বিজনেস কার্ড মেকার কী?
এই টুলে আপনার নাম, পদবি, ফোন, ইমেইল, ব্যবসার নাম, ঠিকানা ও লোগো দিলে সঙ্গে সঙ্গে একটি পেশাদার ভিজিটিং কার্ডের প্রিভিউ তৈরি হয়। পাঁচটি ডিজাইন থেকে বেছে নিতে পারেন এবং কার্ডে ইংরেজি বা বাংলা লেবেল ও পছন্দের রং ব্যবহার করা যায়। কার্ডে একটি কিউআর কোড থাকে, যা ক্রেতার ফোনে স্ক্যান করলে আপনার নম্বর, নাম ও ইমেইল সরাসরি কন্টাক্টে সেভ হয়ে যায়। শেষে এক ক্লিকে A4 কাগজে ১০টি কার্ডের শিট প্রিন্ট বা PDF করা যায়।
পাঁচটি ডিজাইন
- কর্পোরেট: বাংলাদেশের ব্যবসায়ী কার্ডে বহুল প্রচলিত ধাঁচ। বামে বৃত্তাকার লোগো, ডানে নাম ও পদবি, নিচে বড় অক্ষরে ব্যবসার নাম, ঠিকানা, ফোন, ইমেইল, ওয়েবসাইট, ডানে কিউআর কোড এবং একেবারে নিচে সেবার তালিকা ও ট্যাগলাইনের রঙিন ব্যান্ড।
- ক্লাসিক: ওপরে রঙিন ফিতা, বামে নাম, ডানে ব্যবসার নাম, নিচে আইকনসহ যোগাযোগের তথ্য।
- স্প্লিট: বামে রঙিন প্যানেলে লোগো ও ব্যবসার নাম, ডানে ব্যক্তিগত তথ্য।
- ব্যান্ড: ওপরে চওড়া রঙিন ব্যান্ডে লোগো ও ব্যবসার নাম।
- সেন্টার্ড: সব তথ্য মাঝ বরাবর সাজানো পরিচ্ছন্ন ডিজাইন।
কীভাবে ব্যবহার করবেন
- ডিজাইন, কার্ডের ভাষা ও রং বাছুন।
- আপনার ও ব্যবসার তথ্য লিখুন। ঘর খালি রাখলে সেই লাইন কার্ডে আসবে না।
- লোগো থাকলে আপলোড করুন। স্বচ্ছ পটভূমির (PNG) লোগো সবচেয়ে ভালো দেখায়।
- কিউআর কোডে কী থাকবে তা ঠিক করুন।
- প্রিভিউ দেখে "১০টি কার্ডের শিট প্রিন্ট করুন" চাপুন।
কিউআর কোডের ধরন
- কন্টাক্ট সেভ (vCard): স্ক্যান করলে নাম, ফোন, ইমেইল ও ওয়েবসাইট ফোনে সেভ করার অপশন আসে। তথ্য কম থাকায় কোড সরল ও সহজে স্ক্যানযোগ্য।
- ঠিকানা ও পদবিসহ: তথ্য বেশি, তাই কোড ঘন হয়। ছোট মাপে স্ক্যান করা কঠিন হতে পারে, ছাপার পর অবশ্যই নিজের ফোনে পরীক্ষা করুন।
- ওয়েবসাইট লিংক: স্ক্যান করলে আপনার ওয়েবসাইট বা ফেসবুক পেজ খুলবে।
- হোয়াটসঅ্যাপ লিংক: স্ক্যান করলে আপনার নম্বরে হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট খুলবে। নম্বরটি দেশের কোডসহ লিখলে লিংক নির্ভুল হয়।
প্রিন্টের টিপস
- ভিজিটিং কার্ডের সবচেয়ে প্রচলিত মাপ ৩.৫ × ২ ইঞ্চি (প্রায় ৮৯ × ৫১ মিমি)। শিটে ২ কলামে ৫ সারিতে ১০টি কার্ড বসে।
- কাগজ সাধারণত ২৫০ থেকে ৩৫০ জিএসএম পুরু হলে কার্ড শক্ত ও পেশাদার লাগে।
- প্রিন্ট ডায়ালগে স্কেল ১০০% রাখুন, নইলে কার্ডের মাপ বদলে যাবে। "Background graphics" চালু না করলে রঙিন অংশ ছাপা হবে না।
- শিটে হালকা ধূসর কাটার দাগ আছে। স্কেল ও কাটার ছুরি দিয়ে সেই দাগ ধরে কাটুন।
- ছোট প্রেসে দিলে PDF সেভ করে নিয়ে যান। প্রেস সাধারণত নিজের নিয়মে মার্জিন ও ব্লিড ঠিক করে।
- বড় অঙ্কে ছাপানোর আগে একটি কার্ড প্রিন্ট করে বানান, রং ও কিউআর কোড পরীক্ষা করুন।
লোগো ও রং বাছাইয়ের পরামর্শ
লোগো ছবি হিসেবে ৩০০ পিক্সেলের বেশি চওড়া হলে পরিষ্কার ছাপা হয়। গাঢ় রং (নীল, সবুজ, গাঢ় লাল) সাদা লেখার সঙ্গে ভালো মানায়। খুব হালকা রং বেছে নিলে ব্যান্ড বা প্যানেলের সাদা লেখা পড়া কঠিন হবে। নিজের রং বাছতে রঙের ঘরের পাশের কালার বক্স ব্যবহার করুন।
গোপনীয়তা
এই টুল পুরোপুরি আপনার ব্রাউজারে চলে। আপনার নাম, ফোন, ইমেইল বা লোগো কোনো সার্ভারে যায় না। পরের বার খুললে সুবিধার জন্য তথ্য এই ব্রাউজারে সংরক্ষিত থাকে। "সব রিসেট" চাপলে মুছে যায়।
সাধারণ ভুল
- খুব বেশি তথ্য ঠেসে দেওয়া। কার্ড ছোট, তাই দরকারি তথ্যই রাখুন।
- ফোন নম্বরে একটি অঙ্কও ভুল হওয়া। ছাপার আগে আবার দেখে নিন।
- কিউআর কোড স্ক্যান করে না দেখেই ছাপানো।
- প্রিন্টে স্কেল ১০০% না রাখা।
বাংলাদেশ ও কলকাতা-পশ্চিমবঙ্গের ব্যবহারকারীদের জন্য
কার্ডে ইংরেজি বা বাংলা লেবেল বেছে নেওয়া যায়, আর আপনার লেখা নাম, পদবি ও ঠিকানা আপনি যে ভাষায় লিখবেন সেভাবেই আসবে। বাংলা লেখাও কার্ডে ও কিউআর কোডে কাজ করে। বাংলাদেশে মোবাইল নম্বর সাধারণত ০১ দিয়ে শুরু হয় এবং ভারতে ১০ অঙ্কের। হোয়াটসঅ্যাপ লিংকের জন্য দেশের কোডসহ (যেমন ৮৮০... বা ৯১...) লিখলে সবচেয়ে নির্ভুল হয়। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ০ দিয়ে শুরু ১১ অঙ্কের নম্বর হলে টুল নিজে ৮৮ যোগ করে নেয়।
এই টুল দিয়ে তৈরি কার্ডের ফল আপনার প্রিন্টার, কাগজ ও ব্রাউজার সেটিংসের ওপর কিছুটা নির্ভর করে। বড় আকারে ছাপার আগে নমুনা প্রিন্ট দেখে নিন।