অষ্টম শ্রেণি জিপিএ ক্যালকুলেটর (JSC/JDC)

অষ্টম শ্রেণির বিষয়ওয়ারি নম্বর ও পূর্ণমান দিয়ে জিপিএ ও গ্রেড জেনে নিন। (JSC/JDC পরীক্ষা এখন বন্ধ, তবে পুরোনো ফল ও স্কুলের নম্বর যাচাই করা যায়।)

তথ্য দিন

প্রতিটি বিষয়ে প্রাপ্ত নম্বর ও পূর্ণমান দিন। পূর্ণমান ১০০ না হলে (যেমন ৫০) সেটি বদলে নিন। যে বিষয় নেই, সেই ঘর ফাঁকা রাখুন।

আপনার জিপিএ (৫.০০ স্কেলে)
০.০০
গণনায় ধরা বিষয়
মোট গ্রেড পয়েন্ট
মোট নম্বর
গড় শতাংশ
জিপিএ গ্রেড
ফলাফল

বিষয়ওয়ারি গ্রেড ও পয়েন্ট

বিষয়প্রাপ্ত নম্বরশতাংশগ্রেডপয়েন্ট

JSC/JDC কী ও এখন কেন বন্ধ

জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (JSC) ও মাদ্রাসা ধারার জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (JDC) ছিল অষ্টম শ্রেণি শেষে অনুষ্ঠিত পাবলিক পরীক্ষা। JSC চালু হয় ২০১০ সালে এবং সর্বশেষ পরীক্ষা হয় ২০১৯ সালে। ২০২০ ও ২০২১ সালে করোনার কারণে হয়নি। এরপর ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে সরকার নতুন কারিকুলামে বোর্ড পরীক্ষার ব্যবস্থা না থাকায় JSC, JDC ও সমমান পরীক্ষা স্থায়ীভাবে বাতিল করে।

তাই এই ক্যালকুলেটর মূলত দুই কাজে লাগে: পুরোনো JSC/JDC ফল মিলিয়ে দেখা, এবং অষ্টম শ্রেণির স্কুল পরীক্ষার নম্বর ৫.০০ স্কেলে কেমন দাঁড়ায় তা বোঝা।

জিপিএ কীভাবে হিসাব হয়

প্রতিটি বিষয়ের প্রাপ্ত নম্বরকে পূর্ণমান দিয়ে ভাগ করে শতাংশ বের করা হয়, তারপর শতাংশ থেকে গ্রেড ও পয়েন্ট ঠিক হয়। সব বিষয়ের পয়েন্ট যোগ করে বিষয়সংখ্যা দিয়ে ভাগ করলে জিপিএ পাওয়া যায়। সর্বোচ্চ জিপিএ ৫.০০।

জিপিএ = সব বিষয়ের গ্রেড পয়েন্টের যোগফল ÷ বিষয়সংখ্যা

নম্বর, গ্রেড ও পয়েন্ট সারণি

শতাংশলেটার গ্রেডগ্রেড পয়েন্টমান
৮০–১০০A+৫.০০অসাধারণ
৭০–৭৯A৪.০০খুব ভালো
৬০–৬৯A-৩.৫০ভালো
৫০–৫৯B৩.০০সন্তোষজনক
৪০–৪৯C২.০০গড়
৩৩–৩৯D১.০০পাস
০–৩২F০.০০অকৃতকার্য

কোনো বিষয়ে ৩৩%-এর কম পেলে ওই বিষয়ে F হয় এবং সামগ্রিক ফল অকৃতকার্য ধরা হয়।

পূর্ণমান ১০০ না হলে

সব বিষয়ের পূর্ণমান সবসময় ১০০ থাকে না। যেমন ICT বা ব্যবহারিক-নির্ভর বিষয়ে ৫০ থাকতে পারে। এই টুলে প্রতিটি বিষয়ের পাশে পূর্ণমানের ঘর আছে, ফলে ৫০-এর মধ্যে ৪৫ পেলে টুল ৪৫ ÷ ৫০ = ৯০% ধরে A+ দেয়।

উদাহরণসহ হিসাব

উদাহরণ ১: ছয় বিষয়

বাংলা ৮৫, ইংরেজি ৭৮, গণিত ৯২, বিজ্ঞান ৮০, ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা ৮৮ (সবই ১০০-র মধ্যে) এবং ICT ৪৫ (৫০-এর মধ্যে) হলে গ্রেড পয়েন্ট ৫.০০, ৪.০০, ৫.০০, ৫.০০, ৫.০০, ৫.০০। যোগফল ২৯.০০। জিপিএ = ২৯.০০ ÷ ৬ = ৪.৮৩।

উদাহরণ ২: মাঝারি ফল

ছয় বিষয়ে ৯০, ৮০, ৭০, ৬০, ৫০, ৪০ পেলে পয়েন্ট ৫.০০, ৫.০০, ৪.০০, ৩.৫০, ৩.০০, ২.০০। যোগফল ২২.৫০। জিপিএ = ২২.৫০ ÷ ৬ = ৩.৭৫।

উদাহরণ ৩: ৫০ পূর্ণমানের বিষয়

৫০-এর মধ্যে ৩৮ পেলে ৩৮ ÷ ৫০ = ৭৬%, গ্রেড A (৪.০০)।

উদাহরণ ৪: কোনো বিষয়ে F হলে

একটি বিষয়ে ৩৩%-এর কম পেলে অন্য সব বিষয়ে A+ হলেও ফল অকৃতকার্য এবং জিপিএ ০.০০ ধরা হয়।

