হিন্দু উত্তরাধিকার ক্যালকুলেটর (দায়ভাগ)

মৃত হিন্দু পুরুষের জীবিত উত্তরাধিকারী বাছুন এবং জমি, স্বর্ণ, রুপা ও নগদ টাকার পরিমাণ দিন। বাংলাদেশে প্রচলিত দায়ভাগ আইনের ক্রম অনুযায়ী কে কত অংশ পান, ভগ্নাংশ ও পরিমাণসহ দেখুন।

১উত্তরাধিকারী নির্বাচন করুন (হিন্দু)

মৃত ব্যক্তি হিন্দু পুরুষ, উইল ছাড়া মারা গেছেন এবং সম্পত্তি তাঁর নিজস্ব। শুধু জীবিত উত্তরাধিকারীদের সংখ্যা দিন। হত্যাকারী বা অযোগ্য ব্যক্তিকে ধরবেন না।

২সম্পদের বিবরণ

ভরি
ভরি
৳

ফলাফল
—

এটি আইনি উত্তরাধিকার সনদ নয়, আনুমানিক হিসাব। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য আইনজীবীর পরামর্শ নিন।

কে কত অংশ পাবেন

বাংলাদেশে হিন্দু উত্তরাধিকার আইন

বাংলাদেশে হিন্দুদের সম্পত্তির উত্তরাধিকার চলে হিন্দু আইনের দায়ভাগ মতবাদ অনুযায়ী। এর মূল নীতি “আধ্যাত্মিক কল্যাণ” (পিণ্ডদানের অধিকার), তাই কাছের আত্মীয় আগে পান এবং আগের ক্রমের কেউ থাকলে পরের ক্রম বাদ পড়ে। মুসলিম ফারায়েজের মতো এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ লিখিত কোড নেই। এর সঙ্গে ১৯৩৭ সালের হিন্দু নারীর সম্পত্তির অধিকার আইন বিধবাদের অংশ নির্ধারণ করে।

এই ক্যালকুলেটর মৃত হিন্দু পুরুষ, উইল ছাড়া মৃত্যু এবং তাঁর নিজস্ব বা পৃথক সম্পত্তির ক্ষেত্রে প্রচলিত ক্রম অনুযায়ী অংশ বের করে।

দায়ভাগে উত্তরাধিকারীদের ক্রম

নিচে প্রথম ২০টি ক্রম দেওয়া হলো, যেগুলো এই টুলে নির্বাচন করা যায়। এর পরেও মাতৃকুলের আরও দূরবর্তী সপিণ্ডের ক্রম আছে (মোট ৫৩ শ্রেণি), যা এই টুলে ধরা হয়নি।

ক্রমউত্তরাধিকারীমন্তব্য
১পুত্রপ্রথম তিন ক্রম পার-স্টার্পিসে (শাখা অনুযায়ী) একসাথে চলে
২পুত্রের পুত্র (পৌত্র)পিতা মারা গেলে ওই পুত্রের অংশ পান
৩পুত্রের পুত্রের পুত্র (প্রপৌত্র)পৌত্র না থাকলে
৪বিধবা স্ত্রী; মৃত পুত্রের বিধবাবিধবা এক পুত্রের সমান অংশ পান, জীবনস্বত্বে
৫কন্যা১–৪ নম্বর কেউ না থাকলে। অবিবাহিতা অগ্রগণ্য, তারপর পুত্রবতী কন্যা
৬কন্যার পুত্রমাথাপিছু সমান
৭পিতা
৮মাতাজীবনস্বত্বে
৯ভাইসহোদর, না থাকলে বৈমাত্রেয়
১০ভাইয়ের পুত্রসহোদর, না থাকলে বৈমাত্রেয়
১১ভাইয়ের পৌত্রসহোদর, না থাকলে বৈমাত্রেয়
১২বোনের পুত্র
১৩পিতার পিতা (পিতামহ)
১৪পিতার মাতা (পিতামহী)জীবনস্বত্বে
১৫পিতার ভাই (পিতৃব্য)
১৬পিতার ভাইয়ের পুত্র
১৭পিতার ভাইয়ের পৌত্র
১৮পিতার বোনের পুত্র
১৯পিতার পিতার পিতা
২০পিতার পিতার মাতাজীবনস্বত্বে

