ইট হিসাব করা কেন জরুরি?
ইট কিনতে গেলে সাধারণত হাজার হিসেবে কেনা হয়। কম কিনলে মাঝপথে কাজ থেমে যায় আর বেশি কিনলে টাকা আটকে থাকে। দেয়ালের মাপ, পুরুত্ব ও ইটের আকার ধরে আগে থেকে হিসাব করলে বাজেট ও কাজের গতি দুটোই ঠিক থাকে। এই টুল শুধু ইটের সংখ্যা ও দাম বের করে। সিমেন্ট আর বালুর হিসাব লাগলে ইট-সিমেন্ট-বালু ক্যালকুলেটর দেখুন।
হিসাব যেভাবে হয়
- দেয়ালের ক্ষেত্রফল = দৈর্ঘ্য × উচ্চতা − দরজা-জানালার ফাঁকা অংশ।
- গাঁথুনির আয়তন = ক্ষেত্রফল × পুরুত্ব ÷ ১২ (ঘনফুট)।
- একটি ইটের জায়গা = (দৈর্ঘ্য + মশলা) × (প্রস্থ + মশলা) × (উচ্চতা + মশলা) ÷ ১৭২৮।
- ইটের সংখ্যা = আয়তন ÷ এক ইটের জায়গা, তার সঙ্গে অপচয় যোগ।
উদাহরণ
৪০ ফুট লম্বা ও ১০ ফুট উঁচু ৫ ইঞ্চি দেয়ালে ইট ৯.৫ × ৪.৫ × ২.৭৫ ইঞ্চি, মশলা আধা ইঞ্চি ও অপচয় ৫% ধরলে ইট লাগে প্রায় ১,৮৬১ টি। হাজারপ্রতি ৳ ১২,০০০ হলে ইটের দাম প্রায় ৳ ২২,৩৩২। একই দেয়াল ১০ ইঞ্চি করলে ইট প্রায় দ্বিগুণ লাগে। দাম শুধু নমুনা।
কীভাবে ব্যবহার করবেন
- দেয়ালের মোট দৈর্ঘ্য ও উচ্চতা দিন এবং ফুট বা মিটার বাছুন। কয়েকটি দেয়াল থাকলে দৈর্ঘ্য যোগ করে বসান।
- ৫, ১০ বা ১৫ ইঞ্চি পুরুত্ব বাছুন।
- ইটের আকার বাছুন বা কাস্টম মাপ অ্যাডভান্সড সেটিংসে দিন।
- প্রতি হাজার ইটের দাম দিন। ডানে ইটের সংখ্যা, হাজার ও দাম এবং নিচে পুরুত্বভেদে তুলনা দেখুন।
ইট কেনার সময় যা দেখবেন
- ইটের আসল মাপ নিজে মেপে নিন, কারণ ভাটাভেদে সামান্য তফাত থাকে।
- আগে ২০টি ইট ভেঙে দেখুন কতগুলো ভাঙা বা কাঁচা, তারপর অপচয়ের হার ঠিক করুন।
- ইটের রং সমান, আঘাতে ধাতব শব্দ এবং পানি কম শোষে এমন ইট ভালো।
- দরজা-জানালার ফাঁকা অংশ বাদ দিলে ইটের সংখ্যা কমে।
সাধারণ ভুল
- দেয়ালের ক্ষেত্রফলে পুরুত্বের কথা ভুলে যাওয়া।
- মশলার পুরুত্ব না ধরা, ফলে ইট কম পড়ে।
- ইটের দাম হাজার হিসাবে আর পরিমাণ টি হিসাবে গুলিয়ে ফেলা।
বাংলাদেশ ও কলকাতা-পশ্চিমবঙ্গের ব্যবহারকারীদের জন্য
দুই জায়গাতেই ইট হাজার হিসেবে বিক্রি হয় এবং ফুট-ইঞ্চি মাপ চলে। তবে স্থানীয় ইটের আকার আলাদা হতে পারে, তাই নিজের ইটের মাপ মেপে কাস্টম ঘরে বসান। মিটারে মাপলে "মিটার" বেছে নিন। দাম টাকা বা রুপি যাই হোক, শুধু অঙ্কটি বসিয়ে হিসাব করা যাবে।
এই টুলের ফলাফল ধারণা পাওয়ার জন্য। বাস্তব হার, কর ও নিয়ম প্রতিষ্ঠানভেদে আলাদা, তাই সিদ্ধান্তের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক, ব্রোকার বা বিশেষজ্ঞের সাথে যাচাই করুন।