ব্যাংকে বা ফান্ডে ১২% রিটার্ন মানে আপনার টাকার অঙ্ক ১২% বাড়ল। কিন্তু জিনিসের দামও যদি বছরে ৬% বাড়ে, তাহলে সেই টাকায় কেনার ক্ষমতা ততটা বাড়েনি। নামমাত্র রিটার্ন হলো অঙ্কের বৃদ্ধি। প্রকৃত রিটার্ন হলো ক্রয়ক্ষমতার বৃদ্ধি।
- প্রকৃত রিটার্ন = (১ + নামমাত্র রিটার্ন) ÷ (১ + মুদ্রাস্ফীতি) − ১
- আজকের টাকায় মূল্য = নামমাত্র মূল্য ÷ (১ + মুদ্রাস্ফীতি)^বছর
সহজ হিসাব হলো নামমাত্র রিটার্ন থেকে মুদ্রাস্ফীতি বিয়োগ। নির্ভুল সূত্রে ভাগ করা হয়, তাই ফলে সামান্য পার্থক্য আসে।
১,০০,০০০ টাকা ১২% রিটার্নে ১০ বছর রাখলে নামমাত্র মূল্য প্রায় ৩,১০,৫৮৫ টাকা। বার্ষিক ৬% মুদ্রাস্ফীতিতে আজকের টাকার হিসাবে এটি প্রায় ১,৭৩,৪২৯ টাকা। প্রকৃত বার্ষিক রিটার্ন প্রায় ৫.৬৬%, ১২% নয়। অর্থাৎ নামমাত্র অঙ্ক প্রায় তিন গুণ হলেও ক্রয়ক্ষমতা প্রায় ১.৭ গুণ বেড়েছে।
- মুদ্রা, এককালীন বিনিয়োগ এবং চাইলে প্রতি বছর যোগ করার অঙ্ক দিন।
- নামমাত্র রিটার্ন ও আপনার দেশের আনুমানিক মুদ্রাস্ফীতি দিন।
- মেয়াদ বছরে দিন। বছরের শেষে যোগ করার অঙ্ক ধরা হয়।
- ডানে আজকের টাকায় আসল মূল্য, প্রকৃত রিটার্ন এবং বছরভিত্তিক টেবিল দেখুন।
লম্বা মেয়াদের জন্য গত কয়েক বছরের গড় মুদ্রাস্ফীতি ধরা ভালো। দেশ, সময় ও পণ্যভেদে এটি অনেক আলাদা হয়, তাই আপনার দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বা পরিসংখ্যান ব্যুরোর সাম্প্রতিক তথ্য দেখুন। অনিশ্চিত হলে কয়েকটি ভিন্ন হারে হিসাব করে দেখুন।
- সঞ্চয়ের সুদ মুদ্রাস্ফীতির চেয়ে কম হলে আপনার টাকার ক্রয়ক্ষমতা কমছে।
- লম্বা মেয়াদে শুধু নিরাপদ সঞ্চয়ে থাকলে অবসরের লক্ষ্য ছোঁয়া কঠিন হতে পারে। বিভিন্ন সম্পদে ভাগ করে বিনিয়োগ বিবেচনা করুন।
- কর বা ফি বাদ দিলে প্রকৃত রিটার্ন আরও কমে।
শেয়ারবাজার ও মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগে ঝুঁকি আছে। এই টুলের ফল ধারণা পাওয়ার জন্য, বিনিয়োগ পরামর্শ নয়। সিদ্ধান্তের আগে কোম্পানির ঘোষণা, ব্রোকার বা যোগ্য উপদেষ্টার সঙ্গে যাচাই করুন।