কীভাবে অংশ ভাগ হয়

উদাহরণ ১: দুই পুত্র ও এক বিধবা স্ত্রী

বিধবা এক পুত্রের সমান অংশ পান। তাই ৩ ভাগ, প্রত্যেকে ১/৩। বিধবার ১/৩ অংশ জীবনস্বত্বে। ৩০ শতাংশ জমি থাকলে প্রত্যেকে ১০ শতাংশ।

উদাহরণ ২: দুই জীবিত পুত্র এবং এক মৃত পুত্রের দুই পুত্র

তিন শাখা, প্রতি শাখা ১/৩। জীবিত দুই পুত্র ১/৩ করে। মৃত পুত্রের শাখার ১/৩ তাঁর দুই পুত্রের মধ্যে ভাগ হয়, তাই প্রত্যেকে ১/৬। যোগফল ১/৩ + ১/৩ + ১/৬ + ১/৬ = ১।

উদাহরণ ৩: দুই অবিবাহিতা কন্যা ও এক পুত্রবতী কন্যা (পুত্র-বংশধর ও বিধবা নেই)

অবিবাহিতা কন্যা অগ্রগণ্য, তাই তাঁরা দুজন ১/২ করে পান (জীবনস্বত্বে)। পুত্রবতী কন্যা এ ক্ষেত্রে অংশ পান না।

বিধবার অংশ ও ১৯৩৭ সালের আইন

পুত্র, পৌত্র বা প্রপৌত্র থাকলেও এই আইনের ফলে বিধবা এক পুত্রের সমান অংশ পান। আগে মারা যাওয়া পুত্রের বিধবা (পুত্রবধূ) তাঁর স্বামীর অংশ পান, যদি ওই পুত্রের জীবিত পুত্র, পৌত্র বা প্রপৌত্র না থাকে। বিধবার পুনর্বিবাহে সাধারণত স্বামীর সম্পত্তির অধিকার থাকে না। ২০২১ সালে হাইকোর্টের একটি রায়ের সংবাদ অনুযায়ী বিধবা শুধু বসতভিটা নয়, কৃষিজমিসহ স্বামীর সব সম্পত্তিতেই এই আইনের অংশ পান।

কন্যার অবস্থান

দায়ভাগের প্রচলিত বিধানে কন্যা তখনই উত্তরাধিকারী হন যখন পুত্র, পৌত্র, প্রপৌত্র ও বিধবা কেউ নেই। তখনও সব কন্যা সমান নন: অবিবাহিতা অগ্রগণ্য, তারপর পুত্রবতী বা পুত্রসম্ভবা কন্যা। বন্ধ্যা ও পুত্রহীনা বিধবা কন্যা উত্তরাধিকারী নন। যাঁরা অংশ পান না, তাঁদের ভরণপোষণের দাবি থাকতে পারে। এই বিধান নিয়ে হাইকোর্টে সাংবিধানিক প্রশ্ন উঠেছে (সংবিধানের ২৭ ও ২৮ অনুচ্ছেদের আলোকে রুল জারি হয়েছে) এবং আইন সংস্কারের দাবি আছে। আমাদের জানামতে সংসদ এখনও পূর্ণাঙ্গ নতুন আইন করেনি। আইন বদলালে ফলাফলও বদলাবে।

জীবনস্বত্ব (নারী উত্তরাধিকারীর সীমিত অধিকার)

