বোনাস শেয়ার বা স্টক ডিভিডেন্ড হলো কোম্পানির জমা মুনাফা থেকে শেয়ারহোল্ডারদের বিনামূল্যে দেওয়া নতুন শেয়ার। বাংলাদেশে ১০% বোনাস মানে প্রতি ১০০টি শেয়ারে ১০টি নতুন শেয়ার। কোম্পানি চাইলে ক্যাশ ডিভিডেন্ড ও বোনাস একসাথে দিতে পারে।
বোনাসে শেয়ার সংখ্যা বাড়ে, কিন্তু রেকর্ড তারিখের পর দাম সমান অনুপাতে কমে, ফলে আপনার মোট মূল্য তাত্ত্বিকভাবে একই থাকে। ১০% বোনাসে দাম ১১০ ভাগের ১০০ ভাগ হয়ে যায়। লাভ আসে যদি কোম্পানির মুনাফা ও ভবিষ্যৎ ডিভিডেন্ড ভালো থাকে, কারণ বেশি শেয়ারে বেশি ডিভিডেন্ড মেলে।
- বোনাস শেয়ার = আপনার শেয়ার × বোনাস শতাংশ ÷ ১০০ (পূর্ণসংখ্যা অংশ)
- বোনাসের পর তাত্ত্বিক দাম = বোনাসের আগের দাম ÷ (১ + বোনাস শতাংশ ÷ ১০০)
- ক্যাশ ডিভিডেন্ড = শেয়ার × ফেস ভ্যালু × ক্যাশ শতাংশ ÷ ১০০
- নতুন গড় ক্রয়মূল্য = মোট ক্রয়খরচ ÷ বোনাসের পর মোট শেয়ার
৫০০টি শেয়ার, ১০% বোনাস ও ৫% ক্যাশ ডিভিডেন্ড, ফেস ভ্যালু ১০ টাকা, দাম ১০০ টাকা, গড় ক্রয়মূল্য ৯০ টাকা। বোনাস শেয়ার ৫০টি, মোট ৫৫০টি। তাত্ত্বিক দাম ১০০ ÷ ১.১ = প্রায় ৯০.৯১ টাকা। ক্যাশ ডিভিডেন্ড ৫০০ × ১০ × ৫% = ২৫০ টাকা, ১৫% কর বাদে নিট ২১২.৫০ টাকা। নতুন গড় ক্রয়মূল্য ৪৫,০০০ ÷ ৫৫০ = প্রায় ৮১.৮২ টাকা।
- আপনার শেয়ার সংখ্যা ও কোম্পানির ঘোষিত বোনাস ও ক্যাশ শতাংশ দিন।
- রেকর্ড তারিখের আগের বাজার দাম ও গড় ক্রয়মূল্য দিন।
- অ্যাডভান্সড সেটিংসে ফেস ভ্যালু ও কর কর্তনের হার ঠিক করুন।
- ডানে নতুন শেয়ার সংখ্যা, তাত্ত্বিক দাম ও নিট ক্যাশ দেখুন।
- রেকর্ড তারিখে শেয়ার আপনার বিও অ্যাকাউন্টে থাকতে হয়, নইলে ডিভিডেন্ড মেলে না। সেটেলমেন্ট চক্রের কারণে রেকর্ড তারিখের কয়েক কর্মদিবস আগে কিনে রাখতে হয়।
- বোনাস শেয়ার অনুমোদন সাপেক্ষে হয়, যেমন বিএসইসির অনুমোদন বা এজিএমের সিদ্ধান্ত। ঘোষণার পরও তা বাতিল বা দেরি হতে পারে।
- বোনাস শেয়ারের ভগ্নাংশ থাকলে কোম্পানির নিয়ম অনুযায়ী আলাদাভাবে মেটানো হয়।
- ক্যাশ ডিভিডেন্ডে কর কর্তনের হার ও ছাড়ের সীমা সরকার বদলাতে পারে।
শেয়ারবাজার ও মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগে ঝুঁকি আছে। এই টুলের ফল ধারণা পাওয়ার জন্য, বিনিয়োগ পরামর্শ নয়। সিদ্ধান্তের আগে কোম্পানির ঘোষণা, ব্রোকার বা যোগ্য উপদেষ্টার সঙ্গে যাচাই করুন।