চক্রবৃদ্ধি সুদ কী?
চক্রবৃদ্ধি সুদে আগের সুদও আসলের সঙ্গে যোগ হয়ে নতুন সুদ উৎপন্ন করে। সময় যত বাড়ে, সুদের ওপর সুদ জমে বৃদ্ধি তত দ্রুত হয়। তাই দীর্ঘ মেয়াদে নিয়মিত জমা ও ধৈর্য রাখাই সম্পদ গড়ার সবচেয়ে সহজ উপায়। এই টুলে প্রাথমিক জমার সঙ্গে প্রতি মাসের অতিরিক্ত জমাও ধরা যায়।
হিসাবের সূত্র
- এককালীন জমার ভবিষ্যৎ মূল্য = P × (১ + r ÷ k)k × বছর, যেখানে r বার্ষিক হার ও k বছরে কতবার চক্রবৃদ্ধি হয়।
- মাসিক জমার ক্ষেত্রে প্রতি মাসের জমাও সেই মাস থেকে সুদ পেতে শুরু করে।
- কার্যকর বার্ষিক হার = (১ + r ÷ k)k − ১।
উদাহরণ
৳ ১,০০,০০০ দিয়ে শুরু করে প্রতি মাসের শেষে ৳ ৫,০০০ জমা দিলে ৮% বার্ষিক হারে ও মাসিক চক্রবৃদ্ধিতে ১০ বছর পর মোট অর্থ দাঁড়ায় প্রায় ৳ ১১,৩৬,৬৯৪। মোট জমা ৳ ৭,০০,০০০ এবং সুদ প্রায় ৳ ৪,৩৬,৬৯৪। হারটি শুধু নমুনা।
কীভাবে ব্যবহার করবেন
- প্রাথমিক জমা ও মাসিক জমা লিখুন। শুধু একটির হিসাব করতে অন্যটি শূন্য রাখুন।
- বার্ষিক হার ও বছর দিন।
- চক্রবৃদ্ধির ঘনত্ব বাছুন, ব্যাংক যেভাবে সুদ দেয় সেভাবে।
- প্রতি বছর মাসিক জমা বাড়ালে অ্যাডভান্সড সেটিংসে বাড়ার হার দিন।
সময়ের শক্তি
একই মাসিক জমা হলে ১০ বছরের চেয়ে ২০ বছরে সুদ অনেক বেশি হয়, কারণ সুদের ওপর সুদের ভাগ বাড়ে। বিনিয়োগ যত আগে শুরু করবেন, লাভ তত বেশি। নিজের সংখ্যা বদলে মেয়াদ ১০, ২০ ও ৩০ বছর করে দেখুন।
মনে রাখার বিষয়
- শেয়ার বা মিউচুয়াল ফান্ডের রিটার্ন নিশ্চিত নয়, এখানে একটি গড় ধরে নেওয়া হয়েছে।
- সুদের ওপর কর ও মূল্যস্ফীতি বাদ দিলে প্রকৃত লাভ কম হয়।
- ব্যাংকের হার ঘোষণা করা হয় সাধারণত নামমাত্র হারে, কার্যকর হার তার চেয়ে সামান্য বেশি।
সাধারণ ভুল
- মাসিক হারকে বার্ষিক হার ভেবে বসানো।
- সরল সুদ ও চক্রবৃদ্ধির পার্থক্য না বোঝা।
- অনিশ্চিত বিনিয়োগে খুব বেশি রিটার্ন ধরে পরিকল্পনা করা।
বাংলাদেশ ও কলকাতা-পশ্চিমবঙ্গের ব্যবহারকারীদের জন্য
দুই দেশেই ব্যাংক এফডি, ডিপিএস বা সঞ্চয়পত্রের সুদ কেমন চক্রবৃদ্ধি হয় তা নিজের ব্যাংকের কাছে জেনে সেটি এখানে বাছুন। মাসিক জমার নিয়মিত বিনিয়োগের জন্য এসআইপি ক্যালকুলেটরও দেখতে পারেন।
এই টুলের ফলাফল ধারণা পাওয়ার জন্য। বাস্তব হার, কর ও নিয়ম প্রতিষ্ঠানভেদে আলাদা, তাই সিদ্ধান্তের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক, ব্রোকার বা বিশেষজ্ঞের সাথে যাচাই করুন।