কীভাবে ব্যবহার করবেন

  1. প্রতিটি বিষয়ের প্রাপ্ত নম্বর লিখুন।
  2. বিষয়ের পূর্ণমান ১০০ না হলে পাশের “পূর্ণমান” ঘরে আসল মান দিন।
  3. অতিরিক্ত বিষয় থাকলে ঐচ্ছিক ঘর দুটি পূরণ করুন, না থাকলে ফাঁকা রাখুন।
  4. ডানে জিপিএ, মোট নম্বর ও গড় শতাংশ এবং নিচে বিষয়ওয়ারি গ্রেড দেখুন।

জিপিএ বাড়ানোর কৌশল

যে বিষয়ে শতাংশ গ্রেডের সীমার ঠিক নিচে থাকে, সেখানে কয়েক নম্বর বাড়ালে গ্রেড বদলে জিপিএ বাড়ে। যেমন ৬৯% থেকে ৭০% হলে A- থেকে A হয়।

সাধারণ ভুল

পরবর্তী ধাপের জন্য এসএসসি জিপিএ ক্যালকুলেটর দেখতে পারেন।

বাংলাদেশ ও কলকাতা-পশ্চিমবঙ্গের ব্যবহারকারীদের জন্য

এই হিসাব বাংলাদেশের ৫.০০ স্কেলের গ্রেডিং অনুযায়ী। কলকাতা বা পশ্চিমবঙ্গে অষ্টম শ্রেণির ফল সাধারণত শতাংশ বা নম্বরে হয়, তাই সেখানকার শিক্ষার্থীরা আনুমানিক তুলনার জন্য নম্বর ও পূর্ণমান বসাতে পারেন।

এই টুলের ফলাফল ধারণা পাওয়ার জন্য। গ্রেড-সীমা ও নিয়ম বোর্ড ও সালভেদে বদলাতে পারে, তাই চূড়ান্ত তথ্যের জন্য নিজের মার্কশিট ও সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি মিলিয়ে নিন।

সচরাচর জিজ্ঞাসা

জেএসসি/জেডিসি জিপিএ কীভাবে হিসাব করা হয়?
প্রতিটি বিষয়ের নম্বরকে শতাংশে এনে গ্রেড ও পয়েন্ট বের করা হয়। এরপর সব বিষয়ের পয়েন্ট যোগ করে বিষয়সংখ্যা দিয়ে ভাগ করলে জিপিএ পাওয়া যায়। সর্বোচ্চ জিপিএ ৫.০০।
জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষা কি এখন হয়?
না। এই পরীক্ষা ২০১০ সালে চালু হয় এবং সর্বশেষ ২০১৯ সালে অনুষ্ঠিত হয়। করোনার কারণে পরের কয়েক বছর হয়নি, এরপর ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে সরকার নতুন কারিকুলামে এই পরীক্ষা স্থায়ীভাবে বাতিল করে।
তাহলে এই ক্যালকুলেটর কার কাজে লাগবে?
যাঁদের পুরোনো জেএসসি/জেডিসি ফল বা সনদ আছে, তাঁরা জিপিএ মিলিয়ে দেখতে পারেন। এছাড়া অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা স্কুলের পরীক্ষার নম্বর ৫.০০ স্কেলে কেমন দাঁড়ায় তা বোঝার জন্য ব্যবহার করতে পারেন।
বিষয়ের পূর্ণমান ১০০ না হলে কী করব?
প্রতিটি বিষয়ের পাশে “পূর্ণমান” ঘর আছে। সেখানে আসল পূর্ণমান (যেমন ৫০ বা ৭৫) দিন। টুল নিজেই নম্বরকে শতাংশে এনে গ্রেড ঠিক করবে।
গ্রেড সারণি কী?
৮০–১০০% এ A+ (৫.০০), ৭০–৭৯% এ A (৪.০০), ৬০–৬৯% এ A- (৩.৫০), ৫০–৫৯% এ B (৩.০০), ৪০–৪৯% এ C (২.০০), ৩৩–৩৯% এ D (১.০০) এবং ৩৩%-এর নিচে F (০.০০)।
কোনো বিষয়ে ফেল করলে জিপিএ কত হবে?
কোনো বিষয়ে ৩৩%-এর কম (গ্রেড F) পেলে ফল অকৃতকার্য ধরা হয় এবং জিপিএ ০.০০ দেখানো হয়।
কয়টি বিষয় ধরে জিপিএ হয়?
টুলে ছয়টি মূল ঘর এবং দুটি ঐচ্ছিক ঘর আছে। যে ঘরে নম্বর দেবেন শুধু সেগুলোর গড় ধরা হয়। আপনার মার্কশিটে যতটি বিষয় ছিল ততটির ঘর পূরণ করুন।
পুরোনো জেএসসি ফল কোথায় দেখব?
আপনার মার্কশিট বা সনদে ফল দেওয়া থাকে। পুরোনো ফলাফল সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডেও সংরক্ষিত থাকে, তাই সেখান থেকে যাচাই করুন।
এই টুলের ফল কি অফিসিয়াল?
না, এটি ধারণা পাওয়ার জন্য। অফিসিয়াল ফল আপনার মার্কশিট, সনদ ও শিক্ষা বোর্ডের তথ্যে দেখুন। টুলটি সম্পূর্ণ ফ্রি।