বিধবা, কন্যা, মাতা ও পিতামহীর মতো নারী উত্তরাধিকারী সাধারণত সম্পত্তি ভোগের অধিকার পান। বিক্রি বা হস্তান্তরের অধিকার সীমিত, শুধু শ্রাদ্ধ, ঋণ পরিশোধ বা সম্পত্তি রক্ষার মতো প্রয়োজনে সম্ভব। তাঁর মৃত্যুর পর সম্পত্তি পরবর্তী উত্তরাধিকারীদের কাছে যায়। এটি নারীর স্ত্রীধন সম্পত্তি থেকে আলাদা, যেখানে তাঁর পূর্ণ মালিকানা থাকে।

অযোগ্যতা ও সীমাবদ্ধতা

জমি, স্বর্ণ ও রুপার একক

১ একর = ১০০ শতাংশ। স্বর্ণ ও রুপা ভরিতে ধরা হয়, ১ ভরি = ১১.৬৬৪ গ্রাম। জমির মাপ বদলাতে জমির পরিমাপ কনভার্টার দেখুন।

উত্তরাধিকার সনদ ও আদালত

এই টুল আইনি সনদ দেয় না। অংশ নিয়ে সবাই একমত হলে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি কর্পোরেশন থেকে ওয়ারিশান সনদ নেওয়া যায় এবং নামজারি (মিউটেশন) করা যায়। বিরোধ থাকলে আদালতে বণ্টন (পার্টিশন) মামলা করতে হয়। উত্তরাধিকার আইনি জটিল বিষয়, তাই এই ফল প্রাথমিক ধারণা হিসেবে নিন এবং আইনজীবীর পরামর্শ নিন।

