এফডিআর (ফিক্সড ডিপোজিট) কী
ফিক্সড ডিপোজিট রিসিপ্ট (এফডিআর) বা ফিক্সড ডিপোজিটে আপনি নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য ব্যাংকে টাকা জমা রাখেন এবং মেয়াদ শেষে আসল ও সুদ ফেরত পান। সুদের হার সাধারণত সঞ্চয়ী হিসাবের চেয়ে বেশি থাকে, কিন্তু মেয়াদের আগে ভাঙলে সুদ কমে যেতে পারে। তাই কত দিনের জন্য টাকা না লাগবে তা ঠিক করে ব্যাংক ও মেয়াদ বাছা জরুরি।
সুদের হারের পরিসর মানে কী
এই তালিকার অনেক ব্যাংকের হার একটি সংখ্যা (যেমন ৮.৫০%), আবার অনেকের পরিসরে (যেমন ৫.০০ থেকে ৯.০০%)। পরিসর থাকলে জমার পরিমাণ, স্কিম, শাখা বা গ্রাহকের ধরন অনুযায়ী আপনার হার ঠিক হতে পারে। সর্বোচ্চ হারকে সবার জন্য নিশ্চিত ধরা ঠিক নয়। তাই এই পেজে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন দুই হারেই প্রাপ্তি দেখানো হয়।
এফডিআরের সুদ কীভাবে হিসাব করবেন
সুদ = জমার পরিমাণ × বার্ষিক সুদের হার ÷ ১০০ × মেয়াদ (বছরে)
উদাহরণ ১: ১২ মাসে ১০% হারে
৫,০০,০০০ টাকা ১২ মাস ১০% হারে রাখলে সুদ = ৫,০০,০০০ × ১০ ÷ ১০০ × ১ = ৫০,০০০ টাকা। মেয়াদ শেষে মোট ৫,৫০,০০০ টাকা।
উদাহরণ ২: ২৪ মাসে ৯% হারে
৫,০০,০০০ টাকা ২৪ মাস ৯% হারে রাখলে সুদ = ৫,০০,০০০ × ৯ ÷ ১০০ × ২ = ৯০,০০০ টাকা। মেয়াদ শেষে মোট ৫,৯০,০০০ টাকা।
এটি সরল হিসাব। ব্যাংকভেদে সুদ মাসিক, ত্রৈমাসিক বা মেয়াদ শেষে দেওয়া হয়, আর উৎসে কর ও আবগারি শুল্ক বাদ যায়, তাই প্রাপ্তি কিছুটা কম হতে পারে। বিস্তারিত হিসাবের জন্য আমাদের এফডি ক্যালকুলেটর দেখুন।
সেরা এফডিআর কীভাবে বাছবেন
- মেয়াদ আগে ঠিক করুন: কত দিন টাকা না লাগবে তা ধরে সেই মেয়াদের হার তুলনা করুন।
- সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ দুটোই দেখুন: পরিসর থাকলে বেশি হার নির্দিষ্ট শর্তে হতে পারে।
- ব্যাংকের নিরাপত্তা: ব্যাংকের আর্থিক অবস্থা ও সুনাম দেখুন, শুধু বেশি হারে প্রলুব্ধ হবেন না।
- ভাঙার নিয়ম: মেয়াদের আগে ভাঙলে কত সুদ কাটা যায় তা জেনে নিন।
- সুদ পাওয়ার ধরন: মাসিক সুদ নাকি মেয়াদ শেষে, আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী বাছুন।
- আমানত ভাগ করা: বড় অঙ্ক একটি ব্যাংকে না রেখে ভাগ করে রাখলে ঝুঁকি কমে।
এফডিআর ল্যাডার কৌশল
পুরো টাকা একই মেয়াদে না রেখে ভিন্ন মেয়াদে ভাগ করে রাখাকে ল্যাডার বলা হয়। যেমন টাকার একটি অংশ ৬ মাসে, একটি ১ বছরে ও একটি ২ বছরে রাখলে নির্দিষ্ট বিরতিতে টাকা হাতে আসে এবং প্রয়োজনে একটি ভাঙলেই চলে। ফলে সব টাকা ভাঙতে হয় না।
কীভাবে ব্যবহার করবেন
- উপরে ব্যাংক বাছুন। না বাছলে নির্বাচিত মেয়াদে সবচেয়ে বেশি হারের ব্যাংক ধরা হবে।
- জমার পরিমাণ ও মেয়াদ (মাসে) লিখুন। মেয়াদ বদলালে নিচের টেবিলের মেয়াদ কলাম নিজে বদলে যাবে।
- ডানে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন হারে সুদ ও মেয়াদ শেষে মোট দেখুন।
- নিচের টেবিলে নাম লিখে সার্চ করুন বা হারের ক্রমে সাজিয়ে ব্যাংক তুলনা করুন।
তথ্যের উৎস ও হালনাগাদ
এই তালিকা আমাদের সংগৃহীত ডেটা থেকে দেখানো হয়। ব্যাংকগুলো সময় সময় হার বদলায় এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী নিয়মও পাল্টাতে পারে। জমা দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বা শাখা থেকে সর্বশেষ হার, শর্ত ও কর নিশ্চিত করুন।
বাংলাদেশ ও কলকাতা-পশ্চিমবঙ্গের ব্যবহারকারীদের জন্য
এই তালিকা বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোর জন্য। কলকাতা বা পশ্চিমবঙ্গসহ ভারতের ব্যাংকের এফডির হার, কর ও নিয়ম আলাদা, তাই এই হার সরাসরি ধরবেন না। তবে সুদ হিসাবের সূত্র ও ক্যালকুলেটর যেকোনো হারের জন্য ব্যবহার করা যায়।
এই টুলের ফলাফল ধারণা পাওয়ার জন্য। বাস্তব হার, কর ও নিয়ম ব্যাংকভেদে আলাদা, তাই সিদ্ধান্তের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা বিশেষজ্ঞের সঙ্গে যাচাই করুন।