টার্গেট সিজিপিএ ক্যালকুলেটর কী?
অনেক শিক্ষার্থীর প্রশ্ন থাকে: "আমার এখন সিজিপিএ ৩.৪২। ডিগ্রি শেষ করার সময় ৩.৬০ পেতে হলে বাকি কোর্সগুলোতে গড়ে কত জিপিএ লাগবে?" এই ক্যালকুলেটর সেই প্রশ্নের উত্তর দেয়। বর্তমান সিজিপিএ, সম্পন্ন ও বাকি ক্রেডিট এবং কাঙ্ক্ষিত সিজিপিএ দিলেই টুল বলে দেয় বাকি ক্রেডিটে গড়ে কত জিপিএ প্রয়োজন, আর লক্ষ্যটি আদৌ সম্ভব কি না। লক্ষ্য অসম্ভব হলে সর্বোচ্চ কত সিজিপিএ পাওয়া যাবে তাও দেখায়।
হিসাবের সূত্র
সিজিপিএ হলো ক্রেডিট অনুযায়ী ভারযুক্ত গড়। তাই:
- মোট ক্রেডিট = সম্পন্ন ক্রেডিট + বাকি ক্রেডিট।
- প্রয়োজনীয় জিপিএ = (টার্গেট × মোট ক্রেডিট − বর্তমান সিজিপিএ × সম্পন্ন ক্রেডিট) ÷ বাকি ক্রেডিট।
- সর্বোচ্চ সম্ভাব্য সিজিপিএ = (বর্তমান সিজিপিএ × সম্পন্ন ক্রেডিট + স্কেলের সর্বোচ্চ মান × বাকি ক্রেডিট) ÷ মোট ক্রেডিট।
- প্রয়োজনীয় জিপিএ স্কেলের সর্বোচ্চ মানের চেয়ে বেশি হলে লক্ষ্যটি অসম্ভব।
উদাহরণ
বর্তমান সিজিপিএ ৩.৪২, সম্পন্ন ক্রেডিট ৯০ ও বাকি ক্রেডিট ৩০ হলে মোট ক্রেডিট ১২০। টার্গেট ৩.৬০ হলে প্রয়োজনীয় জিপিএ = (৩.৬০ × ১২০ − ৩.৪২ × ৯০) ÷ ৩০ = ১২৪.২ ÷ ৩০ = ৪.১৪, যা ৪.০০ স্কেলে অসম্ভব। বাকি সব কোর্সে ৪.০০ পেলেও সর্বোচ্চ সিজিপিএ হবে ৩.৫৬৫, অর্থাৎ দুই দশমিক স্থানে প্রায় ৩.৫৭। কিন্তু টার্গেট ৩.৫০ হলে প্রয়োজনীয় জিপিএ ৩.৭৪, যা সম্ভব।
কীভাবে ব্যবহার করবেন
- গ্রেডিং স্কেল বাছুন: ৪.০০, ৫.০০ বা ১০.০০।
- বর্তমান সিজিপিএ এবং এ পর্যন্ত সম্পন্ন ক্রেডিট লিখুন। সিজিপিএ কত তা না জানলে অনার্স বা ডিগ্রি সিজিপিএ ক্যালকুলেটরে হিসাব করে নিন।
- ডিগ্রি শেষ করতে আর কত ক্রেডিট বাকি তা দিন।
- কাঙ্ক্ষিত টার্গেট লিখুন বা দ্রুত টার্গেটের বোতাম চাপুন।
- ডানে প্রয়োজনীয় গড় জিপিএ ও সম্ভাব্যতা এবং নিচে হিসাবের ধাপ ও বিভিন্ন জিপিএর ফল দেখুন।
ফলাফল কীভাবে পড়বেন?
- প্রয়োজনীয় জিপিএ স্কেলের মধ্যে হলে: লক্ষ্য সম্ভব। কত কঠিন তা বোঝার জন্য মানটি আপনার সাম্প্রতিক সেমিস্টারের জিপিএর সঙ্গে মিলিয়ে দেখুন।
- প্রয়োজনীয় জিপিএ স্কেলের চেয়ে বেশি হলে: লক্ষ্য অসম্ভব। সর্বোচ্চ সম্ভাব্য সিজিপিএ দেখে নতুন বাস্তবসম্মত লক্ষ্য ঠিক করুন।
- প্রয়োজনীয় জিপিএ শূন্য বা তার কম হলে: আপনার লক্ষ্য ইতোমধ্যে নিশ্চিত, বাকি কোর্সে কম পেলেও সিজিপিএ লক্ষ্যের নিচে নামবে না।
সিজিপিএ বাড়ানোর টিপস
- বেশি ক্রেডিটের কোর্সে ভালো করার চেষ্টা করুন, কারণ সিজিপিএতে ক্রেডিটের ওজন বেশি।
- বিশ্ববিদ্যালয়ে রিটেক বা ইমপ্রুভমেন্টের সুযোগ থাকলে তার নিয়ম জেনে নিন। এই টুল রিটেকে আগের গ্রেড প্রতিস্থাপনের হিসাব করে না।
- প্রতি সেমিস্টারের শুরুতে লক্ষ্য ঠিক করে নিয়মিত পড়াশোনা করুন।
- কোন কোর্সে কম সময়ে বেশি উন্নতি সম্ভব তা শিক্ষকের সঙ্গে আলোচনা করুন।
সাধারণ ভুল
- সেমিস্টারের সংখ্যা ধরে হিসাব করা। সিজিপিএ ক্রেডিট ধরে হয়, সেমিস্টার ধরে নয়।
- ফেল করা বা অসম্পূর্ণ কোর্সের ক্রেডিট ভুলভাবে ধরা। বিশ্ববিদ্যালয় যেভাবে গণনা করে সেভাবে ধরুন।
- ৪.০০ স্কেলের টার্গেট ১০.০০ স্কেলে বসিয়ে ফেলা। প্রথমে স্কেল ঠিক করুন।
বাংলাদেশ ও কলকাতা-পশ্চিমবঙ্গের ব্যবহারকারীদের জন্য
বাংলাদেশের অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে সিজিপিএ ৪.০০ স্কেলে হিসাব হয়, আর স্কুল-কলেজ বোর্ডে (এসএসসি, এইচএসসি) জিপিএ ৫.০০ স্কেলে। কলকাতা ও পশ্চিমবঙ্গের অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্রেডিটভিত্তিক ১০ পয়েন্ট সিজিপিএ চলে। তাই স্কেল ঘরে নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কেল বাছুন। ক্রেডিটের হিসাব ও জিপিএ রূপান্তরের নিয়ম বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে আলাদা হতে পারে।
সতর্কতা: এই টুল সাধারণ ক্রেডিট-ভারযুক্ত গড়ের সূত্রে হিসাব করে। আপনার বিশ্ববিদ্যালয় রিটেক, অসম্পূর্ণ কোর্স বা নন-ক্রেডিট কোর্স আলাদাভাবে ধরলে ফল সামান্য বদলাতে পারে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের অফিসের তথ্য দেখে নিন।