বাংলাদেশে ডিভিডেন্ডের ওপর কর
বাংলাদেশে কোম্পানি লভ্যাংশ বা ডিভিডেন্ড দিলে শেয়ারহোল্ডারের হাতে তা আয় হিসেবে করযোগ্য। উৎসে কর কেটে বাকিটা ব্যাংক হিসাবে দেওয়া হয়। কর কত কাটা হবে তা শেয়ারহোল্ডারের ধরন, টিআইএন আছে কি না এবং সর্বশেষ আইনের ওপর নির্ভর করে। সাম্প্রতিক প্রকাশিত তথ্যে ব্যক্তি শেয়ারহোল্ডারের ডিভিডেন্ডে ১৫% হারের কথা পাওয়া যায়, তবে হার ও ছাড়সীমা প্রতি অর্থবছরে বদলাতে পারে। তাই এই টুলে হার ও সীমা আপনি নিজে ঠিক করতে পারেন।
বাংলাদেশের ডিভিডেন্ড কীভাবে হিসাব হয়?
বাংলাদেশে ডিভিডেন্ড সাধারণত শেয়ারের ফেস ভ্যালুর শতাংশে ঘোষণা করা হয়, আর ফেস ভ্যালু সাধারণত ৳ ১০। ২০% ক্যাশ ডিভিডেন্ড মানে প্রতি শেয়ারে ৳ ২, বাজার দাম যা-ই হোক।
- মোট ডিভিডেন্ড = শেয়ারের সংখ্যা × ফেস ভ্যালু × ক্যাশ ডিভিডেন্ড ÷ ১০০।
- কর = (মোট ডিভিডেন্ড − প্রযোজ্য কর-মুক্ত অংশ) × করের হার।
- করের পর হাতে = মোট ডিভিডেন্ড − কর।
- ডিভিডেন্ড ইয়িল্ড = প্রতি শেয়ারে ডিভিডেন্ড ÷ বাজার দাম।
উদাহরণ
১০,০০০টি শেয়ারে ২০% ক্যাশ ডিভিডেন্ড মানে প্রতি শেয়ারে ৳ ২ ও মোট ৳ ২,০০,০০০। ১৫% হারে কর ৳ ৩০,০০০ এবং হাতে আসে ৳ ১,৭০,০০০। বাজার দাম ৳ ৫০ হলে ডিভিডেন্ড ইয়িল্ড ৪% ও করের পর ৩.৪%। হার ও সংখ্যা শুধু নমুনা।
কীভাবে ব্যবহার করবেন
- শেয়ারের সংখ্যা ও ক্যাশ ডিভিডেন্ডের শতাংশ দিন, অথবা সরাসরি মোট ডিভিডেন্ডের টাকা দিন।
- করের হার দিন। এটি আপনার কর পরামর্শকের কাছ থেকে নিশ্চিত করে নেওয়া ভালো।
- কোনো কর-মুক্ত সীমা প্রযোজ্য হলে অ্যাডভান্সড সেটিংসে দিন।
- বাজার দাম দিলে করের পরের ইয়িল্ডও দেখা যাবে।
ক্যাশ ও স্টক ডিভিডেন্ড
ক্যাশ ডিভিডেন্ডে সরাসরি টাকা পাওয়া যায়। স্টক ডিভিডেন্ডে বোনাস শেয়ার পাওয়া যায় এবং তাতে নগদ আয় হয় না, তবে কর ও নিয়মের ক্ষেত্রে আলাদা বিধান থাকতে পারে। এই টুল শুধু ক্যাশ ডিভিডেন্ডের জন্য।
সাধারণ ভুল
- ডিভিডেন্ডের শতাংশকে বাজার দামের শতাংশ ধরা। এটি ফেস ভ্যালুর শতাংশ।
- পুরোনো বছরের করের হার ধরে নেওয়া।
- বোনাস শেয়ার ও ক্যাশ ডিভিডেন্ড গুলিয়ে ফেলা।
বাংলাদেশ ও কলকাতা-পশ্চিমবঙ্গের ব্যবহারকারীদের জন্য
এই পেজ বাংলাদেশের কোম্পানির ডিভিডেন্ডের জন্য এবং টাকায় হিসাব হয়। পশ্চিমবঙ্গের কোম্পানির ডিভিডেন্ডের জন্য ভারতের ডিভিডেন্ড কর ক্যালকুলেটর ব্যবহার করুন। শেয়ার বেচার মুনাফার কর আলাদা, সে জন্য মূলধনী লাভ ক্যালকুলেটর দেখুন।
সতর্কতা: কর আইন, হার ও ছাড়সীমা প্রতি বাজেটে বদলাতে পারে এবং ব্যক্তিগত অবস্থাভেদে আলাদা হয়। এই টুল কর পরামর্শ নয়। রিটার্ন দেওয়ার আগে সর্বশেষ আইন বা আপনার কর পরামর্শকের সঙ্গে মিলিয়ে নিন।