বিএমআই (BMI) কী?
বিএমআই মানে বডি মাস ইনডেক্স। উচ্চতার তুলনায় আপনার ওজন কতটা, তা এক সংখ্যায় দেখায়। এটি শরীরের ওজন স্বাভাবিক, কম না বেশি, সেই প্রাথমিক ধারণা পেতে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত পদ্ধতি।
বিএমআই-এর হিসাব
সূত্র: বিএমআই = ওজন (কেজি) ÷ উচ্চতা (মিটার)²। পাউন্ড ও ইঞ্চিতে হিসাব করলে বিএমআই = ৭০৩ × ওজন (পাউন্ড) ÷ উচ্চতা (ইঞ্চি)² সূত্র লাগে।
উদাহরণ
উচ্চতা ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি (প্রায় ১৬৭.৬ সেমি) ও ওজন ৬৫ কেজি হলে বিএমআই প্রায় ২৩.১। আবার ১৭০ সেমি উচ্চতায় ৮০ কেজি ওজনে বিএমআই প্রায় ২৭.৭, যা WHO মানদণ্ডে অতিরিক্ত ওজনের ঘরে পড়ে। ১৭০ সেমি উচ্চতার জন্য আদর্শ ওজনের সীমা প্রায় ৫৩.৫ থেকে ৭২.০ কেজি।
কীভাবে ব্যবহার করবেন
- উপরের ট্যাব থেকে আপনার পছন্দের একক (ফুট-ইঞ্চি, সেমি বা পাউন্ড) বাছুন।
- লিঙ্গ, বয়স, উচ্চতা ও ওজন দিন।
- ফলে বিএমআই, ক্যাটাগরি, আদর্শ ওজন ও দৈনিক ক্যালোরি দেখুন।
দক্ষিণ এশীয়দের জন্য আলাদা মানদণ্ড কেন?
গবেষণায় দেখা গেছে, দক্ষিণ এশীয়দের শরীরে একই বিএমআইতে চর্বির পরিমাণ তুলনামূলক বেশি থাকে এবং কম বিএমআইতেই ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে। তাই WHO-র ২০০৪ সালের বিশেষজ্ঞ পর্যালোচনায় এশীয়দের জন্য ২৩ থেকে ঝুঁকি বাড়তে শুরু করে বলা হয়েছে। ভারতসহ অনেক দেশের নির্দেশিকায় ২৩ থেকে ২৪.৯ কে অতিরিক্ত ওজন এবং ২৫ বা তার বেশিকে স্থূলতা ধরা হয়। নির্দেশিকা দেশভেদে কিছুটা আলাদা, তাই নিজের চিকিৎসকের কথা মেনে চলুন।
দৈনিক ক্যালোরি চাহিদা
টুলটি মিফলিন-সেন্ট জিওর সূত্রে বিএমআর হিসাব করে, তারপর সক্রিয়তার গুণক (১.২ থেকে ১.৯) দিয়ে গুণ করে দৈনিক চাহিদা বের করে। এই পরিমাণ খেলে ওজন প্রায় একই থাকার কথা। ওজন কমাতে বা বাড়াতে চাইলে এর চেয়ে কম বা বেশি খেতে হয়, তবে নিজের মতো বড় পরিবর্তনের আগে পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিন।
বিএমআই-এর সীমাবদ্ধতা
- বিএমআই শরীরে চর্বি ও পেশির পার্থক্য আলাদা করে না, তাই পেশিবহুল ক্রীড়াবিদের ফল বেশি দেখাতে পারে।
- গর্ভবতী নারী ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে এই মান নির্ভরযোগ্য নয়।
- কোমরের মাপ, রক্তের পরীক্ষা ও পারিবারিক ইতিহাসও স্বাস্থ্যঝুঁকি বোঝার জন্য জরুরি।
- ১৮ বছরের কমে বয়স ও লিঙ্গ অনুযায়ী আলাদা চার্ট লাগে।
দ্রুত টিপস
- সকালে খালি পেটে একই স্কেলে ওজন মাপুন।
- সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট হালকা থেকে মাঝারি ব্যায়াম করুন।
- চিনি ও ভাজাপোড়া কমিয়ে শাকসবজি, ডাল ও ফল বাড়ান।
- ওজন হঠাৎ বেড়ে বা কমে গেলে চিকিৎসকের কাছে যান।
বাংলাদেশ ও কলকাতা-পশ্চিমবঙ্গের ব্যবহারকারীদের জন্য
ফুট-ইঞ্চি ও কেজি বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গে সবচেয়ে প্রচলিত একক, তাই এই টুলে প্রথম ট্যাবেই সেটি রাখা হয়েছে। চাইলে সেমি বা পাউন্ডেও হিসাব করা যায়। দুই অঞ্চলের বাঙালির জন্য দক্ষিণ এশীয় মানদণ্ডও পাশাপাশি দেখানো হয়।
এই টুলের ফলাফল ধারণার জন্য, কোনো রোগ নির্ণয় বা চিকিৎসা পরামর্শ নয়। ওজন, খাদ্যাভ্যাস বা স্বাস্থ্য নিয়ে সিদ্ধান্তের আগে নিবন্ধিত চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের সাথে কথা বলুন।