প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের খরচ কীভাবে বের করবেন?
বিদ্যুৎ বিলে ইউনিট, স্ল্যাব, ডিমান্ড চার্জ ও ভ্যাট আলাদা আলাদা থাকে। তাই বিলের শেষ টাকাকে মোট ইউনিট দিয়ে ভাগ করলে প্রকৃত গড় ইউনিট খরচ পাওয়া যায়। এই গড় খরচ দিয়ে ঘরের কোন যন্ত্র কত টাকার বিদ্যুৎ খায় তা সহজে আন্দাজ করা যায়।
হিসাবের সূত্র
- গড় ইউনিট খরচ = বিলের মোট টাকা ÷ ব্যবহৃত ইউনিট।
- যন্ত্রের দৈনিক ইউনিট (কিলোওয়াট-ঘণ্টা) = ওয়াট × সংখ্যা × ঘণ্টা ÷ ১,০০০।
- মাসিক খরচ = দৈনিক ইউনিট × মাসের দিন × গড় ইউনিট খরচ।
উদাহরণ
বিল ৳ ৩,৫০০ ও ইউনিট ৪০০ হলে গড় খরচ প্রতি ইউনিট ৳ ৮.৭৫। ৭৫ ওয়াটের ৩টি ফ্যান দিনে ১০ ঘণ্টা চললে দিনে ২.২৫ ইউনিট খরচ হয়, অর্থাৎ মাসে প্রায় ৬৭.৫ ইউনিট ও প্রায় ৳ ৫৯১। সংখ্যাগুলো শুধু নমুনা।
কীভাবে ব্যবহার করবেন
- আপনার সর্বশেষ বিলের মোট টাকা ও ব্যবহৃত ইউনিট দিন।
- ফ্যান, বাতি, ফ্রিজ বা টিভির মতো যন্ত্রের ওয়াট, সংখ্যা ও দিনে চলার ঘণ্টা লিখুন। ওয়াট যন্ত্রের গায়ে বা ম্যানুয়ালে লেখা থাকে।
- এসি বা পাম্প থাকলে "অ্যাডভান্সড সেটিংস" খুলে যোগ করুন।
- ডানে গড় খরচ ও যন্ত্রগুলোর মাসিক খরচ এবং নিচে যন্ত্রভেদে তালিকা দেখুন।
বিদ্যুৎ বিল কমানোর টিপস
- এলইডি বাতি ও বেশি স্টার রেটিংয়ের যন্ত্র ব্যবহার করুন।
- ব্যবহারের পর যন্ত্র বন্ধ করুন, স্ট্যান্ডবাই মোডেও কিছু বিদ্যুৎ খরচ হয়।
- এসির তাপমাত্রা খুব কম না রেখে মাঝারি রাখুন।
- ফ্রিজের দরজা বারবার খুলবেন না এবং পেছনের অংশে বাতাস চলাচলের জায়গা রাখুন।
- উচ্চ স্ল্যাবে ঢুকলে ইউনিটের দাম বাড়ে, তাই মাসের ব্যবহার স্ল্যাব সীমার নিচে রাখার চেষ্টা করুন।
সাধারণ ভুল
- ওয়াটকে কিলোওয়াট না করে সরাসরি দাম দিয়ে গুণ করা।
- ফ্রিজ বা এসি সারাক্ষণ চলে ধরা, অথচ কম্প্রেসর কিছুক্ষণ বন্ধ থাকে।
- বিলের স্থায়ী চার্জ ও ভ্যাট বাদ দিয়ে শুধু ইউনিট দাম ধরা।
বাংলাদেশ ও কলকাতা-পশ্চিমবঙ্গের ব্যবহারকারীদের জন্য
বাংলাদেশে স্ল্যাব অনুযায়ী ইউনিটের দাম বদলায় এবং ডিমান্ড চার্জ ও ভ্যাট যোগ হয়। পশ্চিমবঙ্গে ও কলকাতায়ও ইউনিটভিত্তিক হার ও আলাদা চার্জ থাকে। দুই জায়গাতেই বিলের টাকা ও ইউনিট থেকে গড় খরচ বের করা সঠিক পদ্ধতি, কারণ তাতে সব চার্জ ধরা পড়ে।
এই টুলের ফলাফল ধারণা পাওয়ার জন্য। বাস্তব হার, কর ও নিয়ম প্রতিষ্ঠানভেদে আলাদা, তাই সিদ্ধান্তের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক, ব্রোকার বা বিশেষজ্ঞের সাথে যাচাই করুন।