ডায়াবেটিস ঝুঁকি যাচাই কেন দরকার
ডায়াবেটিস অনেক সময় বছরের পর বছর কোনো উপসর্গ ছাড়াই থেকে যায়। বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ায় এটি দ্রুত বাড়ছে এবং ইউরোপীয়দের তুলনায় কম ওজন ও কম বয়সেও হতে দেখা যায়। যত আগে ধরা পড়ে, জীবনযাত্রা বদলে ও চিকিৎসায় তত ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এই ক্যালকুলেটর চারটি সহজ প্রশ্নে বোঝায়, আপনার রক্ত পরীক্ষা করানোর প্রয়োজন কতটা।
IDRS স্কোর কী
Indian Diabetes Risk Score (IDRS) ভারতে গবেষণার মাধ্যমে তৈরি একটি সহজ স্ক্রিনিং স্কোর, যা দক্ষিণ এশীয় মানুষের ঝুঁকির কারণ অনুযায়ী বানানো। এতে রক্ত পরীক্ষা লাগে না, শুধু চারটি প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়। স্কোর যত বেশি, না ধরা পড়া ডায়াবেটিসের সম্ভাবনা তত বেশি।
| বিষয় | উত্তর | স্কোর |
|---|---|---|
| বয়স | ৩৫ বছরের কম | ০ |
| ৩৫–৪৯ বছর | ২০ | |
| ৫০ বছর বা বেশি | ৩০ | |
| কোমরের মাপ | নারী ৮০ সেমির নিচে, পুরুষ ৯০ সেমির নিচে | ০ |
| নারী ৮০–৮৯ সেমি, পুরুষ ৯০–৯৯ সেমি | ১০ | |
| নারী ৯০ সেমি বা বেশি, পুরুষ ১০০ সেমি বা বেশি | ২০ | |
| শারীরিক পরিশ্রম | নিয়মিত ব্যায়াম এবং শ্রমসাধ্য কাজ | ০ |
| নিয়মিত ব্যায়াম অথবা শ্রমসাধ্য কাজ | ২০ | |
| ব্যায়াম নেই এবং বসে বা হালকা কাজ | ৩০ | |
| পারিবারিক ইতিহাস | কারও নেই | ০ |
| বাবা বা মা একজনের আছে | ১০ | |
| বাবা ও মা দুজনেরই আছে | ২০ |
স্কোর কীভাবে পড়বেন
| স্কোর | ঝুঁকি | করণীয় |
|---|---|---|
| ৩০-এর নিচে | কম | জীবনযাত্রা ধরে রাখুন, অন্তত ৩ বছর অন্তর পরীক্ষা করান। |
| ৩০–৫০ | মাঝারি | রক্তে শর্করা পরীক্ষা করান, ১ বছর পর স্কোর আবার দেখুন। |
| ৬০ বা বেশি | বেশি | শীঘ্রই ডাক্তার দেখিয়ে পরীক্ষা করান। |
স্কোরগুলো ১০-এর গুণিতক হয়, তাই ৫১–৫৯ মান আসে না। এটি একটি স্ক্রিনিং স্কোর, রোগ নির্ণয় নয়। বেশি স্কোরেও অনেকের ডায়াবেটিস থাকে না, আবার কম স্কোরেও কারও থাকতে পারে। তাই উপসর্গ থাকলে স্কোর যাই হোক ডাক্তার দেখান।
কোমরের মাপ সঠিকভাবে নেওয়ার নিয়ম
- সোজা হয়ে দাঁড়ান, পা সামান্য ফাঁক করে।
- শ্বাস ছেড়ে নাভির সমান উচ্চতায় পেটের চারপাশে ফিতা পেঁচান।
- ফিতা মাটির সমান্তরাল ও আঁটসাঁট, কিন্তু চেপে বসানো নয়।
- ইঞ্চিতে মাপলে ১ ইঞ্চি = ২.৫৪ সেমি, এই টুল নিজেই রূপান্তর করে নেয়।
স্কোরে ধরা হয় না, কিন্তু ঝুঁকি বাড়ায় যেসব কারণ
নিচের কারণগুলো IDRS স্কোরের অংশ নয়, তবে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়। এগুলো থাকলে স্কোর কম হলেও একবার রক্তে শর্করা পরীক্ষা করানো ভালো। টুলে এগুলো টিক দিয়ে দেখানো যায়:
- উচ্চ রক্তচাপ বা রক্তচাপের ওষুধ খাওয়া।
- আগে রক্তে শর্করা বেশি বা প্রি-ডায়াবেটিস ধরা পড়া।
- হৃদরোগ বা স্ট্রোকের ইতিহাস।
- নারীদের ক্ষেত্রে গর্ভকালীন ডায়াবেটিসের ইতিহাস ও পিসিওএস।
- বিএমআই ২৩ বা বেশি (এশীয়দের মানদণ্ডে ওজন বেশির সীমা)। ঐচ্ছিক উচ্চতা ও ওজন দিলে টুল বিএমআই দেখায়।
কখন রক্ত পরীক্ষা করাবেন
প্রাপ্তবয়স্কদের নিয়মিত স্ক্রিনিং সাধারণত ৩৫ বছর বয়স থেকে শুরু করার পরামর্শ দেওয়া হয়। অতিরিক্ত ওজনের সাথে ঝুঁকির কারণ (পরিবারে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ইত্যাদি) থাকলে আরও কম বয়সে করানো ভালো। পরীক্ষা ঠিক থাকলে অন্তত ৩ বছর অন্তর আবার করান। খালি পেটে রক্তে শর্করা, HbA1c বা OGTT, যেকোনোটি ডাক্তার ঠিক করে দেবেন।
ডায়াবেটিসের সাধারণ উপসর্গ
- খুব বেশি তৃষ্ণা ও ঘন ঘন প্রস্রাব, বিশেষ করে রাতে।
- কারণ ছাড়াই ওজন কমে যাওয়া বা সবসময় ক্লান্তি।
- ঝাপসা দেখা, ক্ষত শুকাতে দেরি বা বারবার সংক্রমণ।
এই উপসর্গ থাকলে ঝুঁকি-স্কোরের অপেক্ষা না করে সরাসরি ডাক্তারের কাছে যান।
ঝুঁকি কমানোর উপায়
- কোমর কমান: অতিরিক্ত ওজন থাকলে ওজনের ৫–৭% কমালেও ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে পারে।
- শারীরিক পরিশ্রম: সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট দ্রুত হাঁটা বা সমতুল্য কাজ করুন।
- খাদ্যাভ্যাস: চিনি, কোমল পানীয় ও ভাজাপোড়া কমান। শাকসবজি, ডাল ও আঁশযুক্ত খাবার বাড়ান।
- অন্যান্য: ধূমপান এড়ান এবং পর্যাপ্ত ঘুমান।
এই টুলের সীমাবদ্ধতা
IDRS ভারতে তৈরি ও যাচাই করা, বাংলাদেশি জনগোষ্ঠীর জন্য আলাদা করে যাচাই করা নয়। এটি শুধু বয়স, কোমর, শারীরিক পরিশ্রম ও পারিবারিক ইতিহাস ধরে, তাই এর ফল আনুমানিক। ১৮ বছরের কম বয়সী ও যাদের ডায়াবেটিস আগেই ধরা পড়েছে, তাদের জন্য এটি প্রযোজ্য নয়। এটি রোগ নির্ণয় বা চিকিৎসার বিকল্প নয়।