ডিসকাউন্ট ক্যালকুলেটর কী কাজে লাগে?
দোকানে বা অনলাইনে "২০% ছাড়" দেখে আসলে কত টাকা বাঁচছে বা কত দিতে হবে তা মুখে মুখে হিসাব করা কঠিন। দুই ধাপে ছাড় থাকলে বা ছাড়ের পর ভ্যাট যোগ হলে হিসাব আরও জটিল হয়। এই টুল সবগুলো মিলিয়ে চূড়ান্ত দাম, সাশ্রয় ও মোট ছাড়ের হার দেখিয়ে দেয়। উল্টো দিকেও কাজ করে: আসল দাম ও ছাড়ের পরের দাম জানলে ছাড়ের হার বের করা যায়।
হিসাবের সূত্র
- ছাড়ের পরের দাম = আসল দাম × (১ − ছাড় ÷ ১০০)।
- দুই ধাপে ছাড় হলে প্রথম ছাড়ের পরের দামের ওপর দ্বিতীয় ছাড় যায়।
- মোট ছাড়ের হার = (আসল দাম − শেষ দাম) ÷ আসল দাম × ১০০।
- ছাড়ের হার (উল্টো) = (আসল দাম − ছাড়ের পরের দাম) ÷ আসল দাম × ১০০।
উদাহরণ
৳ ২,৫০০ দামের জিনিসে ২০% ছাড় থাকলে ছাড়ের পরের দাম ৳ ২,০০০ এবং সাশ্রয় ৳ ৫০০। একই জিনিসে ২০% ও এর ওপর আরও ১০% ছাড় থাকলে শেষ দাম ৳ ১,৮০০ এবং মোট ছাড় ২৮%, ৩০% নয়।
কীভাবে ব্যবহার করবেন
- কোন দিক থেকে হিসাব করবেন তা বাছুন।
- আসল দাম ও ছাড়ের হার দিন। উল্টো হিসাবে ছাড়ের পরের দাম দিন।
- দ্বিতীয় ছাড়, ভ্যাট বা কয়টি কিনবেন তা অ্যাডভান্সড সেটিংসে দিন।
- ডানে শেষ দাম ও সাশ্রয় এবং নিচে বিভিন্ন ছাড়ের হারে তুলনা দেখুন।
দুই ছাড় যোগ করা যায় না কেন?
২০% ও ১০% ছাড় যোগ করে ৩০% ভাবা ভুল। দ্বিতীয় ছাড় প্রথম ছাড়ের পরের কম দামের ওপর হয়, তাই মোট ছাড় ২৮% হয়। এ কারণেই দুই ধাপের অফারে আসল সাশ্রয় বিজ্ঞাপনের চেয়ে কম মনে হতে পারে।
কেনাকাটার টিপস
- ছাড় আসল দামের ওপর কি না এবং আগে দাম বাড়ানো হয়েছে কি না দেখে নিন।
- একাধিক দোকানে একই জিনিসের শেষ দাম তুলনা করুন।
- ছাড়ের লোভে প্রয়োজনের বেশি কিনবেন না।
- ডেলিভারি ও ভ্যাট চার্জ শেষ দামে যোগ হয় কি না দেখুন।
সাধারণ ভুল
- দুই ছাড় যোগ করে মোট ছাড় ধরা।
- ছাড়ের পর ভ্যাট হিসাবে না ধরা।
- "আপ টু" ছাড়কে নির্দিষ্ট ছাড় ভাবা। আপ টু ৫০% মানে সব পণ্যে ৫০% নয়।
বাংলাদেশ ও কলকাতা-পশ্চিমবঙ্গের ব্যবহারকারীদের জন্য
ঈদ, পূজা, নববর্ষ বা বিশেষ সেলের সময় দুই দেশেই ছাড়ের বিজ্ঞাপন বেশি চলে। পর্দায় ৳ চিহ্ন থাকলেও কলকাতা-পশ্চিমবঙ্গের ব্যবহারকারীরা রুপির অঙ্ক বসিয়ে একই হিসাব পাবেন। জিএসটি বা ভ্যাট থাকলে সেটি অ্যাডভান্সড ঘরে দিন।
এই টুলের ফলাফল ধারণা পাওয়ার জন্য। বাস্তব হার, কর ও নিয়ম প্রতিষ্ঠানভেদে আলাদা, তাই সিদ্ধান্তের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক, ব্রোকার বা বিশেষজ্ঞের সাথে যাচাই করুন।