় প্রায় ১০.৪৩%, কার্যকর বার্ষিক হার প্রায় ১০.৯৫%। ঋণের মোট খরচ (সুদ ও ফি-সহ) প্রায় ২,৮৪,৮২৩ টাকা।
- ঋণের পরিমাণ, নামমাত্র সুদ ও মেয়াদ দিন।
- প্রসেসিং ফি-র শতাংশ বসান।
- অন্য ফি, বীমা বা মাসিক চার্জ থাকলে "আরও ফি ও চার্জ"-এ দিন।
- ডানে APR, EAR ও ঋণের মোট খরচ এবং নিচে বিস্তারিত দেখুন।
একটি ব্যাংকের সুদ কম কিন্তু ফি বেশি, আরেকটির সুদ একটু বেশি কিন্তু ফি কম, এমন হলে নামমাত্র হার দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া ভুল। দুটি অফারের ফি বসিয়ে APR তুলনা করুন, যেটির APR কম সেটিই সস্তা। মেয়াদ আলাদা হলে সরাসরি তুলনা না করে মোট খরচও দেখুন।
- প্রসেসিং বা আবেদন ফি, মূল্যায়ন ও আইনি ফি।
- ঋণের সঙ্গে বাধ্যতামূলক বীমা প্রিমিয়াম।
- অ্যাকাউন্ট রক্ষণাবেক্ষণের মাসিক চার্জ।
- আগাম পরিশোধের জরিমানা এই হিসাবে ধরা নেই, ঋণ মেয়াদের আগে শোধ করলে আলাদা দেখুন।
এই টুলের ফল ধারণা পাওয়ার জন্য। ঋণ নেওয়ার আগে ব্যাংক বা প্রতিষ্ঠানের চূড়ান্ত শর্ত, ফি ও সুদের হার নিজে যাচাই করুন, প্রয়োজনে আর্থিক উপদেষ্টার সঙ্গে কথা বলুন।