প্রায়ই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

বাংলাদেশে হিন্দুদের উত্তরাধিকার কোন আইনে চলে?
বাংলাদেশে হিন্দুদের উত্তরাধিকার প্রধানত অলিখিত হিন্দু আইনের দায়ভাগ মতবাদ অনুযায়ী চলে। এর সঙ্গে ১৯৩৭ সালের হিন্দু নারীর সম্পত্তির অধিকার আইন (Hindu Women’s Right to Property Act) বিধবাদের অংশ নির্ধারণ করে। মুসলিমদের মতো এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ লিখিত কোড নেই।
হিন্দু বিধবা স্ত্রী কত অংশ পান?
পুত্র, পৌত্র বা প্রপৌত্র থাকলে বিধবা এক পুত্রের সমান অংশ পান। একাধিক বিধবা থাকলে সবাই মিলে ওই এক অংশ পান এবং নিজেদের মধ্যে সমানভাগে ভাগ করেন। পুত্র-বংশধর না থাকলে বিধবা কন্যাদের আগে সম্পূর্ণ সম্পত্তি পান। এই অংশ সাধারণত জীবনস্বত্বে, অর্থাৎ ভোগের অধিকার, পূর্ণ মালিকানা নয়।
পুত্র থাকলে কন্যা কি বাবার সম্পত্তি পান?
দায়ভাগ আইনের প্রচলিত বিধানে পুত্র, পৌত্র, প্রপৌত্র বা বিধবা স্ত্রী থাকলে কন্যা উত্তরাধিকারী হন না, তবে অবিবাহিতা কন্যার ভরণপোষণ ও বিয়ের খরচের দাবি থাকে। এই বিধান নিয়ে হাইকোর্টে সাংবিধানিক চ্যালেঞ্জ আছে এবং আইন সংস্কারের দাবিও আছে। এই টুল বর্তমানে প্রচলিত বিধি অনুসরণ করে, ভবিষ্যতে বদলাতে পারে।
অবিবাহিতা ও বিবাহিত কন্যার পার্থক্য কী?
পুত্র-বংশধর ও বিধবা না থাকলে কন্যারা উত্তরাধিকারী হন, তখন অবিবাহিতা কন্যা অগ্রগণ্য। তাঁরা না থাকলে পুত্রবতী বা পুত্রসম্ভবা কন্যা পান। বন্ধ্যা বা পুত্রহীনা বিধবা কন্যা উত্তরাধিকারী নন। একই শ্রেণির একাধিক কন্যা সমানভাগে পান।
আগে মারা যাওয়া পুত্রের সন্তানরা কি অংশ পান?
হ্যাঁ। পৌত্র ও প্রপৌত্র তাঁদের পিতার জায়গায় দাঁড়িয়ে ওই পুত্রের অংশ পান, একে পার-স্টার্পিস বলে। যেমন দুই জীবিত পুত্র ও এক মৃত পুত্রের দুই পুত্র থাকলে অংশ ১/৩, ১/৩, ১/৬ ও ১/৬। জীবিত পুত্র থাকলেও আলাদা শাখার পৌত্র বাদ পড়ে না, তবে একই শাখায় পুত্র জীবিত থাকলে তাঁর পুত্ররা অংশ পান না।
জীবনস্বত্ব (Life Interest) কী?
নারী উত্তরাধিকারী (বিধবা, কন্যা, মাতা, পিতামহী) সাধারণত সম্পত্তি ভোগ করার অধিকার পান। বিক্রি বা হস্তান্তরের পূর্ণ অধিকার সাধারণত থাকে না, শুধু জরুরি প্রয়োজনে সীমিত ক্ষেত্রে ছাড়া। তাঁর মৃত্যুর পর সম্পত্তি পরবর্তী উত্তরাধিকারীদের কাছে যায়।
সহোদর ও বৈমাত্রেয় ভাইয়ের মধ্যে পার্থক্য কেন?
ভাই, ভাইয়ের পুত্র ও ভাইয়ের পৌত্রের ক্রমে সহোদর (একই পিতা-মাতার) আগে পান, সহোদর না থাকলে তবেই বৈমাত্রেয় (একই পিতা, ভিন্ন মাতা)। এই টুলও সেভাবেই হিসাব করে।
কারা উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত হন?
প্রথাগত বিধানে কিছু কারণে অযোগ্যতা আছে, যেমন মৃত ব্যক্তির হত্যাকারী (ও তার ওয়ারিশ), সন্ন্যাস গ্রহণ এবং বিধবার পুনর্বিবাহে স্বামীর সম্পত্তির অধিকার হারানো। ধর্মান্তরসহ অন্য কিছু বঞ্চনার বিধান আইন ও আদালতের সিদ্ধান্তে ভিন্নভাবে প্রযোজ্য হতে পারে। যাঁরা অযোগ্য, তাঁদের এখানে নির্বাচন করবেন না।
উইল থাকলে কী হবে?
এই টুল শুধু উইল ছাড়া মৃত্যুর (ইনটেস্টেট) ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। বৈধ উইল থাকলে সাধারণত উইলের শর্ত অনুযায়ী সম্পত্তি যায়। এ বিষয়ে আইনজীবীর সাথে কথা বলুন।
কোন সম্পত্তিতে এই হিসাব খাটে?
মৃত ব্যক্তির নিজস্ব বা পৃথক সম্পত্তির ক্ষেত্রে, যেমন জমি, স্বর্ণ, রুপা ও নগদ টাকা। নারীর নিজস্ব স্ত্রীধন সম্পত্তির উত্তরাধিকার আলাদা নিয়মে চলে, এই টুলে সেটি ধরা হয়নি।
এই টুল কি উত্তরাধিকার সনদ দেয়?
না। এটি আনুমানিক হিসাব ও বোঝার সহায়ক। আইনি ওয়ারিশান বা উত্তরাধিকার সনদ ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি কর্পোরেশনের মতো নির্ধারিত কর্তৃপক্ষ থেকে নিতে হয়, আর বিরোধ হলে আদালতে বণ্টন মামলা করতে হয়। তাই এখানে “সনদ” নেই, তবে ফলাফল কপি বা প্রিন্ট করে নিতে পারেন।
আমার দেওয়া তথ্য কি সংরক্ষিত হয়?
না। সব হিসাব আপনার ব্রাউজারেই হয়, কোনো তথ্য সার্ভারে যায় না। পেজ রিলোড করলে ঘরগুলো আবার খালি হয়ে যায়, তাই দরকারি ফলাফল আগেই কপি বা প্রিন্ট করে রাখুন।