ঋণ একীভূতকরণ মানে একাধিক ঋণ, যেমন ক্রেডিট কার্ডের বকেয়া, পার্সোনাল লোন ও অন্য ধার, শোধ করে তার জায়গায় একটি নতুন ঋণ নেওয়া। এতে সাধারণত একটি মাসিক কিস্তি থাকে, সুদের হার কম হতে পারে এবং হিসাব রাখা সহজ হয়।
একীভূত ঋণে মাসিক কিস্তি প্রায় সবসময় কমে, কিন্তু মোট খরচ কমবে কি না তা নির্ভর করে তিনটি জিনিসের ওপর: নতুন সুদের হার, নতুন মেয়াদ ও ফি। সুদ কম হলেও মেয়াদ অনেক লম্বা করলে মোট সুদ বেড়ে যায়। তাই শুধু কিস্তি কমা দেখে সিদ্ধান্ত নেবেন না।
তিনটি ঋণের মোট বকেয়া ৩,০০,০০০ টাকা এবং মোট মাসিক পেমেন্ট ১৪,০০০ টাকা। আলাদা আলাদা শোধ করলে মোট সুদ প্রায় ৯১,২১২ টাকা, সর্বোচ্চ ৩২ মাসে ঋণমুক্ত। ১৪% সুদ, ২% ফি ও ৩ বছরের নতুন ঋণে কিস্তি প্রায় ১০,৪৫৮ টাকা, সুদ ও ফি মিলিয়ে প্রায় ৭৬,৫০১ টাকা। মোট সাশ্রয় প্রায় ১৪,৭১১ টাকা। একই ঋণ ৪ বছরে নিলে কিস্তি নেমে প্রায় ৮,৩৬২ টাকা হয়, কিন্তু মোট খরচ প্রায় ১০,১৫৯ টাকা বেড়ে যায়।
- প্রতিটি বর্তমান ঋণের নাম, বকেয়া, বার্ষিক সুদ ও মাসিক পেমেন্ট দিন। ঋণ কম থাকলে বকেয়া ০ রাখুন।
- নতুন একীভূত ঋণের সুদ, মেয়াদ ও ফি দিন।
- ডানে সাশ্রয় বা অতিরিক্ত খরচ এবং নিচে প্রতিটি ঋণের তুলনা দেখুন।
- পুরোনো ঋণ আগে শোধ করলে জরিমানা বা ফি লাগে কি না।
- নতুন ঋণের প্রসেসিং ফি, বীমা ও অন্য খরচ।
- নতুন ঋণের সুদ ফ্লোটিং না ধ্রুব।
- এটি যেন নতুন করে ক্রেডিট কার্ডে খরচ বাড়ানোর অজুহাত না হয়, নইলে ঋণ আরও বাড়বে।
এখানে প্রতিটি ঋণ নিজের বর্তমান পেমেন্টে আলাদাভাবে শোধ হচ্ছে ধরা হয়েছে। নতুন ঋণের ফি ঋণের সঙ্গে যোগ হয়ে একই সুদে চলছে ধরা হয়েছে। একটি ঋণ শোধ হওয়ার পর মুক্ত হওয়া টাকা অন্য ঋণে যাচ্ছে না, সেটি দেখতে ঋণ পরিশোধ ক্যালকুলেটর ব্যবহার করুন।
এই টুলের ফল ধারণা পাওয়ার জন্য। ঋণ নেওয়ার আগে ব্যাংক বা প্রতিষ্ঠানের চূড়ান্ত শর্ত, ফি ও সুদের হার নিজে যাচাই করুন, প্রয়োজনে আর্থিক উপদেষ্টার সঙ্গে কথা বলুন।