দাখিল জিপিএ ক্যালকুলেটর

মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের দাখিল পরীক্ষার জিপিএ হিসাব করুন। গ্রুপ বেছে গ্রেড দিন, ৪র্থ বিষয়সহ ফল দেখুন।

তথ্য দিন

প্রতিটি বিষয়ে আপনার প্রাপ্ত গ্রেড বেছে নিন। নম্বর জানা থাকলে নিচের নম্বর–গ্রেড সারণি থেকে গ্রেড দেখে নিন।

ঐচ্ছিক (৪র্থ) বিষয়

৪র্থ বিষয়ের পয়েন্ট ২.০০-এর বেশি হলে বাড়তি অংশ মোট পয়েন্টে যোগ হয়। যেমন A+ হলে ৩.০০ যোগ হয়।

আপনার দাখিল জিপিএ (৫.০০ স্কেলে)
০.০০
আবশ্যিক বিষয়
আবশ্যিক বিষয়ের মোট পয়েন্ট
৪র্থ বিষয় থেকে যোগ
৪র্থ বিষয় ছাড়া জিপিএ
জিপিএ গ্রেড
ফলাফল

বিষয়ওয়ারি গ্রেড ও পয়েন্ট

বিষয়গ্রেডপয়েন্ট

দাখিল জিপিএ কী ও কীভাবে হিসাব হয়

দাখিল হলো বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত পরীক্ষা, যা এসএসসির সমমান। ফল প্রকাশ হয় ৫.০০ স্কেলের জিপিএ দিয়ে। কুরআন মাজীদ, হাদীস, আরবি ও ফিকহের মতো ধর্মীয় বিষয়ের পাশাপাশি বাংলা, ইংরেজি, গণিত ও ICT-ও আবশ্যিক। প্রতিটি বিষয়ের নম্বর থেকে গ্রেড ও পয়েন্ট ঠিক হয়, এরপর আবশ্যিক বিষয়ের পয়েন্ট ও ৪র্থ বিষয়ের বাড়তি অংশ যোগ করে বিষয়সংখ্যা দিয়ে ভাগ করলে জিপিএ পাওয়া যায়।

নম্বর, গ্রেড ও পয়েন্ট সারণি

নম্বরলেটার গ্রেডগ্রেড পয়েন্টমান
৮০–১০০A+৫.০০অসাধারণ
৭০–৭৯A৪.০০খুব ভালো
৬০–৬৯A-৩.৫০ভালো
৫০–৫৯B৩.০০সন্তোষজনক
৪০–৪৯C২.০০গড়
৩৩–৩৯D১.০০পাস
০–৩২F০.০০অকৃতকার্য

প্রতিটি বিষয়ে পাস নম্বর ন্যূনতম ৩৩। ব্যবহারিক পরীক্ষা থাকা বিষয়ে তত্ত্বীয় ও ব্যবহারিক দুই অংশেই আলাদা করে পাস করতে হয়।

জিপিএ হিসাবের সূত্র

  1. আবশ্যিক বিষয়গুলোর গ্রেড পয়েন্ট যোগ করুন।
  2. ৪র্থ বিষয়ের পয়েন্ট থেকে ২.০০ বাদ দিন। ফল ঋণাত্মক বা শূন্য হলে কিছুই যোগ হবে না।
  3. দুটি যোগফল মিলিয়ে মোট পয়েন্ট বের করুন।
  4. মোট পয়েন্টকে আবশ্যিক বিষয়ের সংখ্যা দিয়ে ভাগ করুন। ভাগফল ৫.০০-এর বেশি হলেও জিপিএ ৫.০০।

জিপিএ = (আবশ্যিক বিষয়ের পয়েন্টের যোগফল + ৪র্থ বিষয়ের পয়েন্ট − ২.০০) ÷ আবশ্যিক বিষয়ের সংখ্যা

৪র্থ বিষয় ছাড়া জিপিএ চাইলে শুধু আবশ্যিক বিষয়ের যোগফলকে বিষয়সংখ্যা দিয়ে ভাগ করুন। আলিম বা কলেজে ভর্তির কিছু ক্ষেত্রে এই হিসাবও লাগে।

৪র্থ বিষয় কীভাবে কাজ করে?

৪র্থ বিষয়ের গ্রেডপয়েন্টবাদ ২.০০ করার পরমোটে যোগ হবে
A+৫.০০৩.০০৩.০০
A৪.০০২.০০২.০০
A-৩.৫০১.৫০১.৫০
B৩.০০১.০০১.০০
C২.০০০.০০০.০০
D১.০০−১.০০০.০০
F০.০০−২.০০০.০০

এর মানে ৪র্থ বিষয় কখনো জিপিএ কমায় না। আবশ্যিক বিষয়ে F হলে ফল অকৃতকার্য হয়, কিন্তু ৪র্থ বিষয়ে F হলে শুধু বাড়তি পয়েন্টটুকু পাওয়া যায় না।

বিভাগ অনুযায়ী বিষয়

বিভাগসবার জন্য আবশ্যিক (৮টি)বিভাগ-সংশ্লিষ্ট বিষয়৪র্থ বিষয়ের উদাহরণ
সাধারণকুরআন মাজীদ ও তাজবীদ, হাদীস শরীফ, আরবি, ফিকহ ও আকাইদ, বাংলা, ইংরেজি, গণিত, ICTইসলামের ইতিহাস, বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়কৃষিশিক্ষা, গার্হস্থ্য বিজ্ঞান
বিজ্ঞানএকই ৮টি বিষয়পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, জীববিজ্ঞানউচ্চতর গণিত, কৃষিশিক্ষা

মাদ্রাসা, বোর্ড ও শিক্ষাবর্ষভেদে বিষয়ের সংমিশ্রণ আলাদা হতে পারে। তাই নিজের রেজিস্ট্রেশন কার্ড বা মার্কশিটে যে বিষয়গুলো আছে, ক্যালকুলেটরে সেগুলোর গ্রেডই বসান।

প্রচলিত বিষয় কোড

বিষয়কোড
কুরআন মাজীদ ও তাজবীদ১০১
হাদীস শরীফ১০২
আরবি (১ম ও ২য় পত্র)১০৩
ফিকহ ও আকাইদ১০৪
বাংলা১০৫
ইংরেজি১০৬
গণিত১০৭
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (ICT)১০৮
ইসলামের ইতিহাস১০৯
বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়১১০

কোড বোর্ড বা সালভেদে বদলাতে পারে। নিশ্চিত হতে নিজের রেজিস্ট্রেশন কার্ড বা বোর্ডের বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।

উদাহরণসহ হিসাব

উদাহরণ ১: ৪র্থ বিষয়ে A পেলে

সাধারণ বিভাগের দশটি বিষয়ে গ্রেড A+, A, A+, A, A-, A+, A+, A, A+, A হলে পয়েন্ট ৫.০০, ৪.০০, ৫.০০, ৪.০০, ৩.৫০, ৫.০০, ৫.০০, ৪.০০, ৫.০০, ৪.০০ এবং যোগফল ৪৪.৫০। ৪র্থ বিষয়ে A (৪.০০) পেলে ২.০০ যোগ হয়। জিপিএ = (৪৪.৫০ + ২.০০) ÷ ১০ = ৪.৬৫। ৪র্থ বিষয় ছাড়া জিপিএ হতো ৪৪.৫০ ÷ ১০ = ৪.৪৫।

উদাহরণ ২: সব বিষয়ে A+ হলে

দশ বিষয়ে A+ হলে যোগফল ৫০.০০। ৪র্থ বিষয়েও A+ পেলে ৩.০০ যোগ হয়ে মোট ৫৩.০০। ৫৩.০০ ÷ ১০ = ৫.৩০ আসে, কিন্তু জিপিএ সর্বোচ্চ ৫.০০ ধরা হয়, এটিই গোল্ডেন A+।

উদাহরণ ৩: ৪র্থ বিষয়ে F হলে

দশ বিষয়ের পয়েন্ট ৪.০০, ৪.০০, ৩.৫০, ৪.০০, ৩.৫০, ৪.০০, ৩.৫০, ৩.০০, ৪.০০, ৩.৫০ হলে যোগফল ৩৭.০০। ৪র্থ বিষয়ে F পেলে কিছু যোগ হয় না, আবার জিপিএও কমে না। জিপিএ = ৩৭.০০ ÷ ১০ = ৩.৭০।

উদাহরণ ৪: আবশ্যিক বিষয়ে F হলে

আবশ্যিক বিষয়ের যেকোনো একটিতে ৩৩-এর কম নম্বর পেলে বাকি সব বিষয়ে ভালো করলেও ফল অকৃতকার্য এবং জিপিএ ০.০০ ধরা হয়।

গোল্ডেন A+ ও সাধারণ ৫.০০ জিপিএ

সব বিষয়ে A+ পেয়ে জিপিএ ৫.০০ হলে তাকে সাধারণভাবে গোল্ডেন A+ বলা হয়। আবার কোনো বিষয়ে A বা A- থাকলেও ৪র্থ বিষয়ের বাড়তি পয়েন্টে মোট জিপিএ ৫.০০-তে পৌঁছাতে পারে। সেটি জিপিএ ৫.০০ হলেও গোল্ডেন A+ নয়। ক্যালকুলেটরের ফলাফলে এই পার্থক্য আলাদা করে দেখানো হয়।

কীভাবে ব্যবহার করবেন

  1. উপরে আপনার বিভাগ (সাধারণ বা বিজ্ঞান) বেছে নিন। বিষয়ের নাম নিজে বদলে যাবে।
  2. প্রতিটি আবশ্যিক বিষয়ে আপনার প্রাপ্ত গ্রেড বেছে নিন। নম্বর জানা থাকলে উপরের সারণি থেকে গ্রেড দেখে নিন।
  3. ৪র্থ বিষয় থাকলে বিষয় ও গ্রেড বেছে নিন, না থাকলে “৪র্থ বিষয় নেই” রাখুন।
  4. জিপিএ, ৪র্থ বিষয় ছাড়া জিপিএ ও গ্রেড এবং নিচে বিষয়ওয়ারি পয়েন্ট নিজে থেকেই দেখা যাবে।

জিপিএ অনুযায়ী পরবর্তী ধাপ

জিপিএসাধারণ ধারণা
৫.০০নামী আলিয়া মাদ্রাসা ও কলেজে ভর্তি এবং বৃত্তিতে সবচেয়ে এগিয়ে থাকেন
৪.০০–৪.৯৯অধিকাংশ ভালো মাদ্রাসা ও কলেজে পছন্দের বিভাগে ভর্তির সুযোগ থাকে
৩.৫০–৩.৯৯আলিম, কলেজ ও পলিটেকনিকে ভর্তির সুযোগ থাকে
৩.০০–৩.৪৯বিভিন্ন মাদ্রাসা, কলেজ ও কারিগরি প্রতিষ্ঠানে আবেদনের সুযোগ থাকে
৩.০০-এর নিচেকারিগরি ও দক্ষতাভিত্তিক কোর্সসহ বিভিন্ন পথ খোলা থাকে

দাখিলের পর আলিম বা সাধারণ কলেজ—দুই পথেই ভর্তির সুযোগ থাকে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের শর্ত আলাদা এবং প্রতি বছর বদলায়। বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তির জন্য অনেক জায়গায় গণিত ও বিজ্ঞান বিষয়ে আলাদা গ্রেডও চাওয়া হয়। তাই এটিকে শুধু মোটামুটি ধারণা হিসেবে নিন এবং ভর্তি-বিজ্ঞপ্তি মিলিয়ে নিন।

জিপিএ বাড়ানোর কৌশল

যে বিষয়ে নম্বর গ্রেডের সীমার ঠিক নিচে থাকে, সেখানে অল্প কয়েক নম্বর বাড়ালে গ্রেড ও পয়েন্ট বদলে জিপিএ বাড়ে। যেমন ৬৯ থেকে ৭০ হলে A- থেকে A হয়। এই টুলে বিভিন্ন গ্রেড বসিয়ে দেখুন কোন বিষয়ে এক ধাপ উন্নতি হলে জিপিএ কতটা বাড়ে।

জিপিএ হিসাবের সাধারণ ভুল

দাখিলের ফলাফল দেখার উপায়

  1. অনলাইনে educationboardresults.gov.bd সাইটে গিয়ে পরীক্ষা হিসেবে দাখিল ও মাদ্রাসা বোর্ড বেছে নিন, তারপর সাল, রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিন।
  2. এসএমএসে ১৬২২২ নম্বরে বোর্ডের নির্ধারিত ফরম্যাটে পাঠাতে পারেন। ফরম্যাট প্রতি বছর বোর্ডের বিজ্ঞপ্তিতে দেখে নিন।
  3. অফিসিয়াল মার্কশিট নিজের মাদ্রাসা থেকে সংগ্রহ করুন।

বাংলাদেশ ও কলকাতা-পশ্চিমবঙ্গের ব্যবহারকারীদের জন্য

বাংলাদেশের দাখিল পরীক্ষার জন্য এই হিসাব প্রযোজ্য। কলকাতা বা পশ্চিমবঙ্গের মাদ্রাসা শিক্ষা পর্ষদের ফলাফল সাধারণত নম্বর বা শতাংশে দেওয়া হয়, তাই সেখানকার শিক্ষার্থীরা আনুমানিক তুলনার জন্য প্রতিটি বিষয়ের শতাংশ দেখে নম্বর–গ্রেড সারণি অনুযায়ী গ্রেড বেছে নিতে পারেন।

এই টুলের ফলাফল ধারণা পাওয়ার জন্য। গ্রেড-সীমা ও নিয়ম বোর্ড ও সালভেদে বদলাতে পারে, তাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে নিজের বোর্ডের মার্কশিট ও সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি মিলিয়ে নিন।

সচরাচর জিজ্ঞাসা

দাখিল জিপিএ কীভাবে হিসাব করা হয়?
আবশ্যিক বিষয়গুলোর গ্রেড পয়েন্ট যোগ করুন, ৪র্থ বিষয়ের পয়েন্ট থেকে ২.০০ বাদ দিয়ে (ঋণাত্মক হলে ০) যোগ করুন, তারপর মোট পয়েন্টকে আবশ্যিক বিষয়ের সংখ্যা দিয়ে ভাগ করুন। জিপিএ ৫.০০-এর বেশি হয় না।
দাখিলে ৪র্থ বিষয় কীভাবে ধরা হয়?
৪র্থ বিষয়ে ২.০০-এর বেশি যত পয়েন্ট পাবেন, শুধু সেটুকু মোট পয়েন্টে যোগ হয়। যেমন A+ (৫.০০) পেলে ৩.০০ এবং A (৪.০০) পেলে ২.০০ যোগ হয়।
৪র্থ বিষয়ে কম নম্বর বা F পেলে জিপিএ কি কমে?
না। ৪র্থ বিষয়ে পয়েন্ট ২.০০ বা তার কম হলে কিছু যোগ হয় না, কিন্তু জিপিএ কমেও না। তাই ৪র্থ বিষয় জিপিএ শুধু বাড়াতে পারে।
কোনো আবশ্যিক বিষয়ে ফেল করলে জিপিএ কত হবে?
আবশ্যিক বিষয়ের কোনোটিতে ৩৩-এর কম নম্বর (গ্রেড F) পেলে ফল অকৃতকার্য ধরা হয় এবং জিপিএ ০.০০ দেখানো হয়।
নম্বর জানা থাকলে গ্রেড কীভাবে বুঝব?
নম্বর–গ্রেড সারণি দেখুন। যেমন ৮০ বা বেশি হলে A+, ৭০–৭৯ হলে A, ৬০–৬৯ হলে A-, ৫০–৫৯ হলে B, ৪০–৪৯ হলে C এবং ৩৩–৩৯ হলে D। আরবি ও বাংলায় দুই পত্র থাকলে দুই পত্র মিলিয়ে ১০০-র হিসাবে নম্বর ধরুন।
দাখিলে কয়টি বিষয় ধরে জিপিএ হয়?
এই টুলে সাধারণ বিভাগে ১০টি ও বিজ্ঞান বিভাগে ১১টি আবশ্যিক বিষয় ধরা হয়েছে, সঙ্গে একটি ঐচ্ছিক (৪র্থ) বিষয়। আপনার মার্কশিটে বিষয়সংখ্যা আলাদা হলে বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী মিলিয়ে নিন।
৪র্থ বিষয় ছাড়া জিপিএ কীভাবে জানব?
৪র্থ বিষয়ের ঘরে “৪র্থ বিষয় নেই” বেছে নিন। ফলাফলের “৪র্থ বিষয় ছাড়া জিপিএ” ঘরে শুধু আবশ্যিক বিষয়ের গড় দেখা যাবে।
গোল্ডেন A+ বলতে কী বোঝায়?
সব বিষয়ে A+ (৮০ বা তার বেশি নম্বর) পেয়ে জিপিএ ৫.০০ হলে তাকে সাধারণভাবে গোল্ডেন A+ বলা হয়। ৪র্থ বিষয়ের পয়েন্টে জিপিএ ৫.০০ হলেও সব বিষয়ে A+ না থাকলে তা গোল্ডেন নয়।
জিপিএ কি ৫.০০-এর বেশি হতে পারে?
না। ৪র্থ বিষয়ের বাড়তি পয়েন্ট যোগ করার পর মোট পয়েন্ট ÷ বিষয়সংখ্যা যদি ৫.০০-এর বেশি আসে, তবুও জিপিএ ৫.০০ ধরা হয়।
এই টুলের ফল কি অফিসিয়াল?
না, এটি ধারণা পাওয়ার জন্য। চূড়ান্ত ও অফিসিয়াল ফল মাদ্রাসা বোর্ডের মার্কশিট ও ফলাফল ওয়েবসাইটে দেখুন। টুলটি সম্পূর্ণ ফ